ওয়েস্ট ইন্ডিজে সিরিজ জিতে নতুন মাইলফলক আয়ারল্যান্ডের
এক সময়ের পরাক্রমশালী দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দুই বিশ্বকাপেই দুটি করে শিরোপা তাদের। অন্যদিকে টেস্ট ক্রিকেটের নবীন সদস্য আয়ারল্যান্ড। সে দলটি ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে তাদের বিপক্ষে সিরিজ জিতে ফিরেছে। প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলুড়ে দলের বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজে জয় নিয়ে ফিরে নতুন মাইলফলক গড়ল আইরিশরা।
কিংস্টোনের সাবিনা পার্কে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২ উইকেটে হারিয়েছে আয়ারল্যান্ড। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জিতল দলটি। এদিন প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২১২ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। জবাবে ৩১ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে আইরিশরা।
অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজে এবার হেরেই সিরিজ শুরু করেছিল আয়ারল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে ২৪ রানে জিতে যায় ক্যারিবিয়ানরা। দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় আয়ারল্যান্ড। ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় দলটি। সে ধারায় এবার জিতে নিল সিরিজও। ওয়ানডে তো বটেই, যে কোনো সংস্করণে অ্যাওয়ে ম্যাচে কোনো টেস্ট খেলুড়ে দলের বিপক্ষে এটা তাদের প্রথম সিরিজ জয়।
ঘরের মাঠে এদিন আইরিশদের বড় লক্ষ্য ছুঁড়ে দিতে পারেনি ক্যারিবিয়ানরা। অথচ টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শেই হোপ ও জাস্টিন গ্রিভসের ওপেনিং জুটিতেই তোলে ৭২ রান। এরপর অ্যান্ডি ম্যাকব্রায়ান ও ক্রেইগ ইয়ংয়ের তোপে পড়ে তারা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১১৯ রানে ৭ উইকেট হারায় দলটি।
এরপর অষ্টম উইকেটে আকিল হোসেনকে ৬৩ রানের জুটি গড়েন জেসন হোল্ডার। তাতে কোনোমতে দুইশ পার করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন হোপ। ৩৯ বলে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় এ রান করেন এ উইকেটরক্ষক ব্যাটার। হোল্ডারের ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রান।
আইরিশদের পক্ষে ২৮ রানের খরচায় ৪টি উইকেট পান ম্যাকব্রায়ান। ৪৩ রানের বিনিময়ে ৩টি শিকার ইয়ংয়ের।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই খালি হাতে ফিরে যান উইলিয়াম পটারফিল্ড। তবে দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক পল স্টার্লিংয়ের সঙ্গে ৭২ রানের জুটি গড়েন ম্যাকব্রায়ান। এরপর হ্যারি টেকটরের সঙ্গে ৭৭ রানের আরও একটি জুটি গড়েন এ অলরাউন্ডার। তাতেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় দলটি।
এরপর অবশ্য নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ততোক্ষণে লক্ষ্য ছোট হয়ে যাওয়ায় সমস্যা হয়নি। দলের পক্ষে ৫৯ রান করেন ম্যাকব্রায়ান। ১০০ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় এ রান করেন। টেকটরের ব্যাট থেকে আসে ৫২ রান। ৭৬ বলে ৩টি চারে এ রান করেন তিনি। এছাড়া স্টার্লিংয়ের ব্যাট থেকে সে ৪৪ রানের ইনিংস।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ৪৪ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নেন রোস্টন চেইজ। ৫৯ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট পান আকিল হোসেনও।