টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ মিস এড়ানোর লড়াইয়ে ইতালি
এক সময় বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি ইতালি জাতীয় ফুটবল দল এখন যেন নিজেদের হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে। টানা দুই বিশ্বকাপে অনুপস্থিতির বেদনাকে পেছনে ফেলে ১২ বছরের অপেক্ষা ঘোচাতে এবার প্লে-অফের কঠিন পরীক্ষায় নামছে আজ্জুরিরা।
বৃহস্পতিবার বার্গামোতে সেমিফাইনালে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মুখোমুখি হবে ইতালি। লক্ষ্য একটাই, টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ মিস করার লজ্জা এড়ানো। ম্যাচটি তাই স্বাভাবিকভাবেই হতে যাচ্ছে উত্তেজনায় ভরপুর।
কোচ জেনারো গাত্তুসো দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরিয়েছেন দলে। তার অধীনে ইতালি ‘গ্রুপ আই’-এ দ্বিতীয় হয়ে প্লে-অফে জায়গা করে নেয়। এর আগে কোচ লুচিয়ানো স্পালেত্তিকে বরখাস্ত করার পর দলটি ছিল অনিশ্চয়তায় ঘেরা।
তবে বাস্তবতা এখনো কঠিন। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নরওয়ের কাছে দুটি বড় ব্যবধানে হার ইতালির পতনের চিত্রটাই স্পষ্ট করে দিয়েছে। অথচ ২০ বছর আগে বিশ্বকাপ জয়ের সময় মাঝমাঠে ছিলেন এই গাত্তুসোই।
তারপর থেকে বিশ্বকাপে ইতালির গল্প শুধুই হতাশার। ২০১০ ও ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়, আর ২০১৮ (রাশিয়া) ও ২০২২ (কাতার), দুই আসরেই মূল পর্বে উঠতেই ব্যর্থ আজ্জুরিরা। এই ব্যর্থতাগুলোর বেশিরভাগই এসেছে প্লে-অফে হারের মাধ্যমে, যা ইতালিয়ান ফুটবলের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
এদিকে ইউরোপের অন্য শক্তি ফ্রান্স ও স্পেন যেখানে সাফল্যের ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে ইতালি যেন পিছিয়েই পড়ছে। এমনকি চলতি মৌসুমে ক্লাব ফুটবলে হতাশাজনক পারফরম্যান্স পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
গাত্তুসো অবশ্য আশাবাদী, 'পুরো মন থেকে চাই আমরা এই লক্ষ্য অর্জন করি। এই দলটি সেটা প্রাপ্য।'
তবে তিনি খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।
তবে চ্যালেঞ্জ শুধু মানসিক নয়, দলে রয়েছে ইনজুরির বড় ধাক্কাও। মিডফিল্ডার সান্দ্রো টোনালি ইনজুরিতে ভুগছেন, তার খেলা এখনো অনিশ্চিত। এছাড়া স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন ফেদেরিকো কিয়েসা।
আক্রমণভাগে জিয়ানলুকা স্কামাক্কা এবং রক্ষণে আলেসান্দ্রো বাস্তোনি ও জিয়ানলুকা মানচিনি চোট থেকে ফেরার লড়াইয়ে আছেন। অন্যদিকে রিক্কার্দো কালাফিওরিও কিছুটা অস্বস্তিতে ভুগছেন। যদি সেমিফাইনাল পেরোতে পারে, তবে ফাইনালে ইতালির প্রতিপক্ষ হবে ওয়েলস অথবা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।