কানাডাকে হারিয়ে যুব বিশ্বকাপে প্রথম জয় বাংলাদেশের
দুই পেসার আশিকুর জামান ও রিপন মণ্ডল ভাঙলেন কানাডার টপ অর্ডার। আর ঘূর্ণির মায়াজাল বিছিয়ে মিডল অর্ডার ভাঙলেন মেহেরব হাসান। তাতে লক্ষ্যটা রইল হাতের নাগালেই। বাকি কাজটা সারলেন টপ অর্ডারের ব্যাটাররা। তাতে যুব বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের দেখা পেল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার সেইন্ট কিটসে কানাডা অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে ৮ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৪৪.৩ ওভারে ১৩৬ রানে গুটিয়ে যায় কানাডা। জবাবে ১১৯ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছায় বাংলাদেশ।
এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে রীতিমতো উড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের যুবারা। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে তাই কানাডার সঙ্গে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের। সেমি-ফাইনালে পৌঁছাতে হলে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আরব আমিরাতকে হারাতেই হবে তাদের।
এদিন কানাডার দেওয়া ১৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় দলীয় ২৬ রানে মাহফিজুল ইসলামের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর প্রান্তিক নওরোজ নাবিলকে নিয়ে দলের হাল ধরেন আরেক ওপেনার ইফতেখার হোসেন। গড়েন ৭৬ রানের জুটি। এরপর নাবিল আউট হলে বাকি কাজ আইচ মোল্লাকে নিয়ে শেষ করেন ইফতেখার।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬১ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন ইফতেখার। ৮৯ বলে ৭টি চারের সাহায্যে নিজের ইনিংস সাজান এ ওপেনার। ৫২ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৩৩ রান করেন নাবিল। এছাড়া ২৬ বলে ১টি ছক্কায় ২০ রান করে অপরাজিত থাকেন আইচ মোল্লা।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা কানাডার শুরুটা মন্দ ছিল না। ৩৮ রানের ওপেনিং জুটি গড়েন দুই ওপেনার। তবে এ জুটি ভাঙতেই তাদের চেপে ধরে বাংলাদেশের বোলাররা। এক প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট তুলে নিতে থাকে। তবে অপর প্রান্তটি আগলে রাখেন অনুপ চিমা। কিন্তু সঙ্গীর অভাবে তেমন কোনো জুটি গড়ে তুলতে পারেননি।
অষ্টম উইকেট হিসেবে আউট হওয়ার আগে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৩ রানের ইনিংস খেলেন চিমা। ১১৭ বলের ধৈর্যশীল ইনিংসে ৭টি চার মেরেছেন তিনি। এছাড়া অধিনায়ক মিহির প্যাটেল (১১), মোহিত প্রশার (১২) ও কাইরাব শর্মা (১৪) স্পর্শ করতে পেরেছেন দুই অঙ্ক।
বাংলাদেশের পক্ষে ৮.৩ ওভার বল করে ২৪ রানের খরচায় ৪টি উইকেট পেয়েছেন রিপন। ১০ ওভার বল করে ৩৭ রানের খরচায় ৪টি উইকেট নেন মেহেরবও। এছাড়া ৯ ওভার বল করে ২১ রানের বিনিময়ে ২টি শিকার আশিকুরের।