'অশ্লীল ছবি ও বার্তা' পাঠানোর পুরনো ঘটনার জেরে পেইনের পদত্যাগ

স্পোর্টস ডেস্ক

দেশের মাটিতে অ্যাশেজ শুরু হতে বাকি নেই আর তিন সপ্তাহও। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সময়মতো মাঠে নামার জন্য চোট থেকে সেরে ওঠার লড়াইয়ে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার টিম পেইন। কিন্তু আচমকা ঘটল বিপত্তি। চার বছর আগের এক বিতর্কিত ঘটনা প্রকাশিত হলো অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যমে। সেসময় এক নারী সহকর্মীকে অশ্লীল ছবি ও বার্তা পাঠিয়েছিলেন পেইন। যদিও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও ক্রিকেট তাসমানিয়ার তদন্তের পর অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন, তবুও সেই ঘটনার জেরে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি।

শুক্রবার হোবার্টে গণমাধ্যমের কাছে পদত্যাগের কথা জানান উইকেটরক্ষক-ব্যাটার পেইন। কান্নাভেজা কণ্ঠে লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন তিনি, 'আজ আমি অস্ট্রেলিয়ার ছেলেদের টেস্ট দলের নেতৃত্ব থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছি। এটি অবিশ্বাস্যরকমের কঠিন একটি সিদ্ধান্ত। তবে এটিই আমার জন্য, আমার পরিবারের জন্য ও ক্রিকেটের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত।'

নেতৃত্ব ছাড়ার কারণ জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, 'আমার সিদ্ধান্তের কারণ জানাতে গেলে, প্রায় চার বছর আগে, তৎকালীন এক সহকর্মীর সঙ্গে কিছু ক্ষুদে বার্তা আদান-প্রদান করেছিলাম। সেসময় এই ব্যাপারটি নিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ইন্টিগ্রিটি ইউনিট বিশদ তদন্ত করেছিল, যেখানে আমি সম্পূর্ণরূপে অংশ নিয়েছিলাম।'

'ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও ক্রিকেট তাসমানিয়ার মানব সম্পদ বিভাগ একই সময়ে তদন্ত করে দেখেছিল যে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আচরণবিধি ভাঙিনি আমি। যদিও রায়ে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হই, তবুও সেসময়ের ওই ঘটনায় আমার গভীর অনুশোচনা হয়েছিল। আর আমি এখনও অনুতপ্ত।'

ওই ঘটনা গণমাধ্যমে উঠে আসায় বিব্রত পেইন, 'সেসময় স্ত্রী ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলাম এবং ক্ষমা ও সমর্থনের জন্য তাদের কাছে ভীষণ কৃতজ্ঞ আমি। আমরা ভেবেছিলাম, এই ঘটনা অতীত হয়ে গেছে এবং দলের প্রতি পুরো মনোযোগ দিতে পারব। গত তিন-চার বছর ধরে সেটাই করে এসেছি।'

'কিন্তু সম্প্রতি জানতে পারি, গোপন সেই বার্তাগুলো প্রকাশিত হয়ে গেছে। ২০১৭ সালে আমার ওই আচরণ অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট অধিনায়কের মানদণ্ডের সঙ্গে কিংবা বৃহত্তর সম্প্রদায়ের সঙ্গে যায় না। আমার স্ত্রী, পরিবার ও অন্যান্যদের যে ব্যথা ও যন্ত্রণা দিয়েছি, সেসবের জন্য আমি সত্যিই গভীরভাবে দুঃখিত। এই খেলাটার ভাবমূর্তি কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকলেও দুঃখপ্রকাশ করছি।'

সবকিছু মিলিয়ে নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোই তার কাছে সঠিক সিদ্ধান্ত, 'আমি বিশ্বাস করি, অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোই সঠিক সিদ্ধান্ত। এটি এই মুহূর্ত থেকে কার্যকর হচ্ছে। অ্যাশেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে আমার ঘটনা দলের জন্য উটকো ঝামেলা ডেকে আনুক সেটা আমি চাই না।'

সতীর্থদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি ক্ষমা চান পেইন, 'অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব আমি ভালোবেসেছি। এটি আমার খেলোয়াড়ি জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। সতীর্থদের সমর্থনের জন্য তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ এবং একসঙ্গে যা অর্জন করেছি, সেসব নিয়ে আমি গর্বিত।'

'আশা করছি, সতীর্থরা আমার অবস্থা বুঝবে এবং ওদের কাছে ক্ষমা চাইছি। অ্যাশেজের আগে আমার অতীত আচরণ আমাদের খেলায় প্রভাব ফেলছে বলে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ভক্তদের কাছে গভীরভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি। ভক্ত-সমর্থক ও পুরো ক্রিকেট সম্প্রদায়কে হতাশ করায় আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি।'

৩৬ বছর বয়সী পেইনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। তবে নেতৃত্ব ছাড়লেও দলে থেকে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানান তিনি। এই ঘটনার পর তার চাওয়া পূরণ হবে কিনা তা নিয়ে অবশ্য থাকছে ঘোর সংশয়। নতুন অধিনায়কের নামও শিগগিরই ঘোষণা করবে অস্ট্রেলিয়ান বোর্ড। টেস্টের সহ-অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা পেসার প্যাট কামিন্স কামিন্স এগিয়ে আছেন ওই দৌড়ে।