যুদ্ধ, ভিসা জটিলতা আর অর্থসংকটের মাঝেই ইরানের বিশ্বকাপ যাত্রা
বিশ্বকাপের মতো মহাযজ্ঞের আগে সাধারণত দলগুলো পরিকল্পনা সাজায় মাসের পর মাস। প্রস্তুতি ম্যাচ, অনুশীলন ক্যাম্প, ভ্রমণসূচি সবকিছু থাকে নির্ভুল হিসাবের মধ্যে। কিন্তু ইরানের জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি যেন একের পর এক বাধা পেরোনোর গল্প। যুদ্ধের প্রভাব, ভিসা জটিলতা এবং অর্থনৈতিক সংকটের মাঝেই বিশ্বকাপ অভিযানে নামতে হচ্ছে ‘টিম মেল্লি’কে।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ জানিয়েছেন, এখনও যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর ভিসা হাতে না পেলেও দলটি আগামী শনিবার স্পেনের উদ্দেশে রওনা হবে। সেখান থেকে সরাসরি মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তিহুয়ানায় যাবে তারা, যেখানে বিশ্বকালজুড়ে নিজেদের ঘাঁটি গড়বে ইরান।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে তাজ বলেন, মেক্সিকোর ভিসা এক বা দুই দিনের মধ্যেই পাওয়া যাবে বলে তারা আশা করছেন। এরপর দ্রুতই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাও ইস্যু করা হবে।
আগামী বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপে খেলবে ইরান। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের অভিযান শুরু হবে। একই শহরে ২১ জুন প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলটি।
তবে মাঠের লড়াইয়ের আগেই নানা সমস্যার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে ইরানকে। তাজের মতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়।
তার ভাষায়, দেশের পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে যুদ্ধ তাদের সব পরিকল্পনা ওলটপালট করে দিয়েছে। এমনকি স্পেনের বিপক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি ম্যাচও বাতিল হয়ে যায়, যা ফেব্রুয়ারিতেই আয়োজনের কথা ছিল।
প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টাকসনে বিশ্বকাপ ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ছিল ইরানের। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে তারা মেক্সিকোর তিহুয়ানাকে বেছে নেয়।
বর্তমানে তুরস্কে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচে গত শুক্রবার তারা গাম্বিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে। বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি হিসেবে বৃহস্পতিবার মালির বিপক্ষে আরেকটি ম্যাচ খেলবে দলটি।
তবে যুদ্ধ এবং ভিসা জটিলতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমস্যাও ইরানের প্রস্তুতিকে কঠিন করে তুলেছে। মেহদি তাজ জানিয়েছেন, দেশের অর্থনৈতিক সংকট এবং ডলারের বিপরীতে রিয়ালের ব্যাপক অবমূল্যায়নের কারণে জাতীয় দলের প্রস্তুতি কার্যক্রমও আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে।