মেসির বিদায়ী ম্যাচে চরম অপমান ও বঞ্চনার শিকার হওয়ার অভিযোগ বেনিনের

স্পোর্টস ডেস্ক

লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ খেলতে বুয়েনস আইরেস গিয়ে চরম অপমান ও বঞ্চনার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছে বেনিন। আয়োজকদের খামখেয়ালি আচরণের পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দলের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সম্মান না দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এনে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেনিনের জার্মান হেড কোচ জার্নট রোহর।

ফরাসি মাধ্যম 'আরএমসি রেডিও'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে রোহর বলেন,

‘পরিস্থিতিটা অত্যন্ত কঠিন ছিল। আফসোসের বিষয় হলো, আর্জেন্টাইনরা আমাদের কিছুই দেয়নি—মেসির সঙ্গে কোনো ছবি তুলতে দেয়নি, একটা জার্সিও দেয়নি। এমনকি ড্রেসিংরুম কিংবা করিডোরেও আমাদের ঢোকার অনুমতি ছিল না।’

এস্তাদিও মনুমেন্তালে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনী ম্যাচটিতে ৩-০ গোলে হারে আফ্রিকার দলটি। খেলা শেষে স্বাগতিকরা যখন বিশ্বজয়ী অধিনায়কের বিদায় উদযাপনে ব্যস্ত, তখন স্মারক হিসেবে একটি ছবি বা জার্সি বদলের অপেক্ষায় ছিলেন বেনিনের ফুটবলাররা।

Argentina v Benin - International Friendlyরোহর জানান, সৌজন্যতার খাতিরে বেনিনের পতাকার রঙের একটি ফুলের তোড়াও তারা উপহার দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেটিও কাজে আসেনি। একমাত্র স্মারক বলতে রোহরের কাছে থাকা ২০১৮ সালের মেসির একটি পুরনো জার্সিতে কোচ লিওনেল স্কালোনির মাধ্যমে সই করিয়ে নেওয়া, তা ছাড়া আর কিছুই মেলেনি।

এর আগে অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোমাঁ মোলিনাও এক্স অ্যাকাউন্টে আয়োজকদের এসব কড়া বিধিনিষেধ ও বিমাতাসুলভ আচরণের তথ্য ফাঁস করেন।

মোলিনা লিখেছেন, ‘বেনিনের প্রতি আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশন ও তাদের খেলোয়াড়দের “সম্মান”-এর নমুনা দেখুন: কোনো বোনাস দেওয়া হয়নি, আয়ের এক সেন্টও মেলেনি, কোনো জার্সি বিনিময় করা হয়নি, একটি ছবি পর্যন্ত তুলতে দেওয়া হয়নি! যাদের কেবল নিছক ব্যবহারের অনুষঙ্গ বানিয়ে ব্যবসা করা হলো, পুরো লাভটাই তাদের ঘাড় ভেঙে তুলে নেওয়া হলো।’

দর্শকে ঠাসা গ্যালারির এই বিশাল আয়োজন থেকে কোনো আর্থিক অংশ বা বোনাস না পাওয়া, এমনকি বুয়েনস আইরেসে যাতায়াত ও মানহীন হোটেল ব্যবস্থাপনা নিয়ে আগেই অভিযোগ তুলেছিল বেনিন শিবির।

আটলান্টিক পারের এই তিক্ত ও অপমানজনক সফর ভুলে এখন আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্বে মনোযোগ দেওয়াই মূল চ্যালেঞ্জ রোহর ও তার শিষ্যদের।