১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন

ভোটের ফল বাতিলের আবেদন জানিয়ে ৪১ পিটিশন দাখিল

আশুতোষ সরকার
আশুতোষ সরকার

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ওঠা অনিয়মের অভিযোগগুলো এখন আইনি পর্যায়ে গড়িয়েছে। ফলাফলে অসন্তুষ্ট ও পরাজিত প্রার্থীদের অনেকেই প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হচ্ছেন।

বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার ভোটের ফলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এ পর্যন্ত মোট ৪১টি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। এই আবেদনগুলো মূলত বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত আইনি সময়সীমার মধ্যে দাখিল করা এই পিটিশনগুলোতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত লঙ্ঘন, ভোট কারচুপি এবং স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ আনা হয়েছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট পিটিশনগুলো শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন। এর আগে আদালত ব্যালট পেপার, রেজাল্ট শিট এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আসন্ন বিচার প্রক্রিয়ার জন্য প্রমাণ রক্ষায় আদালতের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

আদালত এসব নির্বাচনী পিটিশনের বিস্তারিত শুনানির জন্য এপ্রিল, মে এবং জুন মাসের বিভিন্ন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ মার্চের মধ্যে বিভিন্ন দিনে আদালত এসব আদেশ দেন।

যোগাযোগ করা হলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. শফিকুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, হাইকোর্ট শুনানির সময় সাক্ষী, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করবেন এবং এরপর নির্বাচনী পিটিশনগুলোর রায় দেবেন। ফলে এসব পিটিশন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ হাইকোর্টে প্রমাণিত হলে আদালত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় পুনরায় নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারেন অথবা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করতে পারেন।

ডিএজি শফিকুর আরও জানান, যে প্রার্থীরা হাইকোর্টে হেরে যাবেন, তাদের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আপিল করার সুযোগ থাকবে।

একটি নির্বাচনী পিটিশন চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে ঠিক কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে পারেননি।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এসব নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করেছেন।

দায়ের হওয়া ৪১টি নির্বাচনী পিটিশনের মধ্যে ২৫টি দাখিল করেছেন বিএনপির প্রার্থীরা। বাকিগুলোর মধ্যে ১৩টি জামায়াতে ইসলামীর, ২টি জামায়াত-সংশ্লিষ্ট জোটের শরিক দলগুলোর এবং ১টি পিটিশন একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ থেকে জমা দেওয়া হয়েছে।

যে ২৫ জন বিএনপি প্রার্থী নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন— তানভীর আহমেদ রবিন (ঢাকা-৪), মো. নবী উল্লাহ (ঢাকা-৫), এম এ  কাইয়ুম (ঢাকা-১১), আমিনুল হক (ঢাকা-১৬), ডি এম ডি জিয়াউর (রাজশাহী-৪), মো. হাবিবুর রহমান হাবিব (পাবনা-৪), সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ (কুড়িগ্রাম-২), মো. সাইফুল ইসলাম (রংপুর-৬), মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা (রংপুর-৪), অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মো. শরীফ উদ্দিন (রাজশাহী-১), সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স (ময়মনসিংহ-১), মো. হাসান জাফির তুহিন (পাবনা-৩), সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি (কুষ্টিয়া-৪), মো. ফারুক আলম সরকার (গাইবান্ধা-৫), শাহরিন ইসলাম (নীলফামারী-২), নাদিরা আক্তার (মাদারীপুর-১), মো. শরীফুজ্জামান (চুয়াডাঙ্গা-১), সানসিলা জেবরিন (শেরপুর-১), কপিল কৃষ্ণ মন্ডল (বাগেরহাট-১), মো. আবু তাহের (নেত্রকোনা-৫), মো. কামরুল হুদা (কুমিল্লা-১১), মোতাহের হোসেন তালুকদার (ময়মনসিংহ-২), মো. হারুনুর রশীদ (চাঁদপুর-৪), এম. আকবর আলী (সিরাজগঞ্জ-৪) ও মো. আক্তারুল আলম (ময়মনসিংহ-৬)।


পিটিশন দাখিলকারী ১৩ জন জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন— আব্দুল মান্নান (ঢাকা-৬), এনায়েত উল্লাহ (ঢাকা-৭), জসিম উদ্দিন সরকার (ঢাকা-১০), মো. ইলিয়াস মোল্লা (নারায়ণগঞ্জ-২), ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া (নারায়ণগঞ্জ-৩), দলের সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার (খুলনা-৫), আব্দুর রহিম সরকার (গাইবান্ধা-৪), মো. ফিরোজ হায়দার (লালমনিরহাট-২), আনোয়ারুল ইসলাম রাজু (লালমনিরহাট-১), নূর আহমেদ আনোয়ারী (কক্সবাজার-৪), শামীম সাঈদী (পিরোজপুর-২), ড. সুলতান আহমেদ (বরগুনা-২) এবং মোহাম্মদ কামরুল আহসান (ময়মনসিংহ-৪)।

জামায়াত জোট থেকে দুজন প্রার্থী পিটিশন দাখিল করেছেন— বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হক (ঢাকা-১৩) এবং এলডিপির ওমর ফারুক (চট্টগ্রাম-১৪)। এছাড়া কুমিল্লা-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল মতিন নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে মামলা করেছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।