সেই সুইডেনের জালে এবার ৫ গোল দিল নেদারল্যান্ডস

স্পোর্টস ডেস্ক

নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ৫-১ গোলে জিতে বিশ্বকাপে উড়ন্ত শুরু পেয়েছিল সুইডেন। পরের ম্যাচে সেই দলটিকে রীতিমতো টেনে মাটিতে নামাল নেদারল্যান্ডস। বিরতির আগে ব্রায়ান ববি ও বিরতির পর কোডি গাকপোর নৈপুণ্যে গোল উৎসব করল রোনাল্ড কুমানের শিষ্যরা।

শনিবার রাতে হিউস্টনে 'এফ' গ্রুপের ম্যাচে সুইডিশদের ৫-১ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ডাচরা। যদিও ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখলে এই ফল চোখ কপালে তুলে দেওয়ার মতো। নেদারল্যান্ডসের ৫১ শতাংশ সময় বল দখলে রাখার বিপরীতে সুইডেনের পায়ে বল ছিল ৪৯ শতাংশ সময়। ডাচরা গোলমুখে ১০টি শট নিয়ে লক্ষ্যে রাখে সাতটি, আর সুইডিশদের ১৬টি শটের আটটি ছিল লক্ষ্যে।

এতে বুঝে নেওয়া যায়, বড় সুযোগ তৈরি ও ফিনিশিংয়ে নেদারল্যান্ডস যতটা ক্ষুরধার ছিল, গ্রাহাম পটারের শিষ্যরা সেই তুলনায় কার্যকর ছিল না। তাই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ চললেও স্কোরলাইনে বিস্তর ব্যবধান তৈরি হয়।

প্রথমার্ধের শুরুতে ববির জোড়া গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গাকপোর জোড়া লক্ষ্যভেদে চালকের আসনে বসে পড়ে ডাচরা। বদলি নামা অ্যান্থনি এলাঙ্গা সুইডিশদের হয়ে ব্যবধান কমালেও শেষদিকে ফের তাদের জালে বল পাঠান আরেক বদলি ক্রিসেনসিও সমারভিল।

এই জয়ে 'এফ' গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠল বিশ্বকাপের তিনবারের রানার্সআপ নেদারল্যান্ডস। নিজেদের প্রথম ম্যাচে জাপানের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করা দলটির অর্জন ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে ১৯৫৮ সালের আসরের ফাইনালিস্ট সুইডেন।

জাপানের বিপক্ষে গোল করা সত্ত্বেও উইঙ্গার সমারভিলের জায়গায় মূল একাদশে সুযোগ পাওয়া ব্রবি প্রথম গোলের আক্রমণ শুরু করে নিজেই ফিনিশিং টানেন। পঞ্চম মিনিটে গাকপোর সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। এরপর বাঁ প্রান্ত থেকে সতীর্থের নিচু ক্রস পেয়ে খুব কাছ থেকে জাল কাঁপান।

১২ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্রবি। ডান প্রান্ত থেকে ডেনজেল ডামফ্রিসের নেওয়া ক্রস একজনের গায়ে লেগে ঠিক তার পায়েই এসে পড়ে। সুযোগ পেয়ে পায়ের ডগার টোকায় সুইডেনের গোলরক্ষক ক্রিস্টোফার নর্ডফেল্টকে পরাস্ত করেন তিনি।

এরপর নিজেদের সেরা সুযোগটি পায় সুইডেন। কিন্তু ভিক্তর গিওকেরেসের ক্রসে ফাঁকায় থাকা ইয়াসিন আইয়ারি বুক দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে পুরোপুরি ব্যর্থ হন। পরের ভালো সুযোগটি নষ্ট করেন গিওকেরেস নিজেই। ম্যাচে সেভাবে আলো ছড়াতে না পারা আলেক্সান্দার ইসাকের বাড়ানো বল ঠিকমতো পায়ে লাগাতে পারেননি তিনি।

গিওকেরেস ও আইয়ারি এরপর আরও একবার করে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ব্যস্ত সময় পার করা গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেন তাদের হতাশ করেন। ফলে প্রথমার্ধের শেষদিকে চাপ সামলে কোনোমতে জাল অক্ষত রাখে নেদারল্যান্ডস।

বিরতির পর ডোনিয়েল মালেনের বদলি হিসেবে সামারভিলকে মাঠে নামান কোচ কুমান। আর দুই মিনিট পরই সুইডেনের জন্য ম্যাচে ফেরা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ডামফ্রিসের আরেকটি বিপজ্জনক নিচু ক্রস থেকে খুব কাছ থেকে বল জালে জড়ান গাকপো।

৫৪তম মিনিটে চমৎকার কায়দায় স্কোরলাইন ৪-০ করেন গাকপোই। সঙ্গে লেগে থাকা ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ভেতরে ঢুকে নিচু শটে নিশানা ভেদ করেন তিনি। বিশ্বকাপে তার গোল হলো পাঁচটি, গত আসরে করেছিলেন তিন গোল।

পাঁচ মিনিট পর সুইডিশদের হয়ে একটি গোল শোধ করেন এলাঙ্গা। ডাচ রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে এগিয়ে ভারব্রুগেনকে পরাস্ত করেন তিনি। তবে নির্ধারিত সময়ের শেষ হওয়ার ঠিক আগে ফের ব্যবধান বাড়িয়ে নেন সমারভিল।