‘এমবাপে এক মুহূর্তেই ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারে’

স্পোর্টস ডেস্ক

সেনেগালের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে ফ্রান্স। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কিলিয়ান এমবাপে। জোড়া গোল করে শুধু দলকে জয়ই এনে দেননি, ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনেও বসেছেন তিনি। আর সেই পারফরম্যান্সের পর নিজের অধিনায়ককে নিয়ে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন কোচ দিদিয়ের দেশম।

ম্যাচ শেষে দেশম বলেন, এখনও এমন অনেক মানুষ আছেন যারা এমবাপের সমালোচনা করেন। ফরাসি অধিনায়ক এমন একজন ফুটবলার, যিনি এক মুহূর্তেই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন বলে মনে করেন তিনি, 'এখনও কিছু মানুষ আছে যারা তাকে সমালোচনা করবে। কিন্তু সে অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। সবকিছু হয়তো তার পক্ষে যায় না, কিন্তু এক মুহূর্তেই সে একটি ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারে।'

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপে। পরে ব্র্যাডলি বারকোলা ব্যবধান বাড়ান। সেনেগালের হয়ে ইব্রাহিম এমবায়ে একটি গোল শোধ করলেও যোগ করা সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ফ্রান্সের ৩-১ গোলের জয় নিশ্চিত করেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা।

এই জোড়া গোলের মাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে নিজের গোলসংখ্যা ৫৮-তে নিয়ে গেছেন এমবাপে। ৯৯ ম্যাচে করা এই ৫৮ গোল তাকে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিণত করেছে। এতদিন শীর্ষে থাকা অলিভিয়ের জিরুকে পেছনে ফেলেই ইতিহাসের নতুন মালিক হয়েছেন তিনি।

দেশম বলেন, 'আমি তার জন্য সত্যিই খুব খুশি। প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে সে গোল পায়নি। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এসে এই রেকর্ড গড়া বিষয়টিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। দলের অধিনায়ক হিসেবে মাঠের ভেতরে ও বাইরে সে অনেক কিছু করে। যদিও কেউ কেউ তাকে স্বার্থপর মনে করে। কিন্তু আমি জানি সে দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।'

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মোটেও সহজ ছিল না ফ্রান্সের জন্য। প্রথমার্ধে সেনেগালের গতি, শক্তি ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে বেশ অস্বস্তিতে পড়ে যায় ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এমনকি ভাগ্য সহায় না হলে পিছিয়েও পড়তে পারত তারা।

প্রথমার্ধে দল প্রত্যাশিত ফুটবল খেলতে পারেনি স্বীকার করেছেন দেশমও, 'খুব ভালো একটি সেনেগাল দলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জিতে শুরু করতে পারাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রথমার্ধে আমরা কিছু সমস্যায় পড়েছিলাম। কিছু ক্ষেত্রে সুযোগও নষ্ট করেছি। আরও নিখুঁত হলে হয়তো বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারতাম।'

তবে বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। বিশেষ করে মাইকেল ওলিসেকে ডান প্রান্ত থেকে মাঝমাঠের আরও কেন্দ্রীয় ভূমিকায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। দেশমের মতে, সেই পরিবর্তনই ফরাসি আক্রমণে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে আনে।

'দ্বিতীয়ার্ধ অনেক ভালো ছিল। আমরা যখন মাইকেল ওলিসেকে মাঝখানে নিয়ে এলাম, তখন পুরো খেলার ছন্দ বদলে যায়। বল নিয়ন্ত্রণ এবং পাস দেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে সে আক্রমণভাগকে আরও কার্যকর করেছে। ও যত বেশি বল পায়, আমরা তত ভালো খেলি,' বলেন দেশম।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে এখন ফ্রান্সের সামনে রয়েছে ইরাক ও নরওয়ের বিপক্ষে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। তবে প্রথম বাধা সফলভাবে পেরিয়ে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়েছে দেশমের দলের। দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কোচও সেটি জানেন। 'আমাদের গ্রুপের পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রথম ম্যাচ জেতাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই এই জয় নিয়ে আমি সত্যিই সন্তুষ্ট,' বলেন তিনি।