জাকিরের প্রথম সেঞ্চুরিতে ম্লান নাঈম শেখের সেঞ্চুরি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

দুঃসময় পেছনে ফেলে দারুণ এক সেঞ্চুরিতে আবাহনী লিমিটেডকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। কিন্তু দিনশেষে তাকে ছাপিয়ে নায়ক আরেক তরুণ জাকির হাসান। দারুণ এক সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনিও। অবশ্য তার সঙ্গে দারুণ ব্যাটিং করেছেন আরেক ওপেনার মিজানুর রহমানও। তাতে শুরুতেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনীকে হারিয়ে দারুণ চমক উপহার দিল নবাগত রূপগঞ্জ টাইগার্স।

মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনীকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে নবাগত রূপগঞ্জ টাইগার্স। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৫৫ রান করেন আবাহনী। জবাবে ৪৮ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছায় প্রথমবার প্রিমিয়ার লিগ খেলতে আসা রূপগঞ্জ।

মাঝারী পুঁজি নিয়ে জিততে হলে আবাহনীর প্রয়োজন ছিল শুরুতে উইকেট তুলে নেওয়া। প্রয়োজন ছিল বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং। কিন্তু তার ছিটেফোঁটাও করতে পারলেন না সাইফউদ্দিন-কামরুল ইসলাম রাব্বিরা। উল্টো নির্বিষ বোলিংয়ের সুযোগ নিয়ে শুরু থেকেও দারুণ ব্যাটিং করেন রূপগঞ্জ টাইগার্সের দুই ওপেনার মিজান ও জাকির। মিজানুর নার্ভাস নাইন্টিজের শিকার হলেও জাকির তুলে নেন লিস্ট 'এ' ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।

সেঞ্চুরি অবশ্য পেতে পারতেন মিজানুর। বেশ সাবলীল ব্যাটিং খেলছিলেন তিনি। কিন্তু কামরুল ইসলাম রাব্বির লেগ স্টাম্পে রাখা বলে অহেতুক স্কুপ করতে গিয়ে লাইন মিস করে বোল্ড হয়ে যান তিনি। তবে দারুণ সব শট খেলে ১৬৬ রানের দারুণ এক জুটি গড়েন জাকিরের সঙ্গে। এরপর আর জয় পেতে বেগ পেতে হয়নি রূপগঞ্জের। ভারতীয় রিক্রুট অপরাজিথ বাবা দ্রুত আউট হলে অধিনায়ক মার্শাল আইয়ুবের সঙ্গে ৪৫ রানের আরও একটি জুটি গড়ে রাব্বির বলে বোল্ড হয়ে যান জাকির।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১১৭ রানের ইনিংস খেলেন জাকির। ১১৬ বলের ইনিংসটি সাজাতে ১৫টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে ফিরতে পারতেন ব্যক্তিগত ৮৪ রানে। মিডউইকেটে সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন আবাহনীর এক ফিল্ডার। ৯৩ রান আসে মিজানুরের ব্যাট থেকে। ৮২ বলে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কায় এ রান করেন এ ওপেনার। মার্শালের ব্যাট থেকে আসে ২৩ রান। আবাহনীর হয়ে ২টি উইকেট নেন রাব্বি।

এর আগে শুরু থেকেই চাপে থাকা আবাহনীকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেওয়ার মূল কৃতিত্বই নাঈমের। এক প্রান্ত আগলে রেখে অসাধারণ ব্যাটিংয়ে তুলে নেন লিস্ট এ ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি। ১১৫ রানের ইনিংস খেলেন এ ওপেনার। ১৩২ বলে ১০টি চার ও ২টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। তার ব্যাটেই লড়াইয়ের পুঁজি পায় আবাহনী। তবে শেষ দিকে ৪৩ বলে ৪০ রানের ইনিংস খেলে কার্যকরী ভূমিকা পালন করেন সাইফউদ্দিনও।

এদিন রূপগঞ্জের পেসারদের তোপে দলীয় ৪৮ রানেই হারিয়ে ফেলে প্রথম সারীর চার উইকেট হারিয়ে বড় চাপে পড়ে আবাহনী। বিপিএলের চমক মুনিম শাহরিয়ার (১), জাকের আলী অনিক (৪), তৌহিদ হৃদয়ের (৭) সঙ্গে ব্যর্থ আফগানিস্তান থেকে উড়িয়ে আনা নজিবুল্লাহ জাদরানও (৩)। তবে অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে নিয়ে দলের হাল ধরেন নাঈম। পঞ্চম উইকেটে ৭৭ রানের জুটি গড়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা চালান এ দুই ব্যাটার। এরপর শামিম হোসেন পাটোয়ারিকে নিয়ে আরও একটি জুটি গড়েন নাঈম। স্কোরবোর্ডে ৫৮ রান যোগ করেন এ দুই ব্যাটার।

রূপগঞ্জের হয়ে ৫১ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নেন মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ। ৪০ রানের বিনিময়ে ২টি উইকেট পান শরিফুল্লাহ। ৪০ রানের বিনিময়ে ২টি উইকেট পান ফরহাদ রেজাও।