ইমামের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়াকে দুঃসময় উপহার দিল পাকিস্তান

স্পোর্টস ডেস্ক

২৪ বছর পর প্রথমবারের মতো পাকিস্তান সফরে গিয়ে টেস্ট খেলতে নামল অস্ট্রেলিয়া। কোনো সন্দেহ নেই যে দিনটি স্মরণীয়। আর বিশাল এই উপলক্ষকে নিজেকে প্রমাণের মঞ্চ হিসেবে বেছে নিলেন ইমাম উল হক। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে তিনি নিলেন টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির অমৃত সমান স্বাদ। তার ব্যাটে চড়ে অস্ট্রেলিয়াকে কঠিন সময় উপহার দিল পাকিস্তান।

শুক্রবার রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের প্রথম দিন শেষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ১ উইকেটে ২৪৫ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। খেলা হয়েছে পুরো ৯০ ওভার। ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে অজিরা পারেনি পাকিস্তানের ব্যাটারদের বিপাকে ফেলতে।

২৭১ বলে ১৩২ রান করে অপরাজিত আছেন ওপেনার ইমাম। তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৫ চার ও ২ ছক্কা। তিনে নামা আজহার আলীর সংগ্রহ ১৬৫ বলে অপরাজিত ৬৪ রান। আরেক ওপেনার আবদুল্লাহ শফিক সাজঘরে ফেরেন ১০৫ বলে ৪৪ রানে। সারা দিনে এই একটিই উইকেট পেয়েছে সফরকারীরা। তাতে অফ স্পিনার নাথান লায়নের কৃতিত্বের চেয়ে শফিকের দায়ই বেশি। অযথা উড়িয়ে মারতে গিয়ে তিনি হন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের তালুবন্দি।

উইকেটে নেই কোনো ঘাস। ব্যাটিংয়ের জন্য একেবারে স্বর্গ। টস জিতে তাই দ্বিতীয়বার ভাবেননি পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম। তিনি বেছে নেন ব্যাটিং। তার সিদ্ধান্তকে যথার্থ প্রমাণ করেন দলটির টপ অর্ডার ব্যাটাররা। উপযুক্ত পরিস্থিতিতে নিজেদের মেলে ধরেন শফিক, ইমাম, আজহাররা।

উদ্বোধনী জুটিতে অনায়াসে খেলে পাকিস্তান আনে ১০৫ রান। তবে মধ্যাহ্ন বিরতির কিছুক্ষণ আগে মনঃসংযোগে ব্যাঘাত ঘটে শফিকের। উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এরপর আজহারের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ১৪০ রানের জুটিতে দিন পার করেন ইমাম। বাঁহাতি এই ব্যাটার প্রায় আড়াই বছর পর সাদা পোশাকে খেলতে নেমে হাঁকান সেঞ্চুরি।

মুখোমুখি হওয়া ২০০ বলে তিন অঙ্কে পৌঁছান ইমাম। বাঁহাতি অজি পেসার মিচেল স্টার্ককে কভার ড্রাইভে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে অধরা মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। মুষ্টিবদ্ধ হাত ছুঁড়ে শূন্যে লাফিয়ে উদযাপন করেন তিনি। তখন পিঠ চাপড়ে তাকে অভিনন্দন জানান আজহার। সাজঘরে থাকা বাবর, মোহাম্মদ রিজওয়ানরাও করতালির মাধ্যমে যোগ দেন ইমামের উল্লাসে।

তিন পেসার আর এক স্পিনার নিয়ে খেলতে নেমেছে অস্ট্রেলিয়া। কামিন্স, স্টার্কের পাশাপাশি একাদশে জায়গা পেয়েছেন চোট কাটিয়ে ফেরা জস হ্যাজেলউড। তবে এই গতি তারকাদের কেউই পাননি উইকেটের দেখা। সব মিলিয়ে আট বোলার ব্যবহার করেন কামিন্স। কিন্তু লায়ন ছাড়া কেউই আনতে পারেননি সাফল্য।