আজ ইতিহাস গড়ার দিন, আমরা গড়েছি: নিগার
মেয়েদের ক্রিকেটে বাংলাদেশের পথ চলা খুব সরল নয়। আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা হলেও নানান সংকট পেরিয়ে এবারই প্রথম মিলে ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ। সেই সুযোগটা প্রথম জয়ে রাঙাতে মরিয়া ছিলেন ক্রিকেটাররা। তা করে ইতিহাস গড়তে পারার আনন্দে উদ্বেল নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।
বিশ্বকাপের সূচি হওয়ার পর এই ম্যাচটার দিকেই নিশ্চিতভাবে নজর ছিল বাংলাদেশের মেয়েদের। অংশ নেওয়া বাকি দলগুলোর তুলনায় পাকিস্তানিই তুলনামূলক কাছাকাছি শক্তির। তাদের বিপক্ষে আছে সাম্প্রতিক সাফল্যও।
মাঠের খেলায় স্নায়ুচাপ রেখে সেটা করে দেখিয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে হারিয়েছে ৯ রানে। এমন জয়ের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আনন্দ প্রকাশে ভাষা হারিয়ে ফেলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার, '(আনন্দ) ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। বিশ্বকাপে আমাদের প্রথম জয়। আজকে ইতিহাস গড়ার দিন, আমরা গড়েছি। এই মোমেন্টাম আমরা টুর্নামেন্ট জুড়ে বয়ে নিতে চাই।'
এদিন আগে ব্যাট করে ২৩৪ রানে পুঁজি করেছিল টাইগ্রেসরা। হ্যামিল্টনের মাঠে আগের ম্যাচগুলোর দিকে নজর ছিল নিগারের। তিনি জানতেন এখানে স্পিনাররা পান বাড়তি সুবিধা। স্পিন শক্তিতে বলিয়ান বাংলাদেশ তাই এই পুঁজি নিয়েই ম্যাচ জেতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়ে, 'এখানকার দুটি ম্যাচ আমি দেখেছি। খেয়াল করেছি, স্পিনাররা এখানে সুবিধা পায়। আমার মনে হয়েছে, সে যদি নিজের সেরাটা দিতে পারে, আমরা তাকে খুব ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারি।'
পাকিস্তানের বিপক্ষে নিয়মিতই খেলা পড়ে মেয়েদের। জিম্বাবুয়ের মাঠে সর্বশেষ দেখাতেও তাদের ধরাশায়ী করেছিল বাংলাদেশ, নিগার জানালেন এই জায়গা থেকে এবার তাদের ছুটে চলার পালা, 'আমরা পাকিস্তানকে খুব ভালো করে জানি। পরস্পরের সঙ্গে অনেক খেলেছি আমরা। সবশেষ স্মৃতিও দারুণ, বাছাইপর্বে ওদেরকে শেষ ওভারে হারিয়েছিলাম। আজকের জয়ও রোমাঞ্চকর। মেয়েরা কঠোর পরিশ্রম করেছে। এখন সামনে এগিয়ে যেতে চাই।'
টুর্নামেন্টে ম্যাচ বাকি এখনো চারটি। প্রতিপক্ষ সবগুলোই কঠিন। তবে এই মোমেন্টাম ধরে রাখতে চান নিগার, 'জয় সবসময়ই আত্মবিশ্বাস জোগায়। এরকম কিছুই আমরা চাচ্ছিলাম। এই মোমেন্টামই আমরা চাচ্ছিলাম। আমাদের দলটি ভালো, ক্রমে উন্নতি করছি। আমরা জানি যে আমাদের সামর্থ্য আছে।'