কৃষ্ণার নৈপুণ্যে মাঝারি পুঁজি নিয়েও সিরিজ জিতল ভারত
সুরিয়াকুমার যাদব করলেন ফিফটি, একাদশে ফেরা কেএল রাহুল ফিরলেন হাফসেঞ্চুরির ঠিক আগে। বাকিরা কেউই পার হতে পারলেন না ত্রিশের কোটা। কিন্তু মাঝারি পুঁজিতে আটকে গেলেও শেষ হাসি থেকে থামানো গেল না ভারতকে। তরুণ পেসার প্রসিধ কৃষ্ণার ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ ঘরে তুলল তারা।
বুধবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৪৪ রানে জিতেছে ভারত। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে পুরো ৫০ ওভার খেলে তারা করে ৯ উইকেটে ২৩৭ রান। জবাবে ম্যাচের কোনো পর্যায়েই সেভাবে লড়াই জমাতে না পারা ক্যারিবিয়ানরা ৪৬ ওভারে গুটিয়ে যায় ১৯৩ রানে।
স্বাগতিকদের পক্ষে কৃষ্ণা আঁটসাঁট বোলিংয়ে ৯ ওভারে মাত্র ১২ রানে দখল করেন ৪ উইকেট। ৬ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ৪ উইকেট পেলেন ২৫ বছর বয়সী এই ডানহাতি। তার আগের সেরা বোলিং ফিগার ছিল অভিষেক ম্যাচে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৪ রানে তিনি পেয়েছিলেন ৪ উইকেট।
ইনিংসের শুরুতেই বিপাকে পড়ে ভারত। অধিনায়ক রোহিত শর্মা, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রথমবারের মতো ওপেনিংয়ে নামা রিশভ পান্ত ও সাবেক দলনেতা বিরাট কোহলি ফেরেন দ্রুত। তাতে দ্বাদশ ওভারে দলীয় মাত্র ৪৩ রানে পতন হয় ৩ উইকেটের। পান্ত ও কোহলিকে একই ওভারে বিদায় করেন নিয়মিত অধিনায়ক কাইরন পোলার্ডের চোটে সুযোগ পাওয়া ওডিন স্মিথ। দুজনের রানও সমান ১৮।
চতুর্থ উইকেটে ১০৬ বলে ৯১ রানের জুটি গড়েন রাহুল ও সুরিয়াকুমার। তাতে চাপ সামলে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে যায় ভারত। কিন্তু তাদের পাশাপাশি পরের ব্যাটাররাও ইনিংস লম্বা করতে না পারায় দলীয় সংগ্রহ বড় হয়নি। দ্রুত রান তুলতে থাকা রাহুল রানআউটে কাটা পড়েন ৪৮ বলে ৪৯ করে। তিনি মারেন ৪ চার ও ২ ছক্কা। ৭০ বলে ফিফটি ছোঁয়া সুরিয়াকুমারের উইকেট নেন আকিল হোসেন। তার ব্যাট থেকে ৫ চারে ৮৩ বলে আসে ৬৪ রান।
এরপর ওয়াশিংটন সুন্দর থিতু হয়ে বিদায় নেন ২৪ করে। শেষ ব্যাটার হিসেবে সাজঘরে ফেরা দীপক হুডার ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান। উইন্ডিজের হয়ে স্মিথ ৭ ওভারে ২ উইকেট নেন ২৯ রান। সমান সংখ্যক উইকেট নিতে আলজারি জোসেফের ১০ ওভারে খরচা ৩৬ রান।
লক্ষ্য তাড়ায় দেখেশুনে শুরু করা প্রতিপক্ষকে আক্রমণে এসেই ধাক্কা দেন কৃষ্ণা। অষ্টম ওভারে ব্র্যান্ডন কিংকে ফিরিয়ে ৩২ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন তিনি। তার পরের ওভারে কুপোকাত হন ড্যারেন ব্রাভো। আরেক ওপেনার শেই হোপকে বিদায় করেন যুজবেন্দ্র চাহাল। অধিনায়ক নিকোলাস পুরান ও জেসন হোল্ডার দ্রুত আউট হলে ৭৬ রানে ৫ উইকেট খুইয়ে ফেলে উইন্ডিজ।
ষষ্ঠ উইকেটে শামার ব্রুকস ও আকিল যোগ করেন ৫৪ বলে ৪১ রান। সপ্তম উইকেটে আকিল ও ফাবিয়ান অ্যালেন আনেন ৪৯ বলে ৪২ রান। কিন্তু কোনো জুটিই ভারতের মাথাব্যথার কারণ হতে পারেনি। নবম উইকেটে জোসেফ ও স্মিথের ৩৪ বল ৩৪ রানের জুটি কেবল হারের ব্যবধানই কমায়।
সফরকারীদের পক্ষে ৬৪ বলে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন ব্রুকস। তিনি সমান ২ চার ও ছক্কা। আকিল ৩ চারে খেলেন ৫২ বলে ৩৪ রানের ইনিংস। এছাড়া, হোপ ৫৪ বলে ২৭ ও স্মিথ ২০ বলে ২৪ রান করেন। ভারতের হয়ে ২ উইকেট নেন শার্দুল ঠাকুর। পাশাপাশি উইকেটের দেখা পান চাহাল, মোহাম্মদ সিরাজ, সুন্দর ও হুডা।