বুমরাহর তোপে দ্বিতীয় দিনেই জয় দেখছে ভারত

২৮টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন আগেই। নামের পাশে শতাধিক উইকেটও আছে। পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তিও ছিল সাতবার। কিন্তু ঘরের মাঠে কোনো ফাইফার ছিল না ভারতীয় পেসার জাসপ্রিত বুমরাহর। অবশেষে সে আক্ষেপ পূরণ হলো সময়ের অন্যতম সেরা এ পেসারের। আর তার বোলিং তোপে রীতিমতো পুড়ে ছারখার শ্রীলঙ্কা। ফলে দ্বিতীয় দিন শেষেই জয় দেখছে ভারত।

মোহালিতে রোববার টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ৪১৯ রানে এগিয়ে আছে ভারত। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ১ উইকেটে ২৮ রান করেছে শ্রীলঙ্কা। এর আগে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১০৯ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। অন্যদিকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ৩০৩ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে ভারত।

ঘরের মাটিতে প্রথমবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার পথটা অবশ্য আগের দিনই করে রেখেছিলেন বুমরাহ। প্রথম দিনেই নেন তিন উইকেট। এদিন তুলে নেন আরও দুটি। লাসিথ এম্বুলদেনিয়া ও নিরোশান ডিকভেলাকে উইকেটরক্ষক রিশাভ পান্তের তালুবন্দি করে ফাইফারের উল্লাসে মাতেন এ পেসার। এটা এখন পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ভারতীয় পেসারদের মধ্যে সেরা পারফরম্যান্স। এর আগে ২০১৫ সালে কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৫৪ রানে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন ইশান্ত শর্মা।

বুমরাহর তোপেই মূলত ভেঙে পড়ে লঙ্কানরা। কোনো মতে একশ পার করতে পারে তারা। ৬ উইকেটে ৮৬ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামা দলটি শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে যোগ করে মাত্র ২৩ রান। শ্রীলঙ্কার এই ১০৯ রান ভারতের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর। ১৯৯০ সালে চণ্ডীগড়ে ৮২ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা।

প্রথম ইনিংসে ১৪৩ রানে এগিয়ে থেকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে ভারত। ছোট ছোট জুটিতে এগিয়ে যেতে থাকে দলটি। ৪২ রানের ওপেনিং জুটি গড়ে আউট হন মায়াঙ্ক আগরওয়াল। এরপর হনুমা বিহারির সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৫৬ রানে জুটি গড়ে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। এরপর অবশ্য ৪১ রানের ব্যবধানে তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফিরেছিল শ্রীলঙ্কা।

তবে পঞ্চম উইকেটে রিশাভ পান্তের সঙ্গে ৪৫ রানের জুটি গড়েন শ্রেয়াস আইয়ার। পান্ত অবশ্য বেশ আগ্রাসী ব্যাটিং করতে থাকেন। খেলেন ৫০ রানের ইনিংস। মাত্র ২৮ বলে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন তিনি। যা ভারতীয়দের মধ্যে টেস্টে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি। এর আগে ১৯৮২ সালে করাচিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩০ বলে অর্ধশতরান করেছিলেন ভারতীয় কিংবদন্তি কপিল দেব।

পান্ত আউট হওয়ার পর ষষ্ঠ উইকেটে রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে ৫৭ রানের এবং সপ্তম উইকেটে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের সঙ্গে ৩১ রানের আরও দুটি জুটি গড়েন শ্রেয়াস। তাতেই বড় লিড পেয়ে যায় ভারত। প্রথম ইনিংসে নার্ভাস নাইন্টিজে আউট হওয়া শ্রেয়াস এদিন খেলেন ৬৭ রানের ইনিংস। ৮৭ বলে ৯টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি।

এছাড়া রোহিত ৪৬ ও বিহারী ৩৫ রান করেন। দুইজনই বল মোকাবেলা করেন ৭৯টি। শ্রীলঙ্কার পক্ষে ৭৮ রানের খরচায় ৪টি উইকেট নেন প্রভিন জয়াবিক্রমে। ৮৭ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট পান লাসিথ এম্বুলদেনিয়া।

৪৪৭ রানের লক্ষ্যে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বুমরাহর তোপে পরে শ্রীলঙ্কা। স্কোরবোর্ডে কোনো রান না যোগ করতেই লাহিরু থিরিমান্নেকে হারায় দলটি। এরপর অবশ্য কুশল মেন্ডিসকে নিয়ে দলের হাল ধরেছেন আরেক ওপেনার অধিনায়ক দিমুথ করুনারাত্নে। অবিচ্ছিন্ন ২৮ রানের জুটি গড়ে অপরাজিত রয়েছেন এ দুই ব্যাটার। মেন্ডিস ১৬ ও করুনারাত্নে ১০ রানে ব্যাটিং করছেন।