হালান্ডের জোড়া গোলে পোর্তোকে হারাল ম্যানসিটি
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের নামের পাশে আরও একবার আগুন ঝরানো পারফরম্যান্স যোগ করলেন আর্লিং হালান্ড। নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকারের জোড়া গোলে পোর্তোকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ইউরোপের নতুন মৌসুমে জয় দিয়ে শুরু করেছে ম্যানচেস্টার সিটি।
নতুন কোচ এনজো মারেস্কার অধীনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে সিটি। তবে প্রথমার্ধে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি তারা। এর বড় কারণ পোর্তোর গোলরক্ষক দিয়োগো কোস্তা। প্রথম ৪৫ মিনিটেই হালান্ডকে অন্তত তিনবার দুর্দান্তভাবে আটকে দেন পর্তুগিজ এই গোলরক্ষক।
ম্যাচের শুরুতেই হালান্ডের শক্তিশালী হেড অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকান কোস্তা। এরপর আয়ুব বুয়াদ্দি ও ফিল ফোডেনের দারুণ সমন্বয়ে তৈরি আরেকটি সুযোগেও হালান্ডকে পরপর দুটি সেভে হতাশ করেন তিনি।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আর নরওয়েজিয়ান গোলমেশিনকে আটকে রাখা যায়নি। ৪৭তম মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের ক্রস থেকে নিচু হেডে বল জালে পাঠান হালান্ড। এবার কোস্তা বলের গতিপথ বুঝে ওঠার আগেই সেটি জড়িয়ে যায় জালে। সিটি পেয়ে যায় ১-০ গোলের লিড।
গোল হজমের পর অবশ্য ম্যাচের চিত্র কিছুটা বদলে যায়। পোর্তো আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, আর সিটি কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে খেলতে শুরু করে। এ সময় নিজেদের কয়েকটি ভুলের কারণেও বিপদে পড়তে হয় ইংলিশ ক্লাবটিকে।
একবার বক্সের বাইরে বেরিয়ে এসে পেপেকে ফাউল করেন সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। অফসাইডের পতাকা না উঠলে সেটি পোর্তোর পেনাল্টি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এরপর দোন্নারুম্মার আরেকটি ক্লিয়ারেন্স উইলিয়াম গোমেসের চাপে পড়ে প্রায় নিজেদের জালেই ঢুকে যাচ্ছিল। অল্পের জন্য সে যাত্রায় বেঁচে যায় সিটি।
শেষ দিকে পোর্তো যখন সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া, তখনই ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি নিজেদের পক্ষে নিয়ে নেন হালান্ড। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে রায়ান এইত-নৌরির ক্রস থেকে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় নিচের কোণে শট নেন তিনি। পোর্তোর জালে বল জড়িয়ে যায়, সিটির জয়ও নিশ্চিত হয়ে যায় ২-০ ব্যবধানে।
এই গোলের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের ৫৯ ম্যাচে ৫৯ গোল পূর্ণ করেছেন হালান্ড। একই সঙ্গে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৭-তে, যা ক্লাবটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তাকে তৃতীয় স্থানে তুলে দিয়েছে।