আইপিএল বয়কট করার কোনো মানেই হয় না: সাকিব

ক্রীড়া প্রতিবেদক

আইপিএলের সবশেষ ২০২২ সালের আসরে খেলা হয়নি সাকিব আল হাসানের। খেলোয়াড় নিলামের দ্বিতীয় দিনেও অবিক্রীত থেকে যান বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার। তবে শেষবার দল না পেলেও বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন না তিনি। আবেগ দিয়ে সব সময় সবকিছু বিবেচনা করা যায় না উল্লেখ করে সাকিব বলেছেন, আইপিএল বয়কট করার কোনো মানেই হয় না।

গত ফেব্রুয়ারিতে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল আইপিএলের দুই দিনব্যাপী মেগা নিলাম। সেখানে ২ কোটি ভিত্তিমূল্যের সাকিবকে পেতে আগ্রহ দেখায়নি কেউ। ফলে ভারতের এই ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ মেলেনি তার।

বাংলাদেশের চলমান জিম্বাবুয়ে সফর থেকে ছুটি নিয়েছেন সাকিব। তিনি বর্তমানে অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে এক অনুষ্ঠানে ঢালিউডের তারকা অভিনেতা শাকিব খানের সঙ্গে অতিথি হিসেবে ছিলেন তিনি। শুক্রবারের ওই অনুষ্ঠানে একজন ক্রিকেট ভক্ত সাকিবের কাছে জানতে চান, আইপিএলের আগামী আসরের নিলামে দল পেলে তিনি খেলবেন কিনা।

সাকিব উত্তরে জানান, আইপিএলে খেলার সুযোগ পেলে কোনো ক্রিকেটার তা হাতছাড়া করতে চান না, 'দেখুন, আসলে আবেগের জায়গাটা কম। আবেগ দিয়ে সব সময় সব কিছু বিবেচনা করা যায় না। আইপিএল এমন একটা মঞ্চ এখন, আপনি স্বীকার করুন বা না করুন, পুরো বিশ্ব ক্রিকেটই চায় এমন একটা জায়গায় খেলতে। এখানে খেলাটা সব খেলোয়াড়ের জন্যই ভালো একটা সুযোগ। এখান থেকে যে অভিজ্ঞতাটা আপনি পান, সেটা অনেক বড় কিছু।'

আইপিএলের ২০১৯ সালের আসরে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলেছিলেন সাকিব। কিন্তু প্রায় পুরো মৌসুম তাকে বসে থাকতে হয়েছিল বেঞ্চে। মাত্র তিনটি ম্যাচে একাদশে ছিলেন তিনি। কিন্তু হেলায় সময় নষ্ট করেননি সাকিব। গুরু মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনকে ভারতে উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তার অধীনে অনুশীলন করার পাশাপাশি বিশ্বসেরা তারকাদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইতিহাসগড়া পারফরম্যান্স উপহার দেন সাকিব।

ওই প্রসঙ্গ টেনে আইপিএল বয়কট করার বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে সাকিব বলেন, 'আপনি যদি দেখেন, ২০১৯ বিশ্বকাপের আগেও আমি ম্যাচ খেলিনি। পুরো দেড় মাস আমি ওখানে বসেছিলাম। ওখানে থাকার কারণে জনি বেয়ারেস্টো, রশিদ খান, ডেভিড ওয়ার্নার, কেইন উইলিয়ামসন... ওদের সাথে থেকে দেখেছি যে বিশ্বসেরা কীভাবে হওয়া যায়। বিশ্ব ক্রিকেটকে যে ওরা শাসন করে, সেটা কী কারণে করে, সেটা আমি ওখান থেকেই জেনেছি। ওখানে যদি না যেতাম, কখনোই জানতে পারতাম না। চেষ্টা করেছি কীভাবে ওদের কাছাকাছি যাওয়া যায়। আমার মনে হয়, সেটা আমাকে অনেকটা কাজে দিয়েছে। ২০১৯ বিশ্বকাপে তার ফল আমি পেয়েছি। আইপিএল বলেন, সিপিএল বলেন, খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে যে অভিজ্ঞতা পাওয়া যায় তাতে দেশের ক্রিকেটেরই লাভ হবে। শুধু আইপিএল না, অন্য যে কোনো টুর্নামেন্ট বয়কট করার কোনো মানেই হয় না।'

৩৫ বছর বয়সী সাকিবের মতে, শেখার কোনো শেষ নেই, 'শেখার তো শেষ নেই। আপনি যত নতুন জায়গায় যাবেন, ততই নতুন কিছু শিখতে পারবেন। আমি নিশ্চিত আপনি যখন নিউইয়র্কের বাইরে ডালাস, ক্যালিফোর্নিয়া বা অন্য কোথাও যাবেন, কিছু না কিছু শেখার আসবেই। এই সুযোগগুলো হাতছাড়া করা ঠিক না। পৃথিবীর সব জায়গাতেই কিছু শেখার আছে। তো আপনি কেন সুযোগ হাতছাড়া করবেন।'

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে শেষবার আইপিএলে খেলেছিলেন সাকিব। কিন্তু কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে ব্যাটে-বলে আলো ছড়াতে ব্যর্থ হন তিনি। ফলে একাদশে তার সুযোগ মেলেনি নিয়মিত। আট ম্যাচে তিনি ব্যাট হাতে করেছিলেন মোটে ৪৭ রান। আর বল হাতে তার মিলেছিল কেবল ৪ উইকেট।