টার্নিং নয়, এরকম ফ্লাট উইকেটই পছন্দ স্পিনার বরুণের
মন্থর আর টার্নিং উইকেট দেখলেই স্পিনারদের চোখ লকলক করার কথা, কিন্তু বরুণ চক্রবর্তী একদম ভিন্ন ধাঁচের। বরং ফ্লাট উইকেট দেখলেই নেচে উঠে তার মন। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে আবুধাবিতে দারুণ বল করার পর বললেন এমন উইকেটই তার পছন্দ।
সোমবার আবুধাবিতে আগে ব্যাট করে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বোলারদের দাপটে মাত্র ৯২ রানে গুটিয়ে যায় বেঙ্গালুরু। বিরাট কোহলিদের ধসিয়ে দিতে মাত্র ৯ রানে ৩ উইকেট নেন আন্দ্রে রাসেল, ১৩ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন বরুণ।
স্কোর দেখে মনে হতে পারে উইকেট বোধহয় দুরূহ। সেই প্রশ্নের জবাব মিলে কলকাতার ব্যাটিংয়ে। দুই ওপেনারের দাপটে ১০ ওভার আগেই ওই রান টপকে ৯ উইকেটে জিতে যায় কলকাতা। বুঝিয়ে দেয় উইকেটে ছিল না তেমন জুজু।
ম্যাচ শেষে রাসেলের সঙ্গে আলাপচারিতায় সেই বিষয়টাই পরিষ্কার করলেন বরুণ। আবুধাবির মাঠে এর আগেও আছে তার বড় সাফল্য। ২০২০ সালে আইপিএলের আগের আসরে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে এখানে ২০ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন এই রহস্য স্পিনার। রাসেল সেটা মনে করিয়ে দিতেই বললেন কেন পছন্দ করতে শুরু করেছেন আবুধাবির বাইশ গজ, 'আমি জানি না (আবুধাবিতে এত ভাল করার কারণ)। এই গ্রাউন্ডকে অনেক পছন্দ করতে শুরু করেছি। এখানে বল করা মজা কারণ চ্যালেঞ্জ আছে অনেক। এটা অনেক ফ্লাট উইকেট ছিল, আমি ফ্লাট উইকেট পছন্দ করি, আমি টার্নিং উইকেট পছন্দ করি না। ফ্লাট উইকেটে আমি বেশি মানিয়ে নিতে পারি।'
উত্তর শুনে হতবাক রাসেল পরে জিজ্ঞেস করেন, টার্নিং উইকেট পছন্দ করে না এমন স্পিনার হয় নাকি। নিজের মতো করে কারণ ব্যাখ্যা করেন বরুণ, ' জানি না আসলে (কেন টার্নিং উইকেট পছন্দ করেন না)। আমার বোলিংয়ের ধরণে টার্নিং উইকেট খুব একটা মানায় না। যেমন চেন্নাইতে (ভারতের টার্নিং উইকেটগুলোর একটি) মানিয়ে নিতে পারি না কিন্তু ফ্লাট উইকেট খুব মানিয়ে যায়।'
৪ ওভার বল করে ১৩ রানে ৩ উইকেট। এরমধ্যে আছে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মতো ব্যাটসম্যানের উইকেট। তবু ম্যাচে খুব একটা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়নি বরুণকে। তার মতে বেশি উদযাপন ভুলিয়ে দিতে পারে পরের কাজ, 'আমি প্রক্রিয়ার বাইরে যেতে চাই না। কারণ বেশি উদযাপন করলে পরের কাজটা ভুলে যেতে পারি। আমি পরের বলের কথা চিন্তা করি সেজন্য বেশি উদযাপন করি না। কিন্তু পরে উদযাপন করে নেই।'
লেগ স্পিনার হলেও অফ স্পিনও ছাড়েন তিনি। বৈচিত্র্যের কারণে বাকিদের থেকে আলাদা তিনি। বরুণ ছাড়া এদিন আর কোন স্পিনার উইকেট পাননি। দুবাইতে আগের দিনের ম্যাচেও সব উইকেট নিতে দেখা যায় পেসারদের। এদিনও মূল দাপট পেসারদেরই। প্রসিদ কৃষ্ণ, লুকি ফার্গুসেন মিলে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। তাদের ছাপিয়ে একাই ৩ উইকেট নেন রাসেল। সবচেয়ে বড় এবিডি ভিলিয়ার্সের উইকেটও নিয়েছেন তিনি। ক্রিজে এসে প্রথম বলেই রাসেলের ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে ফেরেন ভিলিয়ার্স। বিস্ফোরক এই ব্যাটসম্যানকে এই বলটা পরিকল্পনা করেই করার কথা জানান রাসেল, 'আমি পরিকল্পনা করেই এটা করেছিলাম। এই বলের আগে আমি লেন্থ বল, ব্যাক অফ দ্য লেন্থ বল করছিলাম। আমি জানি এবি খুব বিচক্ষণ ব্যাটসম্যান। আমি তাকে আউটস্মার্ট করে দিতে চেয়েছিলাম, যেটা পেরেছি। সে এটা (ইয়র্কার) আশা করছিল না।'