অধিনায়কের আর্মব্যান্ড লাগে না, হামজা এমনিতেই নেতা: ডুলি

স্পোর্টস ডেস্ক

নেতৃত্বের জন্য সবসময় হাতে আর্মব্যান্ড থাকতে হয় না। মাঠে সতীর্থদের উজ্জীবিত করা, প্রতিটি বলের জন্য লড়াই করা কিংবা কঠিন মুহূর্তে সামনে থেকে দলকে টেনে নেওয়াই একজন নেতার আসল পরিচয়। থমাস ডুলির চোখে হামজা চৌধুরী ঠিক তেমনই একজন। বাংলাদেশের এই ইংলিশ প্রবাসী ফুটবলারকে নেতা হিসেবে দেখতে তার হাতে অধিনায়কের আর্মব্যান্ডের কোনো প্রয়োজন নেই। ড্রেসিংরুম থেকে মাঠ, হোটেল থেকে গ্যালারি, সব জায়গাতেই হামজাকে নেতা হিসেবে দেখেন বাংলাদেশ কোচ।

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ উঠতেই হামজাকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেন বাংলাদেশ কোচ। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারের পর দলের যে মানসিকতা নিয়ে সবচেয়ে বেশি হতাশ ডুলি, সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে সেটিই বদলাতে চান তিনি। খেলোয়াড়দের আরও আগ্রাসী হয়ে লড়াই করার বার্তা দিচ্ছেন এই জার্মান কোচ। আর সেই মানসিকতার অন্যতম উদাহরণ হিসেবেও সতীর্থদের সামনে হামজাকে তুলে ধরছেন তিনি।

এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব শুরুতে কেউ নিতে চাননি বলেও জানিয়েছেন ডুলি। এমনকি সোহেল রানাও প্রথমে অধিনায়ক হতে আগ্রহী ছিলেন না। পরে যখন দেখলেন আর কেউ দায়িত্ব নিতে চাইছেন না, তখন নিজেই কোচের কাছে গিয়ে নেতৃত্বের দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান তিনি।

ডুলির ভাষায়, ‘কেউই অধিনায়ক হতে চায়নি। এমনকি সোহেলও অধিনায়ক হতে চায়নি। পরে সে আমার কাছে এসে বলল, কেউ যখন হতে চাইছে না, তখন আমি এই দায়িত্বটা নিতে চাই। আমি অধিনায়কের আর্মব্যান্ডটা নেব।’

তবে ডুলির কাছে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড হামজার নেতৃত্বের মাপকাঠি নয়। তার মতে, হামজার নেতৃত্ব মাঠের বাইরেও ছড়িয়ে আছে। সতীর্থদের সঙ্গে তার আচরণ, মাঠে প্রতিটি বলের জন্য লড়াই এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তার শরীরী ভাষা, সবকিছুতেই একজন নেতার উপস্থিতি দেখতে পান তিনি।

‘হামজার নেতা হওয়ার জন্য অধিনায়কের আর্মব্যান্ডের প্রয়োজন নেই। সে যেকোনো জায়গাতেই নেতা। ড্রেসিংরুমে, গ্যালারিতে, হোটেলে, সব জায়গায়। তার আর্মব্যান্ডের প্রয়োজন নেই,’ বলেছেন ডুলি।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের অতিরিক্ত পেছনে সরে যাওয়াই সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছে ডুলিকে। খেলোয়াড়েরা অনেক সময় একে অন্যের দিকে তাকিয়ে থেকেছেন, কে চাপ দেবেন, কে সামনে এগিয়ে যাবেন, তা নিয়ে ছিল দ্বিধা। ফলে প্রতিপক্ষ প্রয়োজনীয় সময় ও জায়গা পেয়েছে। এমনকি নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড পাওয়া সোহেলও ছিলেন না স্বাভাবিক ছন্দে।

অধিনায়কত্বের দায়িত্ব সোহেলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছিল কি না, সেটিও ভেবেছেন ডুলি। তার দাবি, সোহেলকে এর আগে কখনো এমনভাবে খেলতে দেখেননি তিনি, অনুশীলনেও নয়, ম্যাচেও নয়। ডুলির ধারণা, অধিনায়কত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব হয়তো সোহেলের ওপর কিছুটা বাড়তি চাপ তৈরি করেছিল।