টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬

‘স্বপ্নের মতো লাগছে’, টুর্নামেন্ট সেরা হয়ে বললেন স্যামসন

ক্রীড়া প্রতিবেদক

টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে একাদশে ঠাঁই হয়নি সঞ্জু স্যামসনের। এমনকি সংবাদ সম্মেলনে তাকে কোথায় জায়গা দিবেন বলে পালটা প্রশ্ন ছুঁড়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন সূর্যকুমার যাদব। রিঙ্কু সিংয়ের পারিবারিক ইস্যুতে একাদশে আসেন স্যামসন। সুপার এইটে বাঁচা মরার ম্যাচে অবিস্মরণীয় ইনিংস খেলে দলকে সেমিফাইনালে আনেন তিনি। পরে সেমিফাইনাল ও ফাইনালেও বনে যান ব্যাটিংয়ের নায়ক। 

মাত্র ৫ ম্যাচ খেলে তিনশোর বেশি রান করে টুর্নামেন্ট সেরা এই ডানহাতি। শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতির পর জানালেন আছেন ঘোরের ভেতর। আর তাকে এই অর্জনের পথে পরামর্শ পেয়েছেন কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের। 

বিশ্বকাপে ফাইনাল পর্যন্ত আসা বাকিরা যেখানে ৯ ম্যাচ খেলেছেন, ৪ ম্যাচ কম খেলেই বাকি সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন স্যামসন। ৫ ম্যাচে ১৯৯.৩২ স্ট্রাইকরেটে ৩২১ রান করেছেন তিনি। কমপক্ষে ২৫০ রান করেছেন এমন ব্যাটারদের তার স্ট্রাইকরেটই সবচেয়ে বেশি। ৫ ম্যাচ খেলেই সবার চেয়ে বেশি ২৪ ছক্কা মেরেছেন কেরালার এই ব্যাটার। 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সুপার এইটে রান তাড়ায় ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ করে ম্যাচ জেতান। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪২ বলে খেলেন চোখ ধাঁধানো ৮৯ রান। ফাইনালেও করলেন ঠিক ৮৯ রান, খেলেন ৪৫ বল। 

দুবারই সেঞ্চুরি ছিলো দুয়ারে। দলের রান বাড়ানোর তাড়নায় মারতে গিয়ে নিজেকে বিলিয়ে দেন। টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার নিয়ে স্যামসন বলেন মনে হচ্ছে ঘোরের ভেতর আছেন তিনি, 'স্বপ্নের মতো লাগছে। খুবই আনন্দিত এবং কৃতজ্ঞ। প্রকাশের কোনো ভাষা নেই, সব আবেগ যেন ফুরিয়ে গেছে।'

তবে এই স্বপ্ন দুই বছর আগেই দেখা শুরু করেছিলেন স্যামসন,  ‘সত্যি বলতে, এটা এক-দুই বছর আগে শুরু হয়েছিল। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ দলে যখন ছিলাম কিন্তু খেলার সুযোগ পাইনি, তখন থেকেই আমি কল্পনা করতাম, কাজ করে যেতাম এবং ঠিক এটাই আমি করতে চেয়েছিলাম। নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর আমি ভেঙে পড়েছিলাম, আমার স্বপ্নগুলো তছনছ হয়ে গিয়েছিল। আমি ভাবছিলাম এখন কী করা যায়। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। বড় স্বপ্ন দেখার সাহস করার জন্য আমি পুরস্কৃত হয়েছি।’

বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে হন চরম ব্যর্থ। এই ধাক্কাতেই বিশ্বকাপে একাদশে জায়গা মিলছিলো না। বাজে ছন্দের সময় সাবেক তারকাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেকে ফিরে পাওয়ার রসদ যোগাড় করেন তিনি, ‘অনেক প্রাক্তন খেলোয়াড় আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন। গত কয়েক মাস ধরে আমি শচীন স্যারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। আমি তার কাছে গিয়েছিলাম এবং তার সঙ্গে অনেক বড় বড় আলোচনা হয়েছে। তার মতো কারোর কাছ থেকে নির্দেশনা পাওয়া—এর চেয়ে বেশি আর কী চাওয়ার থাকতে পারে? যারা আমাকে সমর্থন করেছেন তাদের সবার প্রতি আমি খুবই কৃতজ্ঞ। আমার জন্য এটাই অনেক বড় কিছু, আমি আপাতত এটা উপভোগ করতে চাই।’