ইরানের নিরাপত্তা প্রধান লারিজানির ‘মৃত্যুর দাবি’ নিয়ে যা জানা গেল

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি ‘নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। তবে ইরানের সরকার বা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আনুষ্ঠানিকভাবে লারিজানির মৃত্যুর বিষয়টি এখনো নিশ্চিত না করায় ধোঁয়াশা কাটছে না। বরং ইসরায়েলের এ দাবির পরপরই লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ইরানি নাবিকদের নিয়ে হাতে লেখা একটি নোট পোস্ট করা হয়। এরপর বিষয়টি আরও ধোঁয়াশা তৈরি হয়।

বার্তাসংস্থা এএফপিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে লারিজানির ‘মৃত্যুর বিষয়ে এখন পর্যন্ত যা যা জানা গেছে

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি

আজ মঙ্গলবার টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, ‘আমাকে চিফ অব স্টাফ (ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর) এই মাত্র জানালেন যে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান লারিজানি ও বাসিজ বাহিনীর প্রধান (গোলামরেজা) সোলেইমানিকে গতকাল রাতে হত্যা করা হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ

 

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতাকে ‘হত্যা প্রকল্পের প্রধান আখ্যা দিয়ে কাৎজ আরও বলেন, ‘ওই দুই নেতা এখন খামেনির সঙ্গে জাহান্নামের অতল গহ্বরে অবস্থান করছেন।

নেতানিয়াহুর বক্তব্য

দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশিত হয়, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এসেছে।

নেতানিয়াহু।

 

ছবিতে দেখা যায়, নেতানিয়াহু ফোনে কথা বলছেন এবং ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়েছেতিনি ‘ইরানি শাসনব্যবস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্মূলের নির্দেশ দিচ্ছেন।

পরে এক টেলিভিশন ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আজ সকালে আমরা আলি লারিজানিকে নির্মূল করেছি, তিনি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান। এই বাহিনীই মূলত ইরান পরিচালনা করে।

লারিজানিকে হত্যার মধ্য দিয়ে ইরানিদের সরকার উৎখাতের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা উৎখাত করা সহজ হবে না এবং তা একদিনে ঘটবে না। তবে ইসরায়েল যদি এই কৌশল অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরানিদের নিজেদের ভাগ্য নিজেরা নির্ধারণ করার সুযোগ তৈরি হবে।

নিশ্চুপ তেহরান

ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে লারিজানির ‘মৃত্যুর দাবির বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।

দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও আলি লারিজানির ‘মৃত্যু নিয়ে ইসরায়েলি দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেই।

লারিজানির পোস্ট

ইসরায়েলের দাবি আসার পরপরই লারিজানির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টে একটি হাতে লেখা বার্তা পোস্ট করা হয়। সেখানে ভারত মহাসাগরে মার্কিন সাবমেরিনের হামলায় নিহত ইরানি নাবিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

আলি লারিজানির পোস্ট

 

পোস্টে হামলায় ইরানি যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা-এর ৮৪ নাবিক নিহত হন বলে উল্লেখ করা হয়।

তবে ওই পোস্টে লারিজানির ‘মৃত্যুর দাবির বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

নোটটি কখন লেখা হয়েছিল, কে এটি পোস্ট করেছে বা লারিজানি বেঁচে আছেন তা দেখানোর জন্যই এটি করা হয়েছে কি নাএসব বিষয় স্পষ্ট নয়।

ইরানের ‘ডি ফ্যাক্টো নেতা লারিজানিকে টার্গেট

বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কার্যত ইরানের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন লারিজানি এবং কৌশলগত সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন।

৬৮ বছর বয়সী লারিজানি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক নীতি ও কূটনীতির কেন্দ্রে ছিলেন।

লারিজানি ও আলি খামেন্

 

যুদ্ধ শুরুর পর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হলে লারিজানির প্রভাব আরও বেড়ে যায়।

নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা না গেলেও গত সপ্তাহে তেহরানে এক সমাবেশে লারিজানিকে দেখা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, লারিজানির ওপর হামলার পরিকল্পনা প্রথমে রোববার রাতে করা হয়েছিল, শেষ মুহূর্তে তা পেছানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার বিকেলে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়লারিজানি তার ব্যবহৃত একাধিক গোপন আস্তানার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছাতে যাচ্ছেন। পরে সেই স্থানে হামলা চালানো হয়। ধারণা করা হচ্ছে, হামলার সময় তিনি তার ছেলের সঙ্গে সেখানে ছিলেন।

ইসরায়েলি আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘এই হামলায় তার বেঁচে থাকার কোনো সম্ভাবনাই নেই।

মঙ্গলবার ভোরে লারিজানির ‘মৃত্যু’র বিষয়ে ইসরায়েলি দাবির খবরটি ছড়িয়ে পড়ে।