নেতৃত্বের অভিষেকে কামিন্সের রেকর্ড, বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড
অ্যাশেজের শুরুটা হয়তো এমনই চেয়েছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা! প্রথম বলেই উইকেট তুলে নিলেন মিচেল স্টার্ক। বোলিং আক্রমণের শুরুতে তার সঙ্গী জস হ্যাজেলউড আরও দুই ব্যাটারকে ফেরানোর পর জ্বলে উঠলেন প্যাট কামিন্স। গ্যাবার পেসবান্ধব উইকেটে ৫ উইকেট তিনি নিলেন অধিনায়কত্বের অভিষেকে। তাতে গড়া হলো রেকর্ড। আর দিশেহারা ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস ছুঁতে পারল না দেড়শও।
বুধবার ব্রিসবেনে সিরিজের প্রথম টেস্টে সফরকারী জো রুটের দল গুটিয়ে গেছে ১৪৭ রানে। টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে তারা ৫০.১ ওভারে অলআউট হওয়ার পর বৃষ্টির বাধায় খেলা আর মাঠে গড়াতে পারেনি। আম্পায়াররা বাধ্য হয়ে দিনের খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
ইংলিশদের ব্যাটিং মুড়িয়ে দেওয়া কামিন্স ১৩.১ ওভার বল করেন। এই ডানহাতি পেসার ৫ উইকেট নিতে খরচ করেন মাত্র ৩৮ রান। তাতে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামার প্রথম দিনটা স্মরণীয় হয়ে থাকে তার।
নেতৃত্বের অভিষেকে অজিদের হয়ে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি কামিন্সের আগে ছিল কেবল একজনেরই। সেটা ১২৭ বছর আগের ঘটনা! ১৮৯৪ সালের ডিসেম্বরে অ্যাশেজেই ফাইফার পেয়েছিলেন মিডিয়াম পেসার জর্জ গিফেন। মেলবোর্নে তিনি ৬ উইকেট শিকার করেছিলেন ১৫৫ রানে।
ইংল্যান্ডের মাত্র চার ব্যাটার পৌঁছান দুই অঙ্কে। অলি পোপ ৭৯ বলে ৩৫ রান করেন। উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জস বাটলার খেলেন ৫৮ বলে সর্বোচ্চ ৩৯ রানের ইনিংস। চরম বিপর্যয়ের মাঝে ষষ্ঠ উইকেটে তারা গড়েন ৫২ রানের জুটি। যা কিছু সময়ের জন্য স্বস্তি দিয়েছিল থ্রি লায়ন্সদের। তারা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ফের হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে দলটি।
ম্যাচের প্রথম ডেলিভারি থেকেই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে অস্ট্রেলিয়া। বাঁহাতি পেসার স্টার্কের ইয়র্কারে বাজে ফুটওয়ার্কে স্টাম্প হারান ররি বার্নস। এই আঘাত সামলে না উঠতেই জোড়া ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। পরপর দুই ওভারে হ্যাজেলউড বিদায় করেন ডাভিড মালান ও অধিনায়ক রুটকে। বার্নসের মতো রুটও রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হন।
ক্রিকেট থেকে দূরে থাকা বেন স্টোকস ফেরার ইনিংসে রান পাননি। তাকে সাজঘরে পাঠিয়ে উইকেট উৎসবের মঞ্চে আবির্ভূত হন কামিন্স। ওপেনার হাসিব হামিদ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তার লড়াইয়ের ইতি ঘটে কামিন্সের বলে স্লিপে সহ-অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথের ক্যাচে। তিনি করেন ৭৫ বলে ২৫ রান।
৬০ রানে ৫ উইকেট পড়ার পর পোপ ও বাটলারের ব্যাটে রান আসতে থাকে বেশ ভালো গতিতে। এই জুটিকে অবশ্য অজিদের মাথাব্যথার কারণ হতে দেননি স্টার্ক। বাটলারকে অভিষিক্ত উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারির গ্লাভসবন্দি করান তিনি। সঙ্গী হারানোর পর টপ এজ হয়ে হ্যাজেলউডের দুর্দান্ত ক্যাচে আউট হন পোপ। ক্যামেরন গ্রিন পান প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেটের স্বাদ।
অলি রবিনসন, মার্ক উডের পর ২৪ বলে ২১ রান করা ক্রিস ওকসকে ফিরিয়ে ৫ উইকেট পূর্ণ করেন কামিন্স। এছাড়া, স্টার্ক ৩৫ রানে ও হ্যাজেলউড ৪২ রানে ২টি করে উইকেট নেন। ৯ ওভার হাত ঘুরিয়েও কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দেখা পাননি ৩৯৯ টেস্ট উইকেটে আটকে থাকা অফ স্পিনার নাথান লায়ন।
টানা খেলার ধকল থেকে বাঁচাতে জেমস অ্যান্ডারসনকে এই টেস্টে না খেলানোর কথা আগেই জানিয়েছিল ইংল্যান্ড। স্টুয়ার্ট ব্রডকেও একাদশে না রেখে চমক উপহার দিয়েছে তারা। ব্যাটিং ব্যর্থতার পর দলের পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি দুই পেসারকে ছাড়া তারা কেমন বোলিং করে সেটাই এখন দেখার।