আলাউদ্দিন বাবুর নৈপুণ্যে হারল সৌম্য-হাফিজদের মোহামেডান
বিপিএলে দিয়ে এবার ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আলাউদ্দিন বাবু। সে ধারা ধরে রেখেছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ঝড় তুলে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেওয়ার অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। এরপর মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেওয়াতেও রেখেছেন দারুণ ভূমিকা। তাতে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটিকে হারিয়ে এবারের আসর করে করেছে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব।
বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে ৪১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৫০ রান করে শাইনপুকুর। জবাবে ৯ বল বাকি থাকতে ২০৯ রানে গুটিয়ে যায় মোহামেডান।
এদিন ব্যাট হাতে যখন উইকেটে নামেন আলাউদ্দিন তখন শাইনপুকুরের সংগ্রহ ছিল ৪৪ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭২ রান। সেখান থেকে এক প্রান্তে ঝড় তুলে দলীয় সংগ্রহ শেষ পর্যন্ত ঠেকান আড়াইশতে। এরপর মোহামেডানের দুই সেরা ব্যাটারকেই ফেরান আলাউদ্দিন। পাকিস্তান থেকে উড়িয়ে আনা মোহাম্মদ হাফিজকে ফেরানোর পর পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ানো হাফসেঞ্চুরিয়ান পারভেজ আহমেদ ইমনকেও ফেরান তিনি।
অথচ এবার বেশ তারকাখচিত দল গড়েছিল মোহামেডান। যদিও তাদের ছয় জন গিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। কিন্তু সেরা তারকাদের ছাড়াও দলটি ছিল বেশ শক্তিশালী। তবে মাঠে তার প্রতিফলন দেখাতে পারলো না দলটি। বড় হারে আসর শুরু করে তারা।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা শাইনপুকুরের সূচনাটা ছিল বেশ সাবধানী। মন্থর গতিতে এগিয়ে যেতে থাকেন দুই ওপেনার আনিসুল ইসলাম ও রাকিন আহমেদ। দলীয় ৩০ রানে এ জুটি ভাঙেন সৌম্য সরকার। এরপর ১৪ রানের ব্যবধানে আরও দুটি উইকেট তুলে নিয়ে শাইনপুকুরকে চেপে ধরেছিল মোহামেডান।
চতুর্থ উইকেটে রাকিনকে নিয়ে সে চাপ থেকে দলকে টেনে তোলেন জিম্বাবুইয়ান রিক্রুট সিকান্দর রাজা। তবে রানের গতি সে অর্থে সচল করতে পারেননি তারা। প্রথম একশ রান করতেই খেলতে হয় ৩৩ ওভার পর্যন্ত।
শাইনপুকুরকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেওয়ার মূল কৃতিত্ব অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার আলাউদ্দিনের। অবশ্য অবশ্য সাজ্জাদুল হক রিপনও খেলেছেন অসাধারণ এক ইনিংস। রাকিন আউট হওয়ার পর মাঠে নামেন তিনি। রাজার সঙ্গে ৩৫ রানের জুটি গড়ার পর নাঈম হাসানকে নিয়ে গড়েন ৪৪ রানের জুটি।
এরপর আলাউদ্দিন বাবু নামেন মাঠে। সাজ্জাদুলের সঙ্গে দুই প্রান্তে ঝড় তোলেন তিনি। ৬৯ রানের জুটি গড়েন তারা। ফলে শেষ সাত ওভারে ৮৭ রান করে দলটি। ফলে মোহামেডানের বিপক্ষে লড়াকু পুঁজিই পেয়ে যায় দলটি।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭০ রানের ইনিংস খেলেন সাজ্জাদুল। ৫৯ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান এ ব্যাটার। ১৯ বলে ৪৬ রানের ক্যামিও খেলে অপরাজিত থাকেন আলাউদ্দিন বাবু। ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। এছাড়া রাজা ৪২ ও রাকিন ৩৯ রান করেন।
মোহামেডানের পক্ষে ৫২ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নেন সৌম্য সরকার। ৪৯ রানের বিনিময়ে ২টি শিকার করেন সালাউদ্দিন শাকিল।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই বড় চাপে পড়ে মোহামেডান। রনি তালুকদার পড়েন নাঈম হাসানের বলে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে। পারভেজ হোসেন ইমনের সঙ্গে ভুল বোঝাবোঝির খেসারৎ দিয়ে ফিরে যান সৌম্য সরকার। রান নিতে গিয়ে দুই দফা থেমেও দৌড় দিয়ে অপর প্রান্তে আর পৌঁছানো হয়নি তার।
পারেননি পাকিস্তানি ক্রিকেটার হাফিজও। জায়গায় দাঁড়িয়ে স্কয়ার কাট করতে গিয়ে সহজ ক্যাচ তুলে দিয়েছেন গ্যালিতে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের নজর কাড়া ব্যাটার আরিফুল হকও রানআউট হন সেই ইমনের সঙ্গে ভুল বোঝাবোঝির খেসারৎ দিয়ে।
হতাশ করেন দলীয় অধিনায়ক শুভাগত হোম চৌধুরীও। সিকান্দার রাজার বল আকাশে তুলে দিয়ে বিদায় নেন তিনি। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন ইমন। কিন্তু আলাউদ্দিন বাবুর দ্বিতীয় স্বীকারে পরিণত হলে কার্যত শেষ হয়ে যায় মোহামেডানের আশা। এরপর কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন সোহরাওয়ার্দী শুভ ও ইয়াসিন আরাফাত মিশু। এ দুই ব্যাটার গড়েন ৪৯ রানের জুটি। তবে তাদের চেষ্টা কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে মাত্র।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন ইমন। ৮৮ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। ৫২ বলে ৫১ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন সোহরাওয়ার্দী। ৪২ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৮ রান করেন মিশুর। শাইপুকুরের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন আলাউদ্দিন, রাজা ও আনিসুল।