‘অনিচ্ছাকৃত’ ফাউলের কারণে লাল কার্ড পেয়েছেন বালোগুন, সমালোচনায় পচেত্তিনো

স্পোর্টস ডেস্ক

১০ জনের দল নিয়েও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে হারানোর পর খেলোয়াড়দের একতাবদ্ধতার প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্র কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। তবে শেষ বত্রিশের এই লড়াইয়ে ‘অনিচ্ছাকৃত’ ফাউলের কারণে ফোলারিন বালোগুনকে লাল কার্ড দেখানোর তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে বসনিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছে এবারের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। বিরতির ঠিক আগে বালোগুন জাল খুঁজে দলকে এগিয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শেষদিকে ব্যবধান বাড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন মালিক টিলমান।

২০০২ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম জয়। এর মাধ্যমে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াই নিশ্চিত করেছে তারা।

ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে খেলোয়াড়দের প্রশংসায় পচেত্তিনো বলেন, ‘আমাদের অনুভূতি বর্ণনা করা কঠিন। কারণ আমার মনে হয়, তারা (খেলোয়াড়রা) অসাধারণ ছিল এবং বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। গত পাঁচ-ছয় সপ্তাহে আমরা যেভাবে উন্নতি করছি, তাতে দলের পরিপক্বতা অসাধারণ বলে আমি মনে করি।’

চলমান টুর্নামেন্টে নিজের তৃতীয় গোলটি করা বালোগুন অবশ্য তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ম্যাচটি মিস করতে যাচ্ছেন। কারণ, তারিক মুহারেমোভিচের গোড়ালিতে পা মাড়িয়ে দেওয়ায় সরাসরি লাল কার্ড দেখতে হয়েছে তাকে। ম্যাচের ৬৪তম মিনিটে ভিএআরের সাহায্য নিয়ে স্বাগতিকদের জন্য বেদনাদায়ক এই সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।

বসনিয়ার কোচ সার্গেই বারবারেজ জানিয়েছেন, ভিএআরে পর্যালোচনা করে দেওয়া লাল কার্ডের সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল। তবে আর্জেন্টিনার সাবেক ফুটবলার পচেত্তিনো বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আপত্তি জানিয়ে বলেন, ‘এটি কখনোই লাল কার্ড ছিল না। টিভিতে দেখেছি, ওই খেলোয়াড়কে পা মাড়িয়ে দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য সেখানে ছিল না। ফুটবলে এটি একটি স্বাভাবিক ঘটনা। এটি দুর্ঘটনাবশত ঘটেছে এবং কখনোই ইচ্ছাকৃত নয়। যে কারণে আমার কাছে এটি কখনোই লাল কার্ড ছিল না।’

ড্রেসিংরুমে বালোগুন হতাশ ও বিষণ্ণ ছিলেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তবে সে খুশিও। কারণ আমরা পরের পর্বে উঠেছি... তাকে বুঝতে হবে যে, এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতেই পারে। আমি নিশ্চিতভাবে আশা করি, সে আবারও আমাদের সাহায্য করতে পারবে। আমি আশা করি, আমরা এর পরের রাউন্ডেও (কোয়ার্টার ফাইনালে) যাব।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়েছেন পচেত্তিনো। চূড়ান্ত বাঁশি বাজার পর খেলোয়াড় ও স্টাফদের জড়িয়ে ধরার পাশাপাশি গ্যালারির সমর্থকদের সাথে ‘কান্ট্রি রোডস’ গানেও গলা মেলান তিনি।

বালোগুনের লাল কার্ডের পর ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন টিলমান। তাকে নিয়ে পচেত্তিনো বলেন, ‘এটি অসাধারণ ছিল। মালিক প্রতিভায় ভরপুর একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড়... সে যা করে দেখিয়েছে, তা করার মতো প্রতিভা তার আছে। তার জন্যও অনেক আনন্দিত আমি।’