জাতীয় লিগে চ্যাম্পিয়ন ঢাকা, দ্বিতীয় স্তরে নেমে গেল খুলনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

২০১৫/১৬ মৌসুম থেকে শুরু হয় দুই স্তরের জাতীয় ক্রিকেট লিগ। এরপর টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন খুলনা বিভাগ। মাঝে এক আসরে শিরোপা শূন্য থাকলেও গত মৌসুমে ফের চ্যাম্পিয়ন হয় দলটি। সেই দলটিই কি-না নেমে গেল দ্বিতীয় স্তরে। তাদের হারিয়েই জাতীয় লিগের এবারের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা বিভাগ।

বুধবার সাভারের বিকেএসপিতে জাতীয় লিগের শেষ রাউন্ডের ম্যাচের শেষ দিনে খুলনা বিভাগকে ১৭৯ রানের ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা বিভাগ। এদিন ঢাকার ছুঁড়ে দেওয়া ৩৭৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১৯৯ রানে অলআউট হয়ে যায় খুলনা। জাতীয় লিগে এটা ঢাকার ষষ্ঠ শিরোপা। সবশেষ ২০১৩-১৪ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা।

চলতি বছরের মার্চে এক লেগের জাতীয় লিগেই শিরোপা জয়ের কাছেই ছিল ঢাকা বিভাগ। দুই রাউন্ড শেষে শীর্ষে থাকলেও দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় স্থগিত হয়ে যায় সে আসর। তবে এবার ঠিকই শিরোপা পুনরুদ্ধার করে ঢাকা। অন্যদিকে আসরটির সর্বোচ্চ সাত বারের চ্যাম্পিয়ন খুলনা দ্বিতীয় স্তরে নামতে হয় রংপুরের বিপক্ষে সিলেটের ম্যাচটি ড্র হওয়ায়।

এবার অবশ্য চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দারুণ সুযোগ ছিল রংপুর বিভাগের। এ রাউন্ডে খেলতে নামার আগে ২৮.৮৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ছিল তারা। আর ঢাকার পয়েন্ট ছিল ২৫.৪। কিন্তু সিলেটের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচটি ড্র হলে পিছিয়ে যায় রংপুর। ঢাকা ড্র করলেও সুযোগ ছিল। কিন্তু ঢাকার জয়ে সব আশাই শেষ হয়ে যায় দলটির। শেষ পর্যন্ত ৩৫.২৯ পয়েন্ট পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা।

শেষ দিকে তাইবুর রহমানের ঘূর্ণিতে পড়ে খুলনা। দারুণ বোলিং করেন শুভাগত হোমও। এ দুই বোলারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় খুলনা। দলীয় ৭২ রানেই ৬ উইকেট হারায় তারা। এরপর নাহিদুল ইসলাম, ইমরানুজ্জামান ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাদের চেষ্টা কেবল হারের ব্যবধানই কমায়। নাহিদুল ৪০ রান করেন। তাইবুর ৫টি ও শুভাগত ৩টি উইকেট পান।

প্রথম স্তরের অপর ম্যাচে রংপুরের বিপক্ষে ড্র করে প্রথম স্তরে টিকে গেছে সিলেট। আগের দিন ৫ উইকেটে ৪৫৫ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামা দলটি শেষ দিনে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে আরও ৮৫ রান যোগ করে। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা রংপুর ৫ উইকেটে ১৬৫ রান তোলার পর ড্র মেনে নেয় দুই দল। নাসির হোসেন ৭৫ রানে অপরাজিত থাকেন। আরিফুল হক করেন ৫৭ রান।

অন্যদিকে ঢাকা মেট্রোর সঙ্গে ড্র করে প্রথম স্তরে জায়গা করে নিয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। আগের দিন ১৮৬ রানে এগিয়ে থাকা দলটি এদিন লিড আরও ১০৯ রান বাড়ায়। সাহাদাত হোসেন দিপু খেলেন ১৫৯ রানের ইনিংস। ৯৫ রান করেন সৈকত আলী। ফলে চতুর্থ ইনিংসে ঢাকা মেট্রোর লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৯৬ রানের। লক্ষ্য তাড়ায় ৪ উইকেটে ৮২ রান করার পর ড্র মেনে নেয় দুই দল।

অপর ম্যাচে জয় পেলে প্রথম স্তরে উঠতে পারতো বরিশাল। কিন্তু রাজশাহীর সঙ্গে ড্র করেছে তারা। ৮৮ রানে পিছিয়ে থেকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে ২৮৬ রান করে বরিশাল। এরপর ড্র মেনে নেয় দল দুটি। আবু সায়েম ৮৭ রান করেন। মোহাম্মদ আশরাফুল ও ফজলে মাহমুদ রাব্বি দুইজনের ব্যাট থেকে আসে ৭১ রান করে।