ইউরোপের মাটিতে জামাল-হামজাদের প্রথম মিশন
ফিফা প্রীতি ম্যাচে আজ রাতে স্বাগতিক সান মারিনোর মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। ইউরোপের মাটিতে কোনো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে এটিই লাল-সবুজদের প্রথম ম্যাচ।
বাংলাদেশ সময় রাত ১১:০০ টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটি ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় ঘটনা, যেখানে বাংলাদেশ কোনো ইউরোপীয় দলের সঙ্গে লড়াইয়ে নামবে। এর আগে ২০০১ সালে ভারতের সাহারা কাপে ইউরোপের দলের সঙ্গে শেষবার খেলেছিল বাংলাদেশ। সেবার এফআর যুগোস্লাভিয়ার কাছে ৪-১ এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরেছিল দল।
আজকের ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য নতুন এক অধ্যায়ের শুরু। নতুন প্রধান কোচ থমাস ডুলির অধীনে এটিই জাতীয় দলের প্রথম অফিশিয়াল ম্যাচ। স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরার বিদায়ের পর দায়িত্ব নেওয়া এই মার্কিন-জার্মান কোচ দল নিয়ে খুব বেশি সময় পাননি। সান মারিনোয় সংক্ষিপ্ত ক্যাম্পের আগে শিষ্যদের সঙ্গে মাত্র চারটি অনুশীলন সেশন করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
র্যাংকিং ও মাঠের বাস্তবতা
কাগজে-কলমে পরিসংখ্যান বলছে ম্যাচে বাংলাদেশই ফেবারিট। ফিফা র্যাংকিংয়ের সবার নিচে ২১১ নম্বরে আছে সান মারিনো—যা বাংলাদেশের চেয়ে ৩০ ধাপ পিছিয়ে। তবে মাঠের বাস্তব চিত্রটা একেবারেই আলাদা।
সান মারিনো সহজে ম্যাচ না জিতলেও, তারা বছরজুড়ে ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলে অভ্যস্ত। তাদের সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচগুলোর স্কোরলাইন দেখলেই সেই লড়াইয়ের মানসিকতা বোঝা যায়। যেখানে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে তারা হেরেছে মাত্র ১-০ ব্যবধানে, অস্ট্রিয়া ও সাইপ্রাসের কাছে ৪-০ এবং রোমানিয়ার বিপক্ষে হেরেছে ৭-১ ব্যবধানে।
২০২৭ এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচটি তাই বেশ কঠিন এক পরীক্ষা। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষও ভালো করেই জানেন, কাজটা মোটেও সহজ নয়।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) পাঠানো এক অডিও বার্তায় বিশ্বনাথ বলেন, ‘ফিফা র্যাংকিংয়ের দিকে না তাকিয়ে আমাদের মূল মনোযোগ দিতে হবে পারফরম্যান্সের ওপর।’
বসুন্ধরা কিংসের এই ফুল-ব্যাক আরও বলেন, ‘আমরা বুধবার প্রথম একসঙ্গে অনুশীলন করেছি। সেশনগুলো ভালো ছিল এবং আমরা উপভোগ করছি। আমরা তাঁর (কোচ) ফরমেশন ও দর্শনকে আয়ত্ত করার চেষ্টা করছি। দেখা যাক আমরা কেমন খেলি।’
সহকারী কোচ হাসান আল মামুন জানান, বল পজিশন ধরে রাখা, নিখুঁত পাসিং আর প্রেসিংয়ের মতো ‘সহজ ও গোছানো ফুটবল’-এর দিকে দলকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই ম্যাচটি একটি বড় পরীক্ষা।
সান মারিনোর বিপক্ষে এই ৯০ মিনিটের লড়াইয়েই মূলত পরিষ্কার হবে, নতুন রূপের বাংলাদেশ দল কোন পথে এগোচ্ছে।