মধ্যপাড়া গ্রানাইট খনি: বিস্ফোরক ফুরিয়ে যাওয়ায় উত্তোলন স্থগিত
বিস্ফোরক ফুরিয়ে যাওয়ায় শনিবার থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) পাথর উত্তোলন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
আজ ভোর ৬টার দিকে উত্তোলন স্থগিত করা হয়।
এমজিএমসিএল-এর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, খনিতে ভূগর্ভস্থ বিস্ফোরণের জন্য অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ব্যবহৃত হয়। বিস্ফোরক সরবরাহ না থাকায় শনিবার সকাল থেকে পেট্রোবাংলার অধীনে এই খনির শিলা উত্তোলন স্থগিত করা হয়েছে।
জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) পাথর উৎপাদন, খনির উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চুক্তিবদ্ধ কোম্পানি। খনি কর্তৃপক্ষ জিটিসিকে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সরবরাহ না থাকার কথা জানালে জিটিসি আজ শনিবার অনির্দিষ্টকালের জন্য উত্তোলন স্থগিত করার পদক্ষেপ নেয়।
চুক্তির আওতায় জিটিসিকে বিস্ফোরক সরবরাহ করবে এমজিএমসিএল।
২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরঞ্জাম সময়মতো সরবরাহ না করার কারণে জিটিসিকে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো শিলা উত্তোলন স্থগিত করতে হলো।
সময়মত যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করতে পারায় ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময় খনি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি। প্রায় ২ বছর পর, আমদানি করে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করলে ২০১৭ সালের শেষের দিকে সীমিত আকারে উত্তোলন শুরু হয়।
এমজিএমসিএল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরক পাওয়ার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আবার কার্যক্রম শুরু হবে। বিশ্বব্যাপী বিস্ফোরকের ঘাটতির জন্য এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তারা।
মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের একজন মহাব্যবস্থাপক বলেন, এমজিএমসিএল কর্তৃপক্ষ বিস্ফোরক সংগ্রহের জন্য গত ছয় মাস ধরে কাজ করছে। গত ছয় মাসে তিন বার টেন্ডার করা হলেও দরপত্রদাতাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে, কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সরাসরি ভারত ও থাইল্যান্ডের মতো অন্যান্য দেশের বিভিন্ন বিস্ফোরক প্রস্তুতকারক কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে। অবশেষে, থাইল্যান্ড বিস্ফোরক সরবরাহ করতে রাজি হলেও তারা আগের হারের তুলনায় দ্বিগুণ দাম চাচ্ছে এবং তা দিয়েই এই বিস্ফোরক আমদানি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এমজিএমসিএলের বছরে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার বিস্ফোরক প্রয়োজন হয়।
এমজিএমসিএল-এর মহাব্যবস্থাপক আবুল তালেব ফরাজী বলেন, অর্ডারকৃত চালানটি ২১ মার্চের পর যে কোনো দিন চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে।
'আমরা বেশ আশাবাদী যে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শিলা উত্তোলন আবার শুরু হবে', তিনি বলেন।
বেশিরভাগ জাহাজের বিস্ফোরক বহন করার অধিকার নেই বা তারা করতে চায় না। সেটাও বিলম্ব হওয়ার একটি কারণ বলে তিনি জানান।
ভারত এবং ভুটানের মতো বিভিন্ন দেশ থেকে পাওয়া অন্য যে কোনও শিলার তুলনায় মধ্যপাড়ার পাথরের মান অনেক ভালো হওয়ায় এর চাহিদা অনেক বেশি।
এমজিএমসিএল-এর বার্ষিক শিলা উত্তোলন প্রায় এক মিলিয়ন টন। যদিও বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ১ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন টন।