শেরপুরে ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ

নিজস্ব সংবাদদাতা, মায়মনসিংহ 

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

আজ বুধবার দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম রাসেল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে বসাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। পরে অনুষ্ঠানের সভাপতি ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেল মঞ্চে ওঠেন।

এ সময় অনুষ্ঠান শুরুর ঠিক আগে চেয়ারের সারি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থকের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটি থেকে সংঘর্ষে জড়িয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

সংঘর্ষের সময় মঞ্চের সামনে রাখা কয়েকশ চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থলে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। 

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল বলেন, বিএনপি পরিকল্পিতভাবে তাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের দলের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, জামায়াত পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। তাদের হামলায় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম জানান, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।