অবিশ্বাস্য কাণ্ডের পর শানাকা বললেন, ‘পিচটা পড়তে পেরেছিলাম’
শেষ ৩ ওভারে দরকার ছিল ৫৯ রানের। ক্রিজে থাকা দাসুন শানাকা ১২ বলে ৬ রান করে রীতিমতো ধুঁকছেন। ওই অবস্থায় শ্রীলঙ্কার পক্ষে বাজি ধরার লোক থাকার কথা না। কিন্তু অবিশ্বাস্য রঙ বদলানো পরিস্থিতিতে এক বল আগেই দলকে জিতিয়ে দেন শানাকা। খেলেন বিস্ফোরক এক ইনিংস। সাবেক অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনে মনে করছেন, সমালোচনার জুতসই জবাব তার এই ব্যাটিং। শানাক নিজে বলছেন, পিচটা পড়তে পারায় ধুঁকলেও আশা ছিল তার।
শনিবার পাল্লেকেলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশড এড়ানোর ম্যাচেও বিপাকে ছিল শ্রীলঙ্কা। ১৭৭ রান তাড়া করতে গিয়ে ফিকে হয়ে গিয়েছিল আশা। সেই ম্যাচ তারা জিতে যায় ১ বল আগেই। আগের ম্যাচগুলোতে দল জিততে না পারায় তীব্র সমালোচনায় থাকা অধিনায়ক শানাকাই বনে যান নায়ক।
এই ম্যাচে প্রথম তিন ওভার দারুণ বল করেছিলেন জশ হ্যাজেলউড। ৩ ওভারে ৩ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ২ উইকেট। কিন্তু শেষ ওভারে বদলে যায় ছবি। ১৮তম ওভারে তাকে টানা দুই ছক্কা আর দুই চার মারেন শানাকা। আরও দুই সিঙ্গেলে আসে ২২ রান।
জাই রিচার্ডসনের পরের ওভার থেকে আসে ১৮ রান। শেষ ওভারে তবু দরকার ছিল ১৯ রানের। ওই ওভারেও দুই চার, এক ছক্কা মারেন শানাকা। দুই সিঙ্গেল আর তিন ওয়াইডে আসে বাকি রান।
প্রথম ১২ বলে ৬ রান করা শানাকা শেষ পর্যন্ত ২৫ বলে অপরাজিত থাকেন ৫৪ রানে। শেষ ১৩ বলেই তিনি তুলেন ৪৮ রান! আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শেষ তিন ওভারে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডও হয়ে যায় শ্রীলঙ্কার।
এমন অবিশ্বাস্য জয়ের পর টুইট করে শানাকাকে অভিনন্দন জানান সাবেক অধিনায়ক জয়াবর্ধনে, 'সকল সমালোচনার দারুণ জবাব শানাকা। দারুণ খেলেছে ছেলেরা, অসাধারণ জয়। বিশ্বাস রাখ নিজেদের প্রক্রিয়া আর স্কিলে।'
ম্যাচ শেষে শানাকা জানান, প্রথম দিকে তাকে দেখে ধুঁকছেন মনে হলেও আসলে বিশ্বাস ছিল ভেতরে, 'ক্রিজে গিয়ে আমি সময় নিতে চেয়েছিলাম। আমার স্ট্রাইকরেট মনে হয় ছিল পঞ্চাশ। পিচটা পড়তে পারছিলাম, তাই উইকেট ছুঁড়ে দেইনি। শেষ দিকে কাজটা করার আশা তাই ছিল, সেটা করতে পেরে ভাল লাগছে।'