গাজী গ্রুপকে উড়িয়ে শুরু রূপগঞ্জের
এক প্রান্তে আগলে অসাধারণ এক ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির কাছেই যাচ্ছিলেন নাঈম ইসলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৮ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করলেও দলকে এনে দিয়েছেন বড় পুঁজি। তাতে দলের প্রায় সব ব্যাটারদের অবদান ছিল কমবেশি। এরপর বল হাতেও একই চিত্র। কমবেশি সব বোলারই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পেয়েছেন উইকেট। তাতে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে রীতিমতো গুঁড়িয়ে দিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের এবারের আসর শুরু করল রূপগঞ্জ।
মঙ্গলবার সাভারের বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে ১৪৭ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৯১ রান করে তারা। লক্ষ্য তাড়ায় ৩০.৪ ওভারে ১৪৪ রানেই গুটিয়ে যায় গাজী গ্রুপ।
টস হেরে প্রথম ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৩৪ রানে ভাঙে রূপগঞ্জের ওপেনিং জুটি। এরপর মাঠে নামেন নাঈম ইসলাম। তৃতীয় উইকেটে রকিবুল হাসান নয়নকে নিয়ে ৮৩ রানের জুটি গড়েন তিনি। এরপর চারিগ জানিকে নিয়ে ৮৪ রানের আরও একটি দারুণ জুটি গড়েন তিনি। তাতেই বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় দলটি।
ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নামা সাব্বির রহমানও দারুণ সঙ্গ দেন নাঈমকে। ষষ্ঠ উইকেটে গড়েন ৫৯ রানের জুটি। তবে তাতে দারুণ আগ্রাসী ছিলেন সাব্বির। মাত্র ২৫ বলে খেলেন ৮২ রানের ইনিংস। নিজের ইনিংসটি ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজান এ ব্যাটার।
তবে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৯২ রানের ইনিংস খেলে কিছুটা আক্ষেপ নিয়ে মাঠে ছাড়েন নাঈম। ১১৪ বলে ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় এ রান করেন। ৪৪ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪৭ রানের ইনিংস খেলেন জানি। ৫৬ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ৪৬ রান করেন রাকিবুল।
গাজী গ্রুপের পক্ষে ৩৬ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নিয়েছেন কাজী অনিক ইসলাম। ৬৫ রানের বিনিময়ে ২টি উইকেট পান আলমগির হোসেন।
লক্ষ্য তাড়ায় এদিন শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে গাজী গ্রুপ। দলীয় ৪৫ রানেই প্রথম সারীর চার উইকেট হারিয়ে ফেলে দলটি। তবে পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক আকবর আলীকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের কিছুটা চেষ্টা করেন মাহমুদুল হাসান লিমন। ৪৯ রানের জুটি গড়েছিলেন এ দুই ব্যাটার। তবে এ জুটি ভাঙতেই ফের ব্যাটিং ধসে পড়ে গাজী গ্রুপ। স্কোরবোর্ডে আর ৫০ রান যোগ করতে হারায় শেষ ছয়টি উইকেট।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন মাহমুদুল। ৪৪ বলে ৩টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি। ৩৮ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৯ রান করেন আকবর আলী। রূপগঞ্জের হয়ে কমবেশি সব বোলারই উইকেট পেয়েছেন। তবে সঞ্জিত সাহা ও তানবির হায়দার পেয়েছেন ২টি করে উইকেট।