অবসর নয়, ১,০০০ গোলের লক্ষ্যে ছুটছেন রোনালদো

স্পোর্টস ডেস্ক

অবসরের কথা ভেবেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত থামছেন না ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। বিশ্বকাপের পর পর্তুগালের জার্সিতে আর না খেলার চিন্তা মাথায় এসেছিল তার। তবে নতুন কোচ হোর্হে জেসুস ও ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত বদলেছেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা। জাতীয় দলের হয়ে আরও খেলতে চান তিনি। সামনে তার বড় লক্ষ্য, ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ১,০০০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়া।

পর্তুগালের হয়ে ২৩৩ ম্যাচ খেলা রোনালদো সর্বশেষ বিশ্বকাপেও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে শেষ ষোলোয় স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় পর্তুগালকে। বিশ্বকাপের পর জাতীয় দল থেকে সরে যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে রোনালদো বলেন, ‘হ্যাঁ, ভেবেছিলাম। অবশ্যই। আমি সব সময় নিজের সিদ্ধান্ত, ভবিষ্যৎ, এমনকি বর্তমান নিয়েও ভাবি। আমি চিন্তাশীল মানুষ, তাই ভাবতে হয়। এ কারণেই এখন আমাকে এখানে দেখছেন। এর মানে হলো, আমি চালিয়ে যাব।’

জাতীয় দলের হয়ে এখনো অনেক কিছু দেওয়ার সামর্থ্য আছে বলে বিশ্বাস রোনালদোর, ‘আমি এখনো বিশ্বাস করি, জাতীয় দলকে তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারি। শুধু গোল করে নয়, মাঠের বাইরেও জাতীয় দলকে সমর্থন দিতে পারি। নতুন একটি তরুণ প্রজন্ম আসছে। তবে আমার কাছে মূল বিষয় হলো মাঠে থাকতে পারা, গোল করা এবং দলকে ম্যাচ জিততে সাহায্য করা।’

তবে জাতীয় দলের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে নিজেই সরে দাঁড়াবেন বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন পর্তুগিজ তারকা, ‘যেদিন তারা বলবে জাতীয় দলে আমাকে চায় না, সেদিন আমিই প্রথম চলে যাব। যখন মনে হবে আমি দলকে কিছুই দিচ্ছি না, কিংবা কোনো পরিবেশ তৈরি করছি, সেদিনও আমিই প্রথম চলে যাব। ব্যাগ গুছিয়ে চলে যাব। পর্তুগালের মানুষ এখনো আমার ওপর ভরসা করে। সে কারণেই আমি এখানে আছি।’

নিজের পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যানও তার পক্ষে কথা বলছে বলে মনে করেন রোনালদো, ‘সংখ্যাগুলোর দিকে তাকান। আমি নিশ্চিত, আপনারা হিসাব করতে পারবেন। আমি এখনো ভালো করছি। যেদিন তারা আমার ওপর ভরসা করবে না, কোনো সমস্যা নেই, আমি চলে যাব। তবে আমি সব সময় এই ফেডারেশনের এক নম্বর সমর্থক থাকব।’

রোনালদোর পাশে থাকার কথাও জানিয়েছেন পর্তুগালের নতুন কোচ হোর্হে জেসুস। আল-নাসরে রোনালদোর সঙ্গে কাজ করা এই কোচ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ওয়েলসের বিপক্ষে নেশন্স লিগের ম্যাচে অধিনায়ককে খেলাবেন তিনি। রোনালদোকে পর্তুগালের ফুটবলের প্রতীক উল্লেখ করে জেসুস বলেন, ‘ক্রিস্তিয়ানো পর্তুগাল ও জাতীয় দলের একটি প্রতীক। সে ম্যাচগুলো খেলবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তার নেই। সেটি কোচের সিদ্ধান্ত।’

নিজের সমালোচনা নিয়েও স্বচ্ছন্দ রোনালদো, ‘আমি জানি আমি কে। এখানে থাকতে কী করেছি, এত সাফল্য পেতে কী করেছি, সেটাও জানি। আমি জানি কেন তরুণরা ক্রিস্তিয়ানোকে ভালোবাসে। তারা আমাকে আদর্শ হিসেবে দেখে। আমি সেটি চালিয়ে যাব। অবসর নেওয়ার পরও, এমনকি ১০ বছর পরও।’

সমালোচকদের নিয়ে তার অবস্থানও স্পষ্ট। রোনালদো বলেন, ‘যারা ক্রিস্তিয়ানোকে ভালোবাসে, তাদের দিকে মনোযোগ দিন। যারা সমালোচনা করে, তাদের নয়। তাই আমি সুখী মানুষ।’

সমালোচনা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে অবশ্য রসিকতাও করেছেন তিনি, ‘আমি ১০০ শতাংশ সৎ হতে পারি না, কখনো কখনো রাজনৈতিকভাবে সঠিক থাকতে হয়।’

এরপর যোগ করেন, ‘আমি বুঝতে পারি, কিছু টেলিভিশন চ্যানেল আমাকে সমালোচনা করতে পছন্দ করে। তারা আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে, বন্দুক দিয়ে। কিন্তু আমি এখনো সেখান থেকে সরে যেতে পারি। যাই হোক, আমি এতে অভ্যস্ত। ২০ বছরের বেশি সময় ধরে এসবের মধ্যে আছি। আমি বেশ অভ্যস্ত।’

বৃহস্পতিবার ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে জাতীয় দলের হয়ে আবার মাঠে ফিরবেন রোনালদো। ম্যাচটি হবে লিসবনের হোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে, যে মাঠে স্পোর্তিংয়ের হয়ে তার ফুটবলজীবনের শুরু হয়েছিল। ২০০৩ সালে সেখান থেকেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি।

সেই মাঠে জাতীয় দলের হয়ে ফিরতে পেরে আবেগাপ্লুত রোনালদো, ‘এটি বিশেষ অনুভূতি, কারণ সেখানেই আমার সুন্দর গল্পের শুরু। এত বছর পর জাতীয় দলের হয়ে সেখানে খেলতে পারা নিয়ে আমি খুব গর্বিত। যেখানে বলা যায়, বিশ্ব আমার জন্য খুলে গিয়েছিল, সেখানে আবার ফিরছি। এটি ছিল সুন্দর একটি মুহূর্ত।’

পর্তুগালের জার্সি পরার অনুভূতি এখনো প্রথমবারের মতোই জানিয়ে রোনালদো বলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে খেলা, পর্তুগালের রং পরা সব সময়ই আনন্দের। এত বছর পরও প্রতিবারই প্রথমবারের মতো মনে হয়। আবেগ ও ভালোবাসা নিয়ে মাঠে নামব। আশা করি আমরা ভালোভাবে শুরু করতে পারব। আর যেহেতু ম্যাচটি স্পোর্তিংয়ের মাঠে, তাই এটি একটু বেশি বিশেষ।’

আর এই ম্যাচ থেকেই ১,০০০ গোলের মাইলফলকের দিকে আরও এক ধাপ এগোতে চান রোনালদো। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে তাঁর ১,০০০ গোল পূর্ণ করতে আর মাত্র ২১টি গোল দরকার। জাতীয় দলের জার্সিতে সেই মাইলফলক ছুঁতে পারলে সেটিই হবে তার ক্যারিয়ারের ‘কেকের ওপর চেরি’।

রোনালদোর ভাষায়, ‘জাতীয় দলের হয়ে আমার ১,০০০তম গোল করা হবে কেকের ওপর চেরি। এটি হবে একটি সুন্দর গল্পের পরিপূর্ণতা।’