পাকিস্তানের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসির বর্ষসেরা শাহীন

স্পোর্টস ডেস্ক

বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড় হলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। এরপর বর্ষসেরা ওয়ানডে খেলোয়াড় হন বর্তমান অধিনায়ক বাবর আজম। সে ধারায় এবার আইসিসির বর্ষসেরা ক্রিকেটারও হয়েছেন একজন পাকিস্তানি। ২০২১ সালে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে পাকিস্তানের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি জিতে নিয়েছেন শাহীন শাহ আফ্রিদি।

পাকিস্তানের বাঁহাতি এই পেসার ২০২১ সালে তিন সংস্করণেই আলো কাড়েন। যদিও নিউজিল্যান্ডে বছরের শুরুটা ভালো হয়নি। তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুন ঝরানো বোলিংয়ে নিজেকে ফিরে পান। সে ধারায় জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশ সিরিজেও দুর্দান্ত বোলিং করেন তিনি। সব মিলিয়ে ৩৬ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তাতে ২২.২০ গড়ে পেয়েছেন ৭৮ উইকেট। এরমধ্যে মাত্র নয় টেস্ট খেলেই নেন ৪৭ উইকেট।

দুবাইয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতকে হারানোর স্বাদ গত বছরই পায় পাকিস্তান। আর তার মূল কৃতিত্ব ছিল আফ্রিদিরই। ভারতের দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল ও রোহিত শর্মাকে শুরুতেই বিদায় করে জয়ের ভিতটা গড়ে দিয়েছিলেন আফ্রিদিই। পরে শেষ দিকে বিরাট কোহলিকেও তুলে নিয়েছিলেন তিনি। ৩১ রানের খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা ছিলেন এ পেসারই।

আফ্রিদির সঙ্গে সেরার লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক জো রুট ও কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের মতো মহাতারকারা। ছিলেন স্বদেশী মোহাম্মদ রিজওয়ানও। তবে পিছনে ফেলে তিন সংস্করণে অসাধারণ পারফর্ম করায় আইসিসির বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতলেন এ পাকিস্তানিই।

গত বছর রুট, উইলিয়ামসন ও রিজওয়ানের পারফর্ম্যান্সও ছিল দারুণ। তিন সংস্করণ মিলিয়ে গত বছর মোট ১৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নেমে ৫৮.৩৭ গড়ে ১৮৫৫ রান সংগ্রহ করেন রুট। যদিও তার বেশিরভাগ রানই এসেছে টেস্টে। গত বছরে ৬টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিও রয়েছে তার।

কেন উইলিয়ামসন ২০২১ সালে তিন সংস্করণে মোট ১৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৪৩.৩১ গড়ে সংগ্রহ করেছেন ৬৯৩ রান। সেঞ্চুরি করেন একটি। সবচেয়ে বড় কথা অধিনায়ক হিসেবে নিউজিল্যান্ডকে টেস্টে চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি এনে দেন তিনি। একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলায় দারুণ অবদান ছিল তার।

রিজওয়ান ২০২১ সালে ৪৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৫৬.৩২ গড়ে ১৯১৫ রান সংগ্রহ করেন। সেঞ্চুরি করেন ২টি। একই সঙ্গে উইকেটরক্ষক হিসেবে ৫৬টি শিকার ধরেন এ পাকিস্তানি।