অনেকদিনের অযত্নের মাশুল দিতে হয়েছে ওয়ার্নকে!

স্পোর্টস ডেস্ক

থাইল্যান্ডের দ্বীপে অবকাশ কাটাতে গিয়ে আকস্মিকভাবে মৃত্যু হওয়া কিংবদন্তি স্পিনার শেন ওয়ার্নের হার্টে লম্বা সময় ধরেই বাসা বেধেছিল রোগ। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসক ডা.পিটার ব্রুকনার জানান, রাতারাতি এই সমস্যায় পড়েননি ওয়ার্ন, অনেকদিনের অযত্ন, ক্ষতিকর খাদ্যাভ্যাস তাকে টেনে নিয়ে গেছে এই পরিস্থিতিতে। 

প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক বলা হলেও পরিবার শুরুতে বিস্তারিত জানায়নি। পরে জানানো হয় হার্টের সমস্যা ও শ্বাসকষ্টের রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি।

এই সমস্যার কারণে মৃত্যুর সপ্তাহ খানেক আগেও চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়েছিল তাকে। ওয়ার্নের হার্টের যে অবস্থা হয়েছিল তাতে এমন ঘটনা হয়ে পড়েছিল অনুমেয়, অজি গণমাধ্যম ট্রিপল এম পার্থকে এমনটা জানান ব্রুকনার, 'ওয়ার্নির যদি হার্টের সমস্যা থাকে, যেটা আসলে ছিল। সেটা থাইল্যান্ডে রাতারাতি হয়নি। গত ২০-৩০ বছর ধরে ধূমপান, ক্ষতিকর খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি কারণে হয়েছে।'

ওয়ার্নের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও একসময়ের সতীর্থ ইয়ান হিলিও ওয়ার্নের কম বয়েসে মৃত্যুর সম্ভাবনা নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন।

হিলি জানান, মৃত্যুর খবর শুনে তিনি মর্মাহত হয়েছিলেন কিন্তু এত কম বয়েসে তার চলে যাওয়ায় চমকে উঠেননি। কারণ ওয়ার্নের লাইফস্টাইল সম্পর্কে তার একটা জানাশোনা ছিল, 'কম বয়েসে ওর চলে যাওয়ায় আমি চমকে যাইনি। কারণ ও নিজের শরীরের যত্ন নিত না।'

অবশ্য গত কয়েকদিন ধরে ওজন কমানোর চেষ্টায় ছিলেন ওয়ার্ন। জীবন যাপনে পরিবর্তন আনার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। সেই সুযোগ পরে আর তার হয়নি।

চিকিৎসক ব্রুকনারের মতে, ওয়ার্নের এই মৃত্যু সবার জন্যই সতর্ক হুয়ার সময়। সবাইকে বাৎসরিক পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এবং স্বাস্থ্যের উপর নজর রাখতে হবে।

এদিকে মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর অবশেষে দেশে ফিরছে ওয়ার্নের মরদেহ। বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ওয়ার্নের মরদেহ একটি বিশেষ বিমানে করে থাইল্যান্ড থেকে রওয়ানা হয় মেলবোর্নের পথে।

মেলবোর্নে পৌঁছে তার মরদেহ রাখা হবে হিমাগারে। ৩০ মার্চ ঐতিহ্যবাহী মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে লক্ষ জনতার উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদায় জানানো হবে ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা এই লেগ স্পিনারকে।