র্যাগিংয়ের অভিযোগে রাবির ১৪ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার
র্যাগিংসহ বেশ কিছু অভিযোগে ৯৬ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার, আবাসিক সুবিধা বাতিলসহ বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া অফিসিয়াল সিল ও সই জালিয়াতির অভিযোগে আরও ৩ শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
আজ বুধবার বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগগুলো উপস্থাপন করা হয়। সিন্ডিকেট অভিযোগ পর্যালোচনা করে শাস্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে র্যাগিংয়ের অভিযোগে ১৪ জনকে এক বছরের জন্য সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। সিনিয়র শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে একই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। দুজন শিক্ষার্থীর হলে সিটের আবাসিক সুবিধা বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া ৭৯ জনকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতির সিল ও সই এবং বিভাগের অফিসিয়াল প্যাড জালিয়াতির অভিযোগে ৩ শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বহিষ্কৃত ১৫ জন, আবাসিক সুবিধা বাতিল হওয়া ২ জন এবং জালিয়াতির অপরাধে শাস্তি পাওয়া ৩ জনসহ মোট ২০ জন শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে আর কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সুবিধা পাবেন না।
উপাচার্য বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিংয়ের প্রবণতা বাড়ছে। তাই আমরা এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছি। আমরা কারও ছাত্রত্ব স্থায়ীভাবে বাতিল করিনি। সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে এক বছরের বহিষ্কার। অপরাধী কোনো হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হলে তার হলের আসনও বাতিল করা হবে। পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো হবে।'
উপাচার্য জানান, যাদের সতর্ক করা হয়েছে তাদের শেষবারের মতো কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
'ভবিষ্যতে তারা যদি আবার অপরাধে কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, তবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে,' বলেন তিনি।