'পেসার' থেকে 'স্পিনার' হয়ে ওয়ার্নের প্রশংসাও পেলেন রবিনসন

স্পোর্টস ডেস্ক

অদ্ভুত এক দৃশ্যের দেখা মিলল অ্যাশেজের দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনের সকালে। প্রথম সেশনের দ্বিতীয় ঘণ্টায় আচমকাই পেসার থেকে স্পিনার বনে গেলেন ইংল্যান্ডের অলি রবিনসন! উইকেট শিকারের মরিয়া চেষ্টায় অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস চলাকালে তিন ওভারের এক স্পেল করলেন তিনি। সাফল্য না মিললেও ভূমিকা বদলানো রবিনসনের কপালে জুটল কিংবদন্তি সাবেক লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্নের প্রশংসা।

রোববার অ্যাডিলেড ওভালে অজিদের ইনিংসের ৩৫তম ওভারে অফ স্পিন করতে দেখা যায় রবিনসনকে। এরপর ৩৭ ও ৩৯তম ওভারেও একই কায়দায় হাত ঘোরান তিনি। তিন ওভারে তিনি খরচ করেন ১১ রান। সবমিলিয়ে রবিনসন করেন ১৫ ওভার। ৫৪ রানে তার শিকার ২ উইকেট। অর্থাৎ তাকে স্পিনার হিসেবে ব্যবহার করার টোটকা কাজে লাগেনি ইংলিশদের। গতি দিয়েই তিনি পরাস্ত করেন অজি অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ও ট্রাভিস হেডকে।

এই টেস্টে বিশেষজ্ঞ কোনো স্পিনার নিয়ে নামেনি সফরকারী ইংল্যান্ড। তাদের একাদশে রয়েছেন রবিনসনসহ পাঁচ পেসার। বাকিরা হলেন জেমস অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রড, বেন স্টোকস ও ক্রিস ওকস। স্কোয়াডে থাকা ডম বেস ও জ্যাক লিচকে রাখা হয়নি একাদশে। তাদের অনুপস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ২০ ওভার স্পিন করেন ইংলিশ অধিনায়ক জো রুট। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে তিনি আগের দিন চোট পাওয়ায়।

ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সময় তলপেটে আঘাত পান রুট। সেকারণে চতুর্থ দিনের শুরুতে ফিল্ডিং করতে নামতে পারেননি তিনি। একাদশে কোনো স্পিনার না থাকায় রুট মাঠে ফেরার আগে রবিনসনই কাঁধে তুলে নেন দায়িত্ব। গোলাপি বলে কিছুটা টার্নও আদায় করে নেন তিনি। রবিনসনের স্পিনারে রূপান্তরিত হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ঘরোয়া ক্রিকেটে আগেও তিনি অফ স্পিন করেছেন। কাউন্টি দল সাসেক্সের হয়ে মোট ২৬ ওভার স্পিন করার অভিজ্ঞতা আছে তার।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা ওয়ার্ন প্রশংসা করেন রবিনসনের প্রচেষ্টার। নিজ দেশের গণমাধ্যম ফক্স ক্রিকেটকে তিনি বলেন, 'সে ঝুলিয়ে (বল ফেলে) বেশ ভালো করেছে, জোরে বল করার চেষ্টা করেনি এবং অল্প কিছু টার্নও আদায় করেছে। সাধারণত অনিয়মিতরা (স্পিনার) জোরে বল ফেলার চেষ্টা করে থাকে। তবে রবিনসন কিছুটা ঝুলিয়ে বল করায় ভালো লেগেছে।'

বিস্ময়কর হলেও অ্যাডিলেড ওভালে কোনো পেসারের অফ স্পিন করার নজির এটাই প্রথম নয়। ২১ বছর আগে এমন অভাবনীয় কাজ করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়াম পেসার কলিন মিলার। দারুণ সফলতাও পেয়েছিলেন তিনি। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধসিয়ে দিয়েছিলেন মিলার।

উল্লেখ্য, ইংলিশরা রয়েছে দিবারাত্রির এই টেস্টে হারের মুখে। ৪৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৮২ রান তুলতে তারা হারিয়ে ফেলেছে ৪ উইকেট। হাতে ৬ উইকেট নিয়ে তাদের চাই আরও ৩৮৬ রান। আগামীকাল পঞ্চম দিনের পুরোটা কাটিয়ে ম্যাচ বাঁচাতে তাদের করে দেখাতে হবে রোমাঞ্চকর কিছু। তবে ব্রিসবেনে প্রথম টেস্ট জিতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অজিরা নিশ্চয়ই ব্যবধান বাড়ানোর এমন সুবর্ণ সুযোগ হারাতে চাইবে না।