নাঈম শেখই করলেন প্রিমিয়ার লিগের প্রথম সেঞ্চুরি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সময়টা ভালো যাচ্ছিল না মোহাম্মদ নাঈম শেখের। ব্যাটে বলতে গেলে রান নেই। যাও করছেন তাতে দলের প্রত্যাশা মেটাতে পারছিলেন না কিছুতেই। সবমিলিয়ে তাকে নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছিল ব্যাপক। তবে সমালোচকদের থামিয়ে দিয়ে এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের প্রথম সেঞ্চুরিটা করেছেন তিনিই।

মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নবাগত রূপগঞ্জ টাইগার্সের বিপক্ষে আবাহনী লিমিটেডের হয়ে অসাধারণ এ সেঞ্চুরি করেন নাঈম। ১৩২ বলে ১০টি চার ও ২টি ছক্কায় ১১৫ রানের ইনিংস খেলেন এ ওপেনার।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এটা নাঈমের চতুর্থ সেঞ্চুরি। এর আগে ২০১৮ সালে নিজের প্রথম আসরে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে ৩টি সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। সে বছর ১৬ ম্যাচে করেছিলেন ৮০৭ রান। তবে লিস্ট এ ক্যারিয়ারে এটা তার পঞ্চম সেঞ্চুরি। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ 'এ' দলের হয়ে খেলেছিলেন ১২৬ রানের ইনিংস। 

এদিন গত বিপিএলে চমক দেখানো মুনিম শাহরিয়ারের সঙ্গে আবাহনীর ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন নাঈম। শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে ছিলেন তিনি। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে শফিকুল ইসলামের বলে দারুণ এক কভার ড্রাইভ করে প্রথম বাউন্ডারি মারেন এ ওপেনার। তখন থেকেই সাবলীল ব্যাটিং করতে থাকেন তিনি। সে ওভারে মারেন আরও একটি চার।

তবে কিছুটা দেখে শুনেই খেলতে থাকেন নাঈম। ৭৫ বলে পূর্ণ করে হাফসেঞ্চুরি। ফিফটি করেও খোলসেই ছিলেন নাঈম। পরের ২২ বলে করেন মাত্র ১১ রান। ৩৫তম ওভারে শফিকুল ইসলামের উপর চড়াও হন নাঈম। শেষ তিন বলে টানা তিনটি বাউন্ডারি মারেন এ ওপেনার। পরের ওভারে শরিফুল্লাহকে মারেন প্রথম ছক্কা। ১১৩তম বলে স্পর্শ করেন তিন অঙ্কের কোটা। শরিফুল্লাহর বলে লংঅফে ঠেলে দিয়ে মাতেন সেঞ্চুরির উল্লাসে।

শেষ পর্যন্ত ফরহাদ রেজার বলে আউট হওয়ার আগে খেলেন ১১৫ রানের ইনিংস। তবে নিজেকে কিছুটা দুর্ভাগা বলতেই পারেন তিনি। লংঅন সীমানায় দারুণ এক ক্যাচ ধরেন আরিফুল হক। প্রথমে বল ধরে নিজের নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে সীমানার বাইরে চলে গিয়েছিলেন তিনি। তবে ফ্লিপ করে বল উঠিয়ে নিজেকে সামলে লুফে নেন সে ক্যাচ।

মূলত নাঈমের ব্যাটেই সম্মানজনক স্কোর করতে পারে আবাহনী। ৯ উইকেটে ২৫৫ রান করে তারা। অথচ এদিন শুরু থেকেই এক প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বড় চাপে পড়েছিল দলটি। দলীয় ৪৮ রানেই হারিয়ে ফেলে প্রথম সারীর চার উইকেট। তবে এক প্রান্ত আগলে রাখেন নাঈম। 

অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের কাজে নামেন নাঈম। ৭৭ রানের জুটিতে চাপ সামলে নেন। এরপর অধিনায়কের বিদায়ের পর শামিম হোসেন পাটোয়ারিকে নিয়ে ৫৮ রানের আরও একটি জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন নাঈম।