ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

কেন রাইট ব্যাকের শূন্যতা পূরণে মিডফিল্ডারকে নিল ব্রাজিল?

স্পোর্টস ডেস্ক

মরক্কোর বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে বড় ধাক্কা খেয়েছে ব্রাজিল দল। ইনজুরির কারণে স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেছেন রাইট ব্যাক ওয়েসলি। তবে রক্ষণভাগের এই ফুটবলারের বিকল্প হিসেবে কোনো ডিফেন্ডার নয়, বরং এক মিডফিল্ডারকে দলে ডেকেছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ওয়েসলির জায়গায় ২৬ সদস্যের দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ২৬ বছর বয়সী মিডফিল্ডার এদেরসনকে।

প্রথম দেখায় সিদ্ধান্তটি যে কাউকে চমকে দিতে বাধ্য। রাইট ব্যাকের শূন্যতা পূরণে মাঝমাঠের খেলোয়াড় কেন? আপাতদৃষ্টিতে বিভ্রান্তিকর মনে হলেও আনচেলত্তির এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গভীর কৌশলগত (ট্যাকটিক্যাল) সমীকরণ এবং দূরদর্শী স্কোয়াড পরিকল্পনা। মূলত তিনটি প্রধান কারণে এই পথে হেঁটেছেন সেলেসাও বস।

১. স্কোয়াডের বাড়তি গভীরতা: বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের বিশাল স্কোয়াড ঘোষণার সুবিধা হলো, অনেক পজিশনেই ব্যাক-আপ ফুটবলার রাখা যায়। ব্রাজিল দলেও রাইট ব্যাক পজিশনে দানিলোর মতো বিশ্বমানের ও পরীক্ষিত ডিফেন্ডার ইতোমধ্যেই আছেন। ফলে ওয়েসলি ছিটকে গেলেও মূল একাদশ বা শক্তিশালী ব্যাক-আপ নিয়ে ব্রাজিলকে কোনো সংকটে পড়তে হচ্ছে না।

২. কৌশলগত বৈচিত্র্য: দলে একজন রাইট ব্যাক কমে গেছে বলেই কেবল বেঞ্চ গরম করার জন্য অপেক্ষাকৃত কম মানের আরেকজন প্রথাগত রাইট ব্যাককে দলে টানতে চাননি আনচেলত্তি। বরং তিনি স্কোয়াডের সামগ্রিক মান বাড়াতে চেয়েছেন। এদেরসনকে দলে নেওয়ায় ব্রাজিল একজন হাই-এনার্জি 'বক্স-টু-বক্স' মিডফিল্ডার পেল, যিনি ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে পারেন। টুর্নামেন্টের কোনো ম্যাচে লিড ধরে রাখতে বা মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে এদেরসনের মতো কঠোর পরিশ্রমী বল-উইনার আনচেলত্তির বড় অস্ত্র হতে পারেন। কোচ মনে করেছেন, একজন তৃতীয় পছন্দের ফুল ব্যাকের চেয়ে এই মুহূর্তে দলে এমন একজন মিডফিল্ডারের উপস্থিতি বেশি জরুরি।

৩. আধুনিক ফুটবলের পরিবর্তনশীল কৌশল: আধুনিক ফুটবল এখন আর নির্দিষ্ট পজিশনের বৃত্তে বন্দি নেই। টুর্নামেন্টের মাঝে যদি মূল রাইট ব্যাক কোনো কারণে ইনজুরিতে পড়েন, তবে আনচেলত্তিকে যে আরেকজন প্রথাগত রাইট ব্যাকই নামাতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। ব্রাজিলের বর্তমান স্কোয়াডে মার্কিনিউস বা গ্যাব্রিয়েল মাগালেসের সেন্ট্রাল ডিফেন্ডাররা আছেন, যারা অনায়াসে ডানপ্রান্তে সরে গিয়ে রাইট ব্যাকের দায়িত্ব সামলাতে পারেন। এমনকি দল চাইলে তিন ডিফেন্ডারের ফর্মেশনেও খেলতে পারে।

যেহেতু রাইট ব্যাক পজিশনটি অন্য ডিফেন্ডারদের দিয়ে কাভার করার সুযোগ ব্রাজিলের আছে, তাই স্কোয়াডের ফাঁকা হওয়া জায়গাটি একজন শীর্ষ সারির মিডফিল্ডারকে দিয়ে পূরণ করাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ ছিল। এদেরসন এতটাই দারুণ ফর্মে ছিলেন যে, শুরুর ২৬ জনের স্কোয়াড থেকে তার বাদ পড়াটাই অনেকের কাছে ছিল দুর্ভাগ্যজনক। ওয়েসলির ইনজুরি যেন আনচেলত্তির সেই ভুল সংশোধনের সুযোগ করে দিল।

ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) জানিয়েছে, বাম ঊরুর পেশিতে গুরুতর চোট পেয়েছেন ওয়েসলি। ক্লিভল্যান্ডে মিশরের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচের শুরুর দিকেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানা যায়, এই চোটের কারণে বিশ্বকাপেই আর খেলা হচ্ছে না তার। এক বিবৃতিতে সিবিএফ জানায়, 'ওয়েসলি দলের সবার অত্যন্ত প্রিয় একজন ক্রীড়াবিদ। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে থাকা এই দলের অংশ হিসেবে তাকে সবসময় বিবেচনা করা হবে।'

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডের মেডোল্যান্ডসে আগামী শনিবার গ্রুপ 'সি'-তে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। নতুন যুক্ত হওয়া মিডফিল্ডার এদেরসন দ্রুতই সেখানে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৩ জুন মরক্কো, ২০ জুন হাইতি এবং ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা।

এদিকে রক্ষণভাগ সামলানোর ফুটবলার কমিয়ে মাঝমাঠ শক্তিশালী করার এই কৌশলের পাশাপাশি ব্রাজিল শিবিরে ভর করেছে নেইমারকে নিয়েও দুশ্চিন্তা। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড কাফ ইনজুরির কারণে বর্তমানে মাঠের বাইরে আছেন। ইনজুরির গভীরতা এতটাই যে, দলের সঙ্গে তিনি ক্লিভল্যান্ডেও ভ্রমণ করতে পারেননি। মরক্কো ম্যাচের আগে নেইমারের সুস্থ হয়ে ওঠা নিয়েও এখন চলছে চরম অনিশ্চয়তা।