আবার ইতালির ডাগআউটে মানচিনি?
পাঁচ বছর আগে তার হাত ধরেই ইউরোপের সেরা হয়েছিল ইতালি। কিন্তু সেই সাফল্যের আড়ালেই ছিল বিশ্বকাপে না উঠতে পারার হতাশা, আকস্মিক পদত্যাগ এবং জাতীয় দলের সঙ্গে এক অস্বস্তিকর বিচ্ছেদ। প্রায় তিন বছর পর আবারও সেই রবার্তো মানচিনির নাম ঘুরে ফিরে আসছে আজ্জুরিদের ডাগআউটে।
তবে সম্ভাব্য এই প্রত্যাবর্তন যেমন আশার আলো দেখাচ্ছে, তেমনি নতুন করে উসকে দিচ্ছে এক পুরোনো প্রশ্ন, ইতালি কি সত্যিই ভবিষ্যতের দিকে তাকাচ্ছে, নাকি আবার অতীতের কাছেই ফিরে যাচ্ছে?
কাতারের ক্লাব আল-সাদের দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকেই ইতালির জাতীয় দলের কোচ হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন মানচিনি। বিভিন্ন ইতালীয় গণমাধ্যম এবং ট্রান্সফার বিশেষজ্ঞ ফ্যাব্রিজিও রোমানোর তথ্য অনুযায়ী, ২২ জুন ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষে নতুন কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হলে মানচিনিই হতে পারেন প্রধান পছন্দ।
মাত্র আট মাস আল-সাদের দায়িত্বে ছিলেন ৬১ বছর বয়সী এই কোচ। তবে সেই স্বল্প সময়েই ক্লাবটিকে কাতার লিগের শিরোপা এনে দেন তিনি। দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তাও প্রকাশ করেছেন মানচিনি। এরপরই তার ইতালিতে ফেরার জল্পনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইতালির দায়িত্বে ছিলেন মানচিনি। তার অধীনেই ২০২১ সালে (ইউরো ২০২০) ইউরোপসেরা হয়েছিল আজ্জুরিরা। কিন্তু একই সময়ে ২০২২ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হওয়ায় তার সময়কালকে অনেকেই মিশ্র সাফল্যের অধ্যায় হিসেবে দেখেন। পরিস্থিতি আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে ২০২৩ সালের আগস্টে, যখন তিনি হঠাৎ করেই ইতালির দায়িত্ব ছেড়ে দেন এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সৌদি আরব জাতীয় দলের কোচ হিসেবে যোগ দেন।
এ কারণেই তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ইতালিয়ান ফুটবল অঙ্গনে বিভক্ত প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। সমর্থক, বিশ্লেষক এমনকি দেশটির সাবেক তারকারাও একমত হতে পারছেন না। একদল মনে করে, ইতালিকে সর্বশেষ বড় শিরোপা এনে দেওয়া কোচই বর্তমান সংকট থেকে দলকে বের করে আনতে পারেন। অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশ্ন, যিনি বিশ্বকাপে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং মাঝপথে দায়িত্ব ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, তার হাতেই আবার ভবিষ্যৎ তুলে দেওয়া কতটা যৌক্তিক?
এদিকে শোনা যাচ্ছে, এফআইজিসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অন্যতম ফেভারিট জিওভান্নি মালাগোর সঙ্গে মানচিনির সম্পর্ক বেশ ভালো। ফলে নির্বাচন শেষে নতুন কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে এই সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।