আরিফুলের ২ রানের আক্ষেপ, রাজার ৫ উইকেটের আনন্দ

স্পোর্টস ডেস্ক

নাঈম ইসলাম ও নাসির হোসেন ফিফটি হাঁকানোর পর ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন আরিফুল হকও। আক্রমণাত্মক ইনিংসে সেঞ্চুরির সুবাস জাগালেও হতাশায় পুড়তে হলো তাকে। তার নৈপুণ্যের পরও রংপুর বিভাগ লিড নিতে পারল না ঢাকা বিভাগের দুই স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু ও শুভাগত হোম ভেলকি দেখানোয়।

মঙ্গলবার সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে জাতীয় লিগের (এনসিএল) দ্বিতীয় রাউন্ডের তৃতীয় দিন শেষে ১১১ রানে এগিয়ে আছে ঢাকা। দ্বিতীয় ইনিংসে তারা তুলেছে বিনা উইকেটে ৩৮ রান। ক্রিজে আছেন আব্দুল মজিদ ১৭ ও রনি তালুকদার ২১ রানে।

আগের দিনের ৩ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে খেলতে নেমে রংপুরের প্রথম ইনিংস থামে ৩২১ রানে। ঢাকা তাদের প্রথম ইনিংসে তুলেছিল ৩৯৪ রান।

নাঈম ও নাসির চতুর্থ উইকেটে গড়েন ৮২ রানের জুটি। নাঈমকে ফিরিয়ে দুজনকে বিচ্ছিন্ন করেন অপু। ১৪০ বলে ৫৫ রান আসে তার ব্যাট থেকে। এরপর আরিফুলের সঙ্গে নাসিরের জুটিতে আসে ৬৬ রান। ১৬৪ বলে ৬৬ করা নাসিরকে বিদায় করেন শুভাগত।

বাকিদের নিয়ে ছোট ছোট জুটি গড়ে রংপুরের সংগ্রহ তিনশ পার করাতে মুখ্য ভূমিকা রাখেন আরিফুল। অপুর শিকার হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৯৮ রান। ১১৮ বলের ইনিংসে তিনি মারেন পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কা। শুভাগত ও অপু দুজনেই নেন চারটি করে উইকেট।

সিলেট একাডেমি মাঠে প্রথম স্তরের আরেক ম্যাচে মিলছে রোমাঞ্চের আভাস। আগামীকাল শেষদিনে স্বাগতিকদের জয়ের জন্য দরকার ৯১ রান। আর খুলনা বিভাগের দরকার ৭ উইকেট।

দ্বিতীয় দিনের ৩ উইকেটে ৪৬ রান নিয়ে নামা খুলনাকে ডানা মেলতে দেননি পেসার রেজাউর রহমান রাজা। তিনি ৫১ রানে নেন পাঁচ উইকেট। তার দারুণ বোলিংয়ে প্রতিপক্ষের দ্বিতীয় ইনিংসে থামে ১৭৮ রানে।

এক পর্যায়ে ৮৮ রানে ৭ উইকেট খুইয়ে ফেলেছিল খুলনা। সেখান থেকে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি দেন জিয়াউর রহমান ও নাহিদুল ইসলাম। অষ্টম উইকেটে ৬৩ রানের জুটি গড়েন দুজনে। নাহিদুল ৭৮ বলে ৪৮ ও জিয়াউর ৫১ বলে ৪৭ রান করেন।

২০৩ রানের লক্ষ্য পাওয়া সিলেট প্রথম বলেই হারায় ইমতিয়াজ হোসেনের উইকেট। আরেক ওপেনার আসাদুল্লাহ আল গালিবকেও ইনিংস লম্বা করতে দেননি পেসার আল আমিন হোসেন। থিতু হওয়া অমিত হাসানকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর জুটি বেঁধে খেলছেন জাকির হাসান ও জাকের আলী অনিক।

কক্সবাজার একাডেমি মাঠে দ্বিতীয় স্তরের ম্যাচে বৃষ্টির কারণে খেলা হতে পারে ২৫ ওভারের কিছু বেশি। ৭ উইকেটে ২৮৩ রান নিয়ে নেমে ঢাকা মেট্রো প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ৩৩৯ রানে। দলকে লিড দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও আবু হায়দার রনি। অষ্টম উইকেটে তারা গড়েন ১১৬ রানের জুটি।

বিপ্লব ১৬১ বলে ৬৫ ও রনি ৯০ বলে ৬৮ রান করেন। দুজনকেই ফেরান বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। সবমিলিয়ে চার উইকেট নিতে তার খরচা ১১৫ রান। সমানসংখ্যক উইকেট নেন সানজামুল ইসলামও।

রাজশাহী দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেটে ২৪ রান তোলার পর আর খেলা মাঠে গড়াতে পারেনি। তারা পিছিয়ে আছে ৬৩ রানে। জহুরুল ইসলাম ১২ ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৮ রানে খেলছেন।