ভারত-শ্রীলঙ্কা টেস্ট সিরিজ ২০২২

গোলাপি বলের ভেল্কিতে প্রথম দিনেই ১৬ উইকেটের পতন

স্পোর্টস ডেস্ক

গোলাপি বলের টেস্ট মানেই যেন ব্যাটারদের আতঙ্ক, দ্রুত গতির রান আর উইকেট পতনের সমারোহ। ভারত-শ্রীলঙ্কার দিবারাত্রি টেস্টের প্রথম দিনে নায়ক বলা যায় কাকে? চরম বিপদে ৯২ রানের ইনিংস খেলা শ্রেয়াস আইয়ার, ভারতকে ধসিয়ে দেওয়া লঙ্কান স্পিন ত্রয়ী নাকি লঙ্কানদের দুঃস্বপ্ন উপহার দেওয়া জাসপ্রিট বুমরাহ আর মোহাম্মদ শামি? নায়ক মূলত বলা যায় বলটাকেই। প্রথম দিনেই যে দুই ইনিংস শেষের যোগাড়!

বেঙ্গালুরুতে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে ভারত ২৫২ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর শ্রীলঙ্কা নেমে ৮৬  রান তুলতেই হারিয়ে বসেছে ৬ উইকেট। এখন বড় প্রশ্ন এই টেস্ট তৃতীয় দিনে যাবে তো?

 টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই মায়াঙ্ক আগারওয়ালকে হারায় ভারত। তিনি অবশ্য হয়েছেন রান আউট। অধিনায়ক রোহিত শর্মা থিতু হওয়ার আভাস দিয়ে লাসিথ এম্বুলদেনিয়ার শিকার হয়ে বিদায় দশম ওভারে।

২৯ রানে ২ উইকেট পড়ার পর বিরাট কোহলি-হনুমা বিহারির প্রতিরোধ। তৃতীয় উইকেট জুটিতে তারা জমে গিয়েছিলেন। আলগা করতে এগিয়ে আসেন প্রভিন জয়াবিক্রমা। ৩১ করা বিহারির বিদায়ে ভাঙে ৪৭ রানের জুটি।

কোহলির ব্যাটে ভরসার ছবিই পাচ্ছিল স্বাগতিকরা। তাকে কেড়ে নেয় ধনঞ্জয়া ডি সিলভার আচমকা নিচু হওয়া এক ডেলিভারি। এরপর রিশভ পান্ত নেমে খেলেছেন টি-টোয়েন্টি। বল যেভাবে ঘুরছিল, উঁচু-নিচু হচ্ছিল তাতে ক্রিজ আঁকড়ে পড়ে থেকে লাভ হতো না বিশেষ। মেরে দ্রুত রান আনার ঠিক পথটাই বাছেন পান্ত। এম্বুলদেনিয়ার বলে বোল্ড হওয়ার আগে করে যান ২৬ বলে ৩৯ রান। ম্যাচের প্রেক্ষিতে যা বেশ মূল্যবান।

আগের ম্যাচের হিরো রবীন্দ্র জাদেজা এদিন ব্যর্থ, রবিচন্দ্রন অশ্বিন ফেরেন থিতু হয়ে। টেল এন্ডারদের নিয়ে বাকি পথে একা রান বাড়ান শ্রেয়াস। পরিস্থিতির দাবি মিটেছে তার ব্যাটে। ৯৮ বলে ৪ ছক্কা, ১০ চারে ওয়ানডে গতিতে ৯২ করে যান শ্রেয়াস। আউটও হয়েছেন বড় শটের চেষ্টায়।

উইকেটের আর বলের ভেল্কিই বলছিল ২৫২ রান বেশ চ্যালেঞ্জেরই। ব্যাট করতে নেমে সেটাই টের পেল লঙ্কানরা। কুশল মেন্ডিস, লাহিরু থিরিমান্নে, দিমুথ করুনারত্নে, ধনঞ্জয়া ডি সিলভারা কাবু পেসে। বুমরাহর বলে মেন্ডিস ক্যাচ দেন স্লিপে। করুনারত্নে শামির বলে খোয়ান স্টাম্প। বুমরাহর শিকার হয়ে থিরিমান্নেও স্লিপে আইয়ারের হাতে জমা পড়েন। ধনঞ্জয়া দুই অঙ্কে গিয়েই বিদায় শামির বলেই। ২৮ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা।

অভিজ্ঞ অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস একপ্রান্তে টিকে ছিলেন। তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি চারিথা আসালাঙ্কা। আক্সার প্যাটেলকে উড়াতে গিয়ে সোজা উঠিয়ে দেন ক্যাচ। ম্যাথিউস এগুচ্ছিলেন ফিফটির দিকে। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরেই তার দৌড় থামান বুমরাহ। ভারত রিভিউ নিলে দিনের শেষভাগে নিরোশান ডিকভেলাকেও হারাতে পারত লঙ্কানরা। তবে তা না হলেও বড়সড় একটা লিডের পথেই আছে রোহিত শর্মার দল। টেল এন্ডারদের নিয়ে ডিকভেলা ভারতের কাজটা কতটা কঠিন করতে পারেন দেখার বিষয়।