প্রাথমিকের শিশুদের বিকাশে ছাপা হবে ‘অভিভাবক নির্দেশিকা’

By স্টার অনলাইন রিপোর্ট

প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ বিকাশে সরকার 'অভিভাবক নির্দেশিকা' ছাপার উদ্যোগ নিয়েছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন বই বিতরণ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এ কথা জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আমরা আপনাদের জন্য কিন্তু বই তৈরি করছি 'অভিভাবক নির্দেশিকা' এবং সেটা শিগগির আপনাদের হাতে পৌঁছাবে। শিশুরা কীভাবে বড় হয়ে ওঠে, তার জন্য আপনাদের করণীয় কী, সেসব বিষয়ে খুব সহজ ভাষায় ছবির মাধ্যমে আমরা বর্ণনা করেছি।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা মনে করি শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর তিনটি—আমাদের শিক্ষার্থী, শিক্ষক আর অভিভাবক। এই তিনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শুধুমাত্র প্রাথমিক শিক্ষা সফল হতে পারে।'

বিধান রঞ্জন বলেন, 'আমরা যদি শিশুদের শিক্ষিত করে তুলতে চাই, সত্যিকার অর্থে তাদের মানুষ করে তুলতে চাই, তাহলে প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্বটাই সবচেয়ে বেশি। সেটা ঠিক মতো না হলে পরবর্তীতে কিছু হয় না। আমরা শিক্ষা বলতে যেমন বুঝি, প্রাথমিকে একটি শিশু প্রথমে স্বাক্ষর হবে। প্রাথমিকের মূল কাজটা হচ্ছে, একটি শিশু তার মাতৃভাষায় সাবলীলভাবে পড়তে পারবে, পড়ে বুঝতে পারবে এবং নিজের ভাষায় তার মনোভাবটা লিখে প্রকাশ করতে পারবে। যদি এটা পারে, সে ভাষাগতভাবে স্বাক্ষর হলো।'

'একইভাবে সে গণিতের সাধারণ নিয়মগুলো অভ্যস্ত করতে পারবে এবং সমস্যা সমাধানের জন্য কোথায় কোন নিয়মটা প্রয়োগ করতে হয়—কোথায় যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ করতে হয় তা বুঝতে পারবে। তাহলে বোঝা গেল সে গণিতে স্বাক্ষর হয়ে উঠছে। প্রাথমিকে আমাদের মূল কাজ হচ্ছে তাকে স্বাক্ষর করে তোলা, তাকে পড়তে শেখানো। যদি আমি তাকে পড়তে শেখাতে পারি, তাহলে পরবর্তী সময় সে পড়ে শিখবে। ফলে আমরা প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পড়তে শেখাবো, পড়ার প্রতি তাদের আগ্রহী করে তুলব, আর তাদের একটা স্বপ্ন নিয়ে মানুষ হতে শেখাব। বড় স্বপ্ন—শুধু ব্যক্তি কেন্দ্রিক না, সমাজকেন্দ্রিক, রাষ্ট্রকেন্দ্রিক,' যোগ করেন তিনি।

শিশুর বিকাশে সহশিক্ষা কার্যক্রমের উল্লেখ করে বিধান রঞ্জন বলেন, 'আমরা আশা করি, প্রাথমিক শিক্ষায় যে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি, আপনাদের সবার সহযোগিতার মাধ্যমে সেটা আমরা করতে পারবো। সত্যি যদি আমরা প্রাথমিক শিক্ষায় যেমন পরিবর্তনটা আনতে চাচ্ছি তা পারি, তাহলে দেখবেন উপরের স্তরেও আমাদের শিক্ষার মানের উন্নতি ঘটবে। আর যদি আমরা তা না পারি, তাহলে কিন্তু আমরা আমাদের দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারবো না।'

'যেমন আমরা দেখছি যে, আমাদের দেশে অনেক মানুষ উচ্চ শিক্ষা লাভ করছে কিন্তু সেই অনুযায়ী তার যোগ্যতা অর্জিত হচ্ছে না। ফলে অনেক অনেক ডিগ্রি নিয়েও সে খুব সুবিধা করতে পারছে না। ব্যাপারটা যেন এমন না ঘটে সে জন্য আমাদের প্রথমে প্রাথমিকের দিকে নজর দিতে হবে, আমরা নজর দিচ্ছি,' যোগ করেন তিনি।