বিশ্বরেকর্ড গড়া ইনিংসে পাকিস্তানকে বাঁচালেন বাবর

স্পোর্টস ডেস্ক

খেলোয়াড় হিসেবে করতে পেরেছেন মাত্র সাত জন। অধিনায়ক হিসেবে তো পারেননি কেউই। চতুর্থ ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরি করার এমনই এক বিরল কীর্তির দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন বাবর আজম। একই সঙ্গে লড়াইটা ছিল ম্যাচ বাঁচানোরও। ম্যাচ বাঁচিয়েছেন বটে। তবে ডাবল সেঞ্চুরি পাওয়া হয়নি তার। আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়লেও গড়েছেন একাধিক নতুন একাধিক বিশ্ব রেকর্ড।

বুধবার করাচি টেস্টের শেষ দিনের পরিণতি হয় ড্র। তবে রাওয়ালপিণ্ডি টেস্টের মতো নিষ্প্রাণ ড্র নয়। রোমাঞ্চকর এক ড্র। ৫০৬ রানের অসম্ভব লক্ষ্য সামনে রেখে ৭ উইকেটে ৪৪৩ রান করে পাকিস্তান। তাই বাধ্য হয়েই দুই বাকি থাকতে ড্র মেনে নিতে হয় অজিদের।

অস্ট্রেলিয়ার জয় কেড়ে নেওয়ার মূল কৃতিত্ব পাকিস্তান অধিনায়ক বাবরের। খেলেন ১৯৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। ৪২৫ বলের ধৈর্যশীল ইনিংসে ২১টি চার ও ১টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। তাতে গড়েন নতুন নতুন বিশ্বরেকর্ড।

অধিনায়ক হিসেবে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি এখন বাবরের। এর আগে ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৮৫ রান করেছিলেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল আথার্টন। অজিদের বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ সংগ্রহটাও এখন তার। পেছনে ফেলেন কুমার সাঙ্গাকারাকে। ২০০৭ সালে তাদের বিরুদ্ধে ১৯২ রান করেছিলেন সাঙ্গাকারা।

চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তানিদের হয়ে সবচেয়ে বেশি বল খেলার রেকর্ডও ভেঙেছেন বাবর। ৩৬৯ বল মোকাবেলা করে এতোদিন এ রেকর্ডধারী ছিলেন শোয়েব মালিক। একই সঙ্গে কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটার হিসেবে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও গড়ছেন বাবর। এর আগে ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপরাজিত ১৭১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন সাবেক অধিনায়ক ইউনুস খান।

শুধু ব্যক্তিগত নয়, আবদুল্লাহ শফিকের সঙ্গে জুটিরও একটি নতুন রেকর্ড গড়েছেন বাবর। তৃতীয় উইকেটে এ দুই ব্যাটার খেলেছেন ৫২০ বল। চতুর্থ ইনিংসে এতো বল খেলার রেকর্ড নেই আর কেউরই। ২০০১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের সাবেক অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড় ও দিপ দাস গুপ্তা মোকাবেলা করেছিলেন ৫০০টি বল।

অথচ গত দুই বছর ধরে লাল বলে কোনো সেঞ্চুরির দেখা মিলছিল না বাবরের। এদিন দলের কঠিন সময়ে জ্বলে ওঠেন অধিনায়ক। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪৮ রানে অলআউট হয়ে রীতিমতো রানে চাপা পড়েছিল দলটি। প্রথম ইনিংসে ৫৫৬ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। ১৭২ ওভারে ৫০৬ রানের বিশাল লক্ষ্য পায় পাকিস্তান।

সে লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই দুই উইকেট নেই দলটির। পাকিস্তান তখন হারের শঙ্কায়। সেখান থেকে আবদুল্লাহ শফিককে নিয়ে দলকে টেনে তোলেন বাবর। ২২৮ রানের জুটিতেই ম্যাচ বাঁচানোর আশা দেখান তিনি। আগের দিনই অবশ্য ১৭১ রানের জুটি গড়ে আশাটা জোরালো করেছিলেন তারা। এদিন এ দুই ব্যাটার যোগ করেন আরও ৫৭ রান।

তবে দিন শেষে বাবরের মতো আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন শফিকও। মাত্র ৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেছেন তিনি। অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। আগের দিন তাকে ২০ রানে জীবন দেওয়া স্টিভ স্মিথ এবার আর কোনো ভুল করেননি।

এরপর দ্রুত ফাওয়াদ আলমকে হারালে ফের হারের শঙ্কায় পড়ে যায় পাকিস্তান। এবার মোহাম্মদ রিজওয়ানকে নিয়ে দলের হাল ধরেন বাবর। গড়েন ১২৫ রানের আরও একটি দারুণ জুটি। তখন ডাবল সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন পাক অধিনায়ক। কিন্তু নাথান লায়নের বলে শর্ট লেগে ধরা পড়েন মার্নাস লাবুশেনের হাতে।

বাবরের বিদায়ের পর ম্যাচ জমিয়ে দিয়েছিলেন লায়ন। এরপর ফাহিম আশরাফ ও সাজিদ খানকেও তুলে নিয়েছিলেন তিনি। পাকিস্তানকে তখনও খেলতে হতো ৪২ বল। লেজ বেরিয়ে আসা দলটিকে তখন উদ্ধার করেন রিজওয়ান। এক প্রান্ত আগলে বাকি পথ পারি দেন সহজেই। নিজেও তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।

অবশ্য আগের দিনই দুটি বিরল কীর্তি গড়েছিলেন বাবর আজম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে তিন সংস্করণেই সেঞ্চুরি করা তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে নাম লেখান। আর টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় পাকিস্তানি অধিনায়ক হিসেবেও নজির গড়েন তিনি।