ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

‘মদ্রিচ লাখ লাখ তরুণের অনুপ্রেরণা’

স্পোর্টস ডেস্ক

২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের কাছে ২-১ ব্যবধানের এক হৃদয়বিদারক হারের পর প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে লুকা মদ্রিচের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি। ম্যাচ শেষে ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ এবং পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেস শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এই ক্রোয়েশিয়ান মহানায়কের প্রতি।

টরন্টোতে ম্যাচ শেষের পর এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়। মাঠের মাঝেই দীর্ঘ সময় কথা বলতে দেখা যায় ৪০ বছর বয়সী মদ্রিচ ও ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে—আন্তর্জাতিক ফুটবলের আঙিনায় দীর্ঘ পথচলা শেষে যারা দুজনেই এখন ক্যারিয়ারের একদম শেষ প্রান্তে।

ম্যাচ শেষে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ক্রোয়েশিয়া কোচ জ্লাতকো দালিচ। তিনি বলেন, ‘এটি সম্ভবত তার শেষ বিশ্বকাপ ছিল। ম্যাচটি এভাবে শেষ হওয়ায় আমি ভীষণ দুঃখিত। তবে তিনি আজকেও নিজের জাত এবং চরিত্র চিনিয়েছেন; শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ক্রোয়েশিয়াকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।’

অন্যদিকে, পর্তুগিজ কোচ রবার্তো মার্তিনেস মদ্রিচকে ‘লাখ লাখ তরুণের অনুপ্রেরণা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ফুটবলের ইতিহাসে তার নাম ও কীর্তি চিরকাল অম্লান থাকবে।’

অনন্য এক ফুটবল মস্তিষ্ক

মদ্রিচের ম্যাচ রিডিং ও মাঠে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার প্রশংসা করে মার্তিনেস বলেন, ‘ফুটবলে এখন এমন খেলোয়াড় খুব একটা দেখা যায় না, যিনি বল পায়ে রেখে খেলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং নিখুঁত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মদ্রিচ হলেন তার সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণ।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘ম্যাচের পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, তিনি ঠিকই ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেন এবং সঠিক সিদ্ধান্তটি নেন। তাকে মাঠে খেলতে দেখাটা এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। তিনি যেভাবে খেলছেন, মনে হয় যেন এক তরুণ ফুটবলার।’

২০১৮ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার রানার্স-আপ হওয়া এবং কাতার বিশ্বকাপে দলকে তৃতীয় স্থানে নিয়ে যাওয়ার পেছনে মূল কারিগর ছিলেন লুকা মদ্রিচ। রিয়াল মাদ্রিদে একসঙ্গে কাটানো ছয় মৌসুমে চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন রোনালদো ও মদ্রিচ। দীর্ঘদিন ধরে বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চললেও ২০২৬ সালের এই মেগা টুর্নামেন্টে এসে দুই তারকার শরীরী ভাষাতেই বয়সের ছাপ কিছুটা স্পষ্ট।

গ্রুপ পর্বে পারফরম্যান্স নিয়ে তুমুল সমালোচনার শিকার হওয়া রোনালদো অবশ্য দ্বিতীয় হাফে পেনাল্টি থেকে গোল করে পর্তুগালকে সমতায় ফেরাতে ভূমিকা রাখেন। তবে দালিচের মতে, ক্রোয়েশিয়ার হারলেও মদ্রিচ আজও দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবেই মাঠ মাতিয়েছেন।

গত জুনেই পানামার বিরুদ্ধে ম্যাচের পর নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ পূর্ণ করেছিলেন এই এসি মিলান মিডফিল্ডার। সেদিনের জয়ের পর সতীর্থরা তাকে কাঁধে তুলে উদযাপন করলেও, বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে মদ্রিচের বিদায়টা হলো কিছুটা বিষাদময়।