ঢাকার অলিগলিতে ভোট উৎসব
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর অর্ধদিনেরও কম সময় বাকি। ইতোমধ্যে সারাদেশে নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
রাজধানী ঢাকায় এর আবহ আরও স্পষ্ট। রাস্তাঘাট, পাড়া-মহল্লা থেকে সরু অলিগলি পর্যন্ত উৎসবের আমেজ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।
টানা চার দিনের ছুটি পেয়ে ভোট দিতে ইতোমধ্যে ঢাকা ছেড়েছেন অনেক বাসিন্দা। এ কারণে প্রধান সড়কগুলো তুলনামূলক নির্জন দেখালেও অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে চোখে পড়েছে ব্যস্ততা, যেন দ্বৈত ভোটকে ঘিরে সাজ সাজ রব চলছে।
দীর্ঘ ছুটির এই সময়টুকুতে অনেক নগরবাসীর কাছে ভোটকে উৎসবমুখর আবহ এনে দিয়েছে। যা আগে খুব একটা দেখা যায়নি। কেউ কেউ ১৭ বছর পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত। আসন্ন নির্বাচনকে তারা জীবনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত বলেও উল্লেখ করেছেন।
বনশ্রীর যুবক এস এম ফজলে রাব্বী ঢাকা–১১ আসনের ভোটার। আজ দুপুরে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আগামীকাল সকালে আমি স্ত্রীকে নিয়ে ভোট দিতে যাব। এ নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত।’
তবে রাব্বী ক্ষোভও প্রকাশ করেন। বলেন, ‘২০০৯ সালেই আমি ভোটার হয়েছিলাম, কিন্তু ভোটকেন্দ্রে যেতে পারিনি। গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভুয়া ভোট, মধ্যরাতের ভোট এবং বিরোধী পুতুল প্রার্থীদের কারণে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারিনি।’
ঢাকার অলিগলিতে এখন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা সর্বত্র। কৌতূহল ও উৎসাহ চোখে পড়ার মতো। শুধু সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেই নয়, শিশু-কিশোরদের মাঝেও ভোট ঘিরে শেষ মুহূর্তের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে।
রাজধানীর একাধিক এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নির্বাচনের কয়েকদিন আগেই অলিগলিতে বুথ বসিয়ে ভোটারদের তথ্য সহায়তা প্রদান করছেন বিভিন্ন প্রার্থীর লোকজন।
ঢাকা-১৩ আসনের মোহাম্মদপুর এলাকার অলিগলিতে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ববি হাজ্জাজ ও ১১ দলীয় জোটের মামুনুল হকের বুথ দেখা গেছে।
এসব বুথে গিয়ে দেখা যায়, ভোটাররা আগ্রহ নিয়ে এসেছেন। প্রার্থীর লোকেরা তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। কার ভোটার নম্বর কত, কে কোন কেন্দ্রের ভোটার এসব জেনে নিচ্ছেন অনেকেই।
একটি বুথে দেখা হয় আদাবরের বাসিন্দা আহসানুল হকের সঙ্গে। তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ভোটের সময় দীর্ঘ লাইন হতে পারে। তাই আগেভাগেই ভোটার স্লিপ নিতে এসেছি। যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারি।’