কঠিন প্রতিপক্ষকেও এখন আর ‘কঠিন’ লাগছে না বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রথমবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে পাকিস্তানকে হারানোর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের মেয়েদের। সেটা হয়ে যাওয়ায় বেশ ফুরফুরে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। বাকি চার ম্যাচের প্রতিপক্ষ সবগুলোই তুলনামূলক বেশ কঠিন। তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক নিজেদের ভাবনায়, 'প্রতিপক্ষ কঠিন' এই ব্যাপারটাই আনতে চান না।

শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোর চারটায় মাউন্ট মাঙ্গানুইতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবেন  নিগাররা। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে এটাই হবে বাংলাদেশের প্রথম সাক্ষাৎ।

এবার বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচ খেলে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দুই জয় তুলে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অবশ্য হেরেছে বড় ব্যবধানে।

বিশ্বকাপে তিন ম্যাচ খেলে পাকিস্তানকে হারিয়ে একমাত্র জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও তৈরি করেছিল সুযোগ। শারীরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকায় উইন্ডিজের ব্যাটাররা দিতে পারেন কঠিন সময়। সার্বিক দলীয় শক্তিতেও এগিয়ে তারা।

তবে মোমেন্টাম নিজেদের দিকে আসায় প্রতিপক্ষের শক্তি নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ানোর পক্ষে নন নিগার। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে জানালেন এমনটাই,  'প্রথমত আমি মনে করি কোনো প্রতিপক্ষকে কঠিন কিংবা সহজভাবে নিচ্ছি না। প্রতিপক্ষকে প্রতিপক্ষভাবেই নিচ্ছি। যখন প্রতিপক্ষকে নিয়ে নেবো প্রতিপক্ষ আমাদের জন্য কঠিন তখন খেলাটা কিন্তু কঠিন হয়ে যাবে তাই আমরা স্বাভাবিকভাবে আমাদের শক্তি বেশি দেখার চেষ্টা করি যে আমরা কীভাবে তাদের বিপক্ষে খেলবো।'

'আমরা কোন স্ট্রেন্থটা কাজে লাগিয়ে বা কোন গেম প্ল্যানিং ব্যবহার করে তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করবো। তো আমরা ওইভাবেই দেখতেছি। পাশাপাশি পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় আমাদের একটা ভালো মোমেন্টাম তৈরি করে দিয়েছে যেটা আগামী ম্যাচগুলোতে আমাদের ভালো খেলার জন্য আরও বেশি উৎসাহিত করবে।'

হ্যামিল্টনে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ে স্পিনাররাই রেখেছিলেন মুখ্য ভূমিকা। মাউন্ট মাঙ্গানুইতে স্পিনারদের পাশাপাশি পেসাররাও জ্বলে উঠবেন বলে আশা নিগারের,  'আমরা আমাদের স্ট্রেন্থে যাব আমরা আমাদের কম্বিনেশনে যাব। অবশ্যই শেষ ম্যাচ যেটি হয়েছে স্পিনাররা ভালো সহায়তা পেয়েছে হয়তবা। কিন্তু আমি বলব আমাদের পেস বোলিং আক্রমণও কিন্তু মাশাআল্লাহ। প্রথম ম্যাচটাতে অনেক ভালো করেছে। দ্বিতীয় ম্যাচটাতেও ভালো করেছে। ওভারঅল আমি চাই যে ফুল বোলিং ইউনিট যদি স্ট্রংলি কামব্যাক করতে পারি।  এবং স্পিনাররা যে ভালো দিকটা করে এসেছে শেষের ম্যাচটাতে। একইরকমভাবে যদি আমরা এটি অব্যাহত রাখতে পারি তাহলে আমার কাছে মনে হয় যে আমরা একটা ভালো ম্যাচ খেলতে পারব।'

এই ভেন্যুতে আগের ম্যাচে স্পিনারদের বেশ ভালো বল করতে দেখা গেছে। যেটা আবার আশাবাদী করতে পারে বাংলাদেশকে। উইকেট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিতে না পারলেও কিছুটা মন্থরতা দেখতে পাচ্ছেন নিগার,  'আমার কাছে যেটা মনে হয় কম-বেশি সব ভেন্যুর উইকেটই প্রায় এক, অনেক স্পোর্টিং উইকেট পাবো আমরা। গতকাল আমরা একটি প্র্যাকটিস সেশন করেছি সেখানে সাইড উইকেটগুলো দেখে মনে হয়েছে যে হয়তবা একটু স্লো হতে পারে। আমার কাছে মনে হয় যে মেইন উইকেট দেখার মতো (অবস্থানে) এখনো আমরা যেতে পারিনি। হয়তবা আজকে দেখার একটা সুযোগ হবে। দেখার পর আমরা বুঝতে পারব কোন কম্বিনেশনে যাব। কিন্তু এখনও আমার কাছে মনে হয় শেষ কয়েকটা ম্যাচে যেমন দেখেছি অন্যান্য দলের উইকেট খুব ভালো বিহেভ করেছে। রানও হয়েছে আবার লো-স্কোরিং ম্যাচও হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয় ভালো স্পোর্টি উইকেটই পাব।'