ফুটবলারদের ‘খ্যাপ’ খেলা নিয়ে এত প্রশ্ন, কিন্তু নিয়মটা কোথায়?

shabab
সাবাব চৌধুরী

গত কয়েকদিনে ‘খ্যাপ’ ম্যাচে খেলতে নেমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন বেশ কয়েকজন জাতীয় দলের ফুটবলার। বেশিরভাগ আলোচনাই ঘুরপাক খাচ্ছে একটা জায়গায়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা প্রতিষ্ঠিত এই খেলোয়াড়রা স্থানীয় এসব ম্যাচে খেলে নিজেদের ভাবমূর্তির কতটা ক্ষতি করছেন। কিন্তু এই সমালোচনার আড়ালে চাপা পড়ে যাচ্ছে আরও একটা জরুরি প্রশ্ন, আদৌ কি এই ফুটবলাররা এমন কোনো চুক্তিগত বা আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যে আছেন, যা তাদের ‘খ্যাপ’ খেলা থেকে বিরত রাখে?

এমনকি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, যিনি নিজেও একসময় জাতীয় দলের গোলরক্ষক ছিলেন, তিনিও স্থানীয় ‘খ্যাপ’ ম্যাচে খেলা এই ফুটবলারদের পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় ম্যাচ খেলতে দেখা গেছে জাতীয় দলের খেলোয়াড় শেখ মোরসালিন, ফয়সাল আহমেদ ও রাকিব হোসেনকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে অসংখ্য রিল, কর্দমাক্ত মাঠে খেলছেন খেলোয়াড়রা, খেলা শেষে গোসল সারছেন পুকুরে। এসব রিলের কমেন্ট বক্সে বারবার একই কথা উঠে এসেছে, মানুষ এই খেলোয়াড়দের আরও বড় মঞ্চে দেখতে চায়, এমন ছোট পরিসরে নয়।

সোমবার রাতে কালশীতে একটি ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমিনুল বলেন, ‘আমার প্রশ্ন সেই খেলোয়াড়দের কাছে, একই সঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কাছেও বিষয়টি তুলব। পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সরকার তাদের প্রতি মাসে ভাতা দিচ্ছে। তাহলে সেই খেলোয়াড়দের ‘‘খ্যাপ’’ ম্যাচে গিয়ে খেলাটা কতটা যুক্তিসঙ্গত?’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার যে অভাবের কথা আমি আগে বলেছিলাম, নিজেদের প্রতিও সেই একই দায়বদ্ধতার অভাব এখানে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আমরা প্রথমে তাদের সতর্ক করতে চাই। এরপর প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবব।’

প্রতিমন্ত্রীর এই সমালোচনার পেছনে যুক্তি একেবারে ফেলনা নয়। জাতীয় দলের খেলোয়াড় হয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা, তার ওপর সরকারি অর্থ পাওয়া, এসবের সঙ্গে কিছু প্রত্যাশা তো জড়িয়ে থাকেই। পেশাদার ফুটবলের তুলনায় এই ‘খ্যাপ’ ম্যাচগুলো একেবারেই ভিন্ন জগতের ব্যাপার। অনুপযুক্ত মাঠ, অপেশাদার প্রতিপক্ষ, আর পরিবেশ পেশাদার মানদণ্ড থেকে তো অনেক দূরে। কয়েক হাজার বা বড়জোর লাখ টাকার বিনিময়ে খেলতে নেমে চোট পাওয়ার ঝুঁকিও থাকে অনেক। তাই বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলা তারকারা যখন টাকার জন্য এসব ম্যাচে নামেন, সেটা ভালো চোখে না দেখাটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, শুধু ‘তারা জাতীয় দলের খেলোয়াড়, তাই পেশাদারের মতো আচরণ করা উচিত’ -এই একটা যুক্তিই কি যথেষ্ট? কারণ বাংলাদেশের ফুটবলের বাস্তবতায় এর উল্টো দিকেও একটা অস্বস্তিকর প্রশ্ন লুকিয়ে আছে, আসলে এই খেলোয়াড়রা কোন পেশাদার কাঠামোর মধ্যে বাঁধা?

‘খ্যাপ’ ম্যাচ খেলা বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বহু পুরোনো একটা চর্চা, দেশের ক্রীড়া ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে। সম্ভবত প্রতিমন্ত্রীও ঠিক এই বিষয়টাই তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সরকারের ‘ক্রীড়া হবে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ কর্মসূচির আওতায় মাসে এক লাখ টাকা করে ভাতা পাওয়া ১৮ জন পুরুষ ফুটবলারের তালিকায় এই খেলোয়াড়রাও আছেন।

অথচ এই কর্মসূচিতে কোথাও স্পষ্ট করে বলা নেই, খেলোয়াড়রা ‘খ্যাপ’ ম্যাচে খেলতে পারবেন কি না। তাহলে প্রশ্ন আসে, প্রতিমন্ত্রীর আপত্তিটা কি আসলে বিষয়টা দেখতে কেমন লাগছে, অর্থাৎ শুধু ভাবমূর্তি নিয়েই? সরকারি টাকা নিলে তার সঙ্গে কিছু দায়িত্ব ও প্রত্যাশা জড়িয়ে থাকবে, এই যুক্তি মানা যায়। কিন্তু সেই প্রত্যাশাগুলো যদি কোনো চুক্তিতেই স্পষ্ট করে লেখা না থাকে, তাহলে এমন একটা নিয়ম ভাঙার অভিযোগে খেলোয়াড়দের দোষারোপ করার ভিত্তিটা আসলে কী, যে নিয়মের অস্তিত্বই কার্যত নেই?

বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের তুলনামূলক নরম প্রতিক্রিয়াও একই ইঙ্গিত দেয়, অবসর সময়ে খেলোয়াড়রা এমন ম্যাচ খেললে তা ঠেকানোর মতো কোনো বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা ফেডারেশনের নেই। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো বিষয় আমাদের নজরে এলে আমরা গুরুত্ব দিয়েই দেখব। সত্যতা নিশ্চিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। জাতীয় দল বা ক্লাবের কোনো খেলোয়াড় অন্য কোথাও খেলছেন, এমন কোনো অভিযোগ এখনো আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ না আসা পর্যন্ত আমরা নিজে থেকে খুঁজতে যাব না, কাউকে ধরে দোষী প্রমাণ করার চেষ্টাও করব না।’

এই তিন খেলোয়াড়ের সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট দেখলে বিষয়টা আরও পরিষ্কার হয়। গত মৌসুমে রাকিব ও ফয়সাল ফাহিম খেলেছেন বাংলাদেশ ফুটবল লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের হয়ে, আর সাবেক কিংস তারকা মোরসালিন খেলেছেন আবাহনীর জার্সিতে। মে মাসে লিগ শেষ হওয়ার সময়েই এই তিনজনের নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে শেষবার মাঠে নামা হয়ে গিয়েছিল। জানা গেছে, একই সময়ে তাদের ক্লাব-চুক্তিরও মেয়াদ ফুরিয়েছে। জাতীয় দলের হয়ে তাদের শেষ ম্যাচ ছিল ৫ জুন, যেদিন বাংলাদেশ অ্যাওয়ে ম্যাচে সান মারিনোকে হারায়। রাকিব ও ফয়সাল ফাহিম সেই ম্যাচে খেলেছিলেন, চোটের কারণে মোরসালিন খেলতে পারেননি। এরপর থেকে ক্লাব কিংবা জাতীয় দল, কোনো জায়গাতেই তাদের মাঠে নামার সুযোগ হয়নি।

এদিকে দেশের সবচেয়ে সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ক্লাব হিসেবে পরিচিত বসুন্ধরা কিংসই এখন চরম অনিশ্চয়তায়। বিদেশি খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের বকেয়া না মেটানোয় ফিফা চারটি ক্লাবের নিবন্ধনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, যার মধ্যে কিংসও পড়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্লাবগুলো নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধন করতে পারছে না, আর যে দেশে প্রতি মৌসুমেই নতুন করে চুক্তি করাটা সাধারণ রীতি, সেখানে এটা রীতিমতো বড় ধাক্কা। এই অনিশ্চয়তার জেরে অনেক খেলোয়াড়ই এখন অন্য ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলেছেন। তাদের একজন ফয়সাল ফাহিম, যিনি গত মাসে যোগ দিয়েছেন মোহামেডানে।

অর্থাৎ নতুন কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা কার্যত ফ্রি এজেন্ট। পুরোনো ক্লাব তাদের ‘খ্যাপ’ খেলার অনুমতিও দেয়নি, নিষেধও করেনি। নতুন ক্লাবও এখনো তাদের এসব ম্যাচ থেকে সরিয়ে রাখেনি। বাফুফে নিজেও এ নিয়ে কোনো নীতিমালা করেনি। আর কোনো ‘খ্যাপ’ ম্যাচ খেলার জন্য তারা জাতীয় দলের ক্যাম্পও ছেড়ে যাননি। তাহলে তারা আসলে কোন নিয়মটা ভেঙেছেন? সম্ভবত শুধু একটা অলিখিত ধারণা, জাতীয় দলের একজন ফুটবলারের আচরণ কেমন হওয়া উচিত। আর সত্যিই যদি তাই হয়, তাহলে এই পুরো বিতর্কটা আসলে ভাবমূর্তি নিয়ে। আরেকটু অস্বস্তিকরভাবে বললে, এমন একটা ভাবমূর্তি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা, যা বাংলাদেশের পেশাদার ফুটবলের ভঙ্গুর বাস্তবতাকে আড়াল করে রাখে।

অনেকেই মনে করেন, এই ম্যাচগুলোতে পাওয়া পারিশ্রমিকই খেলোয়াড়দের টানে। আর এমন ম্যাচে দর্শক সমাগমও প্রায়শই বাংলাদেশ ফুটবল লিগের বেশিরভাগ ম্যাচের চেয়ে বেশি হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে খেলোয়াড়দের বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে পড়ে গেছে। অনেক খেলোয়াড় এখন যে ট্রান্সফার ফি পাচ্ছেন, তা আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।

বসুন্ধরা কিংসকে ঘিরে চলা অনিশ্চয়তা নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জাতীয় দল ও কিংসের অধিনায়ক তপু বর্মণ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গত দুই মৌসুম ধরে সব ক্লাবের ফুটবলাররাই কম পারিশ্রমিকের ধাক্কা সামলাচ্ছেন। আর কিংস যদি লিগে অংশ নিতেই না পারে, তাহলে কিংসের হয়ে খেলার কথা থাকা ৩০-৩৫ জন ফুটবলারের পরিবারের জন্য এটা বিশাল একটা ধাক্কা হবে।’ 

ট্রান্সফার মূল্য কমছে, ক্লাবগুলো আর্থিক সংকটে, কিংসের মতো ক্লাবের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, আর খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে ক্লাবে চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তাও নেই, এই বাস্তবতায় ‘খ্যাপ’ থেকে আসা টাকাকে শুধু লোভ বলে দেখাটা সহজ হয়ে ওঠে না। বরং এটা একটা অনিশ্চিত পেশায় বাড়তি আয়ের একটা উৎসও হয়ে উঠতে পারে। তার মানে এই নয় যে চোটের ঝুঁকি নেওয়াটা যুক্তিসঙ্গত হয়ে যায়, কিন্তু খেলোয়াড়দের বিচার করার আগে এই আর্থিক বাস্তবতাটা মাথায় রাখা দরকার।

এখানে একটা তীব্র বিদ্রূপও লুকিয়ে আছে। একজন জাতীয় দলের খেলোয়াড় যদি একটা স্থানীয় ‘খ্যাপ’ ম্যাচে খেলেই দেশের পেশাদার লিগের চেয়ে বেশি দর্শক টেনে আনতে পারেন, তাহলে সেটা দেশের ঘরোয়া পেশাদার লিগের আকর্ষণ আর সুস্থতা নিয়ে কী বার্তা দেয়? এখানেই এমন একটা সত্যি সামনে চলে আসে, যা মেনে নেওয়া হয়তো কঠিন, সম্ভবত পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়দের বা দর্শকদের সেখানে থেকে যাওয়ার মতো যথেষ্ট কারণ দিতে পারেনি।

এই একান্ত বাংলাদেশি সমস্যার আরও একটা দিক আছে। স্থানীয় রাজনীতিবিদ, আয়োজক বা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রায়ই খেলোয়াড়দের এসব ম্যাচে অংশ নিতে অনুরোধ করেন, আর অনেক সময় সেই অনুরোধ ফেরানোই প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। 

২০১৫ সালে প্রতিভাবান মিডফিল্ডার হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাসের সঙ্গেও এমনটাই ঘটেছিল বলে তার দাবি। স্থানীয় আয়োজকদের অনুরোধে তিনি এমন একটা ম্যাচে নেমেছিলেন, তখনো তিনি বুঝে উঠতে পারেননি এর পরিণতি কী হতে পারে। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে সেরে উঠতে হেমন্ত জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অথচ তিনিই পরে নিজের শহর দিনাজপুরে একটা স্থানীয় ম্যাচ খেলে ফেলেন। এর জেরে ফেডারেশন তাকে শাস্তি দেয়, নিষিদ্ধ করে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ঢোকা থেকে।

এই ঘটনাটাই বলে দেয়, খেলোয়াড়দের শুধু ‘পেশাদারের মতো আচরণ করো’ বলে দিলেই চলবে না। পেশাদারিত্বের সীমারেখাটা স্পষ্ট করে টেনে দিতে হবে, আর সেই সীমারেখা এমন একটা কাঠামোর ভেতরেই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, যে কাঠামো নিজেই পেশাদার। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য যদি ‘খ্যাপ’ খেলাটা অগ্রহণযোগ্য বলে ধরে নেওয়া হয়, তাহলে কর্তৃপক্ষকেই স্পষ্ট করতে হবে, কেন এটা অগ্রহণযোগ্য। নিয়মও নির্দিষ্ট করে বলে দিতে হবে, আর এমন একটা পেশাদার কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সেই নিয়মগুলো সত্যিকারের অর্থ বহন করে।

পেশাদারিত্ব বলতে যদি বোঝায় অনুপযুক্ত মাঠে না খেলা, নিজের শরীর সুরক্ষিত রাখা, ফিটনেস বজায় রাখা আর জাতীয় দলের মর্যাদাকে সম্মান জানানো, তাহলে হ্যাঁ, ‘খ্যাপ’ ম্যাচে খেলা নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু পেশাদারিত্ব বলতে যদি বোঝায় একটা চুক্তির অধীনে থাকা, নিয়মিত পারিশ্রমিক পাওয়া, একটা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কাজ করা, প্রয়োগযোগ্য কিছু বাধ্যবাধকতার আওতায় থাকা, আর একজন কর্মী হিসেবে নিজের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা, তাহলে বাংলাদেশের ফুটবলের এখনো অনেকটা পথ পাড়ি দেওয়া বাকি।

আর সম্ভবত এটাই আসল প্রশ্ন। কোনো জাতীয় দলের ফুটবলার ‘খ্যাপ’ ম্যাচ খেলেছেন কি না, সেটা মূল বিষয় নয়। আসল প্রশ্ন হলো, যে ব্যবস্থা তাকে ‘খ্যাপ’ খেলতে নিষেধ করছে, সেই ব্যবস্থা কি তাকে সেই নিরাপত্তার অনুভূতিটা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট কিছু করেছে?