ব্যাটিং পরামর্শক হয়ে ফিরছেন সাবেক কোচ জেমি সিডন্স
অনেক দিন থেকেই গুঞ্জন চলছিল, সাবেক কোচ জেমি সিডন্স ফিরছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে। শেষ পর্যন্ত সে গুঞ্জনই সত্যি হয়েছে। ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে যোগ দিতে যাচ্ছেন এই অস্ট্রেলিয়ান। তবে তিনি কোন পর্যায়ে কাজ করবেন তা এখনও নিশ্চিত হয়নি। শুক্রবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালকদের সভা শেষে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানিয়েছেন সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না বাংলাদেশ। এজন্য অধিকাংশ সময়ই কাঠগড়ায় থাকেন ব্যাটাররা। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ব্যাটার অ্যাশওয়েল প্রিন্সকে ব্যাটিং পরামর্শক বানিয়ে কার্যত কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। তার সঙ্গে বোর্ডের চুক্তি রয়েছে আগামী বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত। এবার জাতীয় দলের সাবেক কোচ সিডন্সের দিকেও হাত বাড়িয়েছে বিসিবি। তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহদের পরিণত করার পেছনে যথেষ্ট অবদান ছিল তার।
নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ না জানালেও আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে কাজে লেগে পড়তে দেখা যেতে পারে সিডন্সকে। সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল জানান, 'আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন, জেমি সিডন্সকে আমরা ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছি। কোথায় করবে, কী করবে সেটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আমরা আশা করছি যে সবকিছু ঠিক থাকলে হয়তোবা ফেব্রুয়ারিতে সে আমাদের এখানে ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে যোগ দিবে।'
সিডন্স ঠিক কোন পর্যায়ে কাজ করবেন তা এখন ঠিক করেনি বিসিবি। বাংলাদেশ জাতীয় দল, হাই-পারফরম্যান্স (এইচপি) কিংবা বয়সভিত্তিক পর্যায়ে যে কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন তিনি। বোর্ড প্রধান বলেন, '(সিডন্স কোন কোন পর্যায়ে কাজ করবে) এটা আমরা ঠিক করব। আমরা যদি বলি এইচপি, তাহলে এইচপি; আমরা যদি বলি অনূর্ধ্ব-১৯, তাহলে অনূর্ধ্ব-১৯; আমরা যদি বলি জাতীয় দল, তাহলে জাতীয় দল; আমরা যদি বলি বাংলা টাইগার্স বা আমরা যদি ১৫-১৬টা ছেলেকে বেছে নিয়ে ওর কাছে দেই (তাহলে সেটাই)।'
এখনও কেন সিডন্সের দায়িত্ব তারা ঠিক করতে পারেননি সেটার ব্যাখ্যাও দেন নাজমুল, 'সমস্যাটা কী হচ্ছে বলি... এই সমস্যাটা অনেক পুরনো। আমরা খেলাগুলো শুরু করেছি, খেলা শুরু করার পর দলের সঙ্গে (নিউজিল্যান্ডে) আছেন (প্রিন্স)। দলের সঙ্গে যখন কোনো একটা সিরিজে থাকে, তখন তো আসলে কোচিংয়ের কোনো সুযোগ থাকে না। (ক্রিকেটারদের) যারা ওখানে চলে গেছে... এখন যারা বাংলাদেশে রয়ে গেছে, ওদের কোচিং করানোর কোনো লোক নেই। এই যে একটা বিরাট শূন্যতা, আমরা এই শূন্যতাকে দূর করতে চাচ্ছি।'
৫৭ বছর বয়সী সিডন্সের বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবে যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালের অক্টোবরে। ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর তিনি পদত্যাগ করেন। মূলত ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে ব্যর্থতার কারণেই বিদায় নিতে হয় তাকে। চূড়ান্ত সফলতা না পেলেও বাংলাদেশের ব্যাটারদের উন্নতিতে তার অবদান অনস্বীকার্য। তাই ব্যাটিং দুর্বলতা কাটাতে আরও একবার সিডন্সের শরণাপন্ন হয়েছে বিসিবি।