পাকিস্তানকে বিধ্বস্ত করা প্রবাথ শোনালেন তার লড়াইয়ের গল্প

স্পোর্টস ডেস্ক

দুই সিরিজ আগেও জাতীয় দল থেকে বেশ দূরে ছিলেন প্রবাথ জয়াসুরিয়া। নিয়মিত দুই বাঁহাতি স্পিনার লাসিথ এম্বুলদেনিয়া ও প্রবীণ জয়াবিক্রমার চোট, ফর্মহীনতা আচমকাই সুযোগ করে দেয় তাকে। এরপর পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা তিন টেস্টে তিনি করলেন বাজিমাত। ৩ টেস্টেই তিনি নিয়ে ফেলেছেন ২৯ উইকেট!

অভিষেকের পর প্রথম তিন টেস্টে তার চেয়ে বেশি উইকেট আছে (৩১) কেবল ভারতের নরেন্দ্র হিরওয়ানি।

বৃহস্পতিবার পাকিস্তানকে ২৬১ রানে অলআউট করে ২৪৬ রানের বিশাল জয় এনে দেওয়ার পথে ১১৭ রানে ৫ উইকেট নেন প্রবাথ। প্রথম ইনিংসেও তার শিকার ৮০ রানে ৩ উইকেট।

এর আগে প্রথম টেস্টে তিনি দুই ইনিংসে তুলেছিলেন ৯ উইকেট। দুই টেস্টে ১৭ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরাও ৩০ পেরুনো স্পিনার। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অভিষেক টেস্টে নেন ১২ উইকেট।  ৩ টেস্ট পরই তার ক্যারিয়ারে চোখ ধাঁধানো ২০.৩৭ গড়ে ২৯ উইকেট।

৬২টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলার পর ৩০ বছর বয়েসে টেস্টে নামতে পারলেন। সেই নামাটাও সহজ ছিল না। হত-দরিদ্র পরিবার বাস করত রাজধানী কলম্বো থেকে অনেক দূরে। প্রবাথ একাই চালাতেন তার সংগ্রাম, 'এটা খুব সহজ পথ ছিল না। কলম্বো আসা সহজ ছিল না (ক্যান্ডির মাটালে নামক দ্বীপ শহর থেকে)। কারণ আমার পরিবার ওখানে থাকে, আমাকে এখানে আসতে হয়েছে একা। অনেক মানুষ আমাকে সাহায্য করেছে। কোচ দীনেশ ওয়েরেসিংহে সাহায্য করেছেন। সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবের সহায়তা পেয়েছি।'

ম্যাচ শেষে জানালেন প্রবল ইচ্ছা আর কঠোর পরিশ্রম তাকে নিয়ে এসেছে এই মঞ্চে,  'এটা কঠিন ছিল। আমার অর্থনৈতিক সমস্যাও ছিল। আমাকে সব কিছু সমন্বয় করতে হয়েছে। পরিবারকে চাপ দিতে চাইনি। আমার তাড়না ছিল যে আমি টেস্ট খেলব। আমি আমার সবটুকু দিয়ে সেই লক্ষ্যে ছুটেছি এবং সাফল্য পেয়েছি।'

প্রবাথ আলো কেড়েছেন তার দারুণ আর্ম বলে। মোহাম্মদ রিজওয়ানকে যে বলে বোল্ড করেছেন তা ছিল দেখার মতো। হার এড়াতে বাবর আজমের সঙ্গে তখন ক্রিজে থিতু রিজওয়ান। দুজনের জুটিতে এসে গেছে ৭৯ রান। ভীষণ দরকারি সময়ে এসে প্রবাথ দেন তার ম্যাজিক্যাল ডেলিভারি,   'রিজওয়ানকে যে বলে বোল্ড করেছি…আসলে আমি সাধারণত ওয়াইড অফ দ্য ক্রিজ বল করছিলাম। যখন পিচ করল বল সে ভেবেছিল টার্ন করে বেরিয়ে যাবে, কিন্তু সেটা না হয় বল সোজা লাগল স্টাম্পে।'

গলের উইকেটে টার্ন আদায় করেছেন দারুণভাবে। আবার কখনো টার্ন না করিয়ে বোকা বানিয়েছেন ব্যাটারদের। নিজের শক্তির জায়গা এই স্পেশাল আর্ম বল বলে জানান প্রবাথ,  'স্কুল থাকার সময় থেকেই আমি আর্ম বলে উইকেট নিতাম। যেকোনো উইকেটে এই ধরণের বল করে উইকেট পাওয়া যায়। ব্যাটার যখন টার্ন প্রত্যাশা করবে তখন একটা সোজা বল দিয়ে ধোঁকা দিতে হবে। তার আগে ব্যাটারকে দেখাতে হবে কতটা টার্ন হচ্ছে, তখন সে দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে যাবে।'