মাহমুদউল্লাহর ডেলিভারিটি বৈধ ছিল: সাবের চৌধুরী

ক্রীড়া প্রতিবেদক

পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে শেষ বলের রোমাঞ্চে হেরে হতাশায় পুড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। এর আগে মাহমুদউল্লাহর একটি ডেলিভারি নিয়ে তৈরি হয় চরম নাটকীয়তা। বল পিচে পড়ার পর না খেলে আচমকা সরে দাঁড়িয়ে বিতর্কের জন্ম দেন মোহাম্মদ নাওয়াজ। এতে প্রশ্ন ওঠে, বাংলাদেশের অধিনায়কের ডেলিভারিটি বৈধ ছিল নাকি অবৈধ ছিল? মাহমুদউল্লাহ ডেড বল মেনে নিলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী মনে করছেন, ডেলিভারিটি ছিল বৈধ।

সোমবার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টির শেষ ওভারের খেলা চলছিল তখন। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ৩ উইকেট ও ১ ছক্কার ঘটনাবহুল প্রথম ৫ বলের পর ম্যাচের ভাগ্য দুলছিল দুই দিকেই। শেষ বলে পাকিস্তানের দরকার দাঁড়ায় ২ রান। তখন উত্তেজনার পারদ আরও ফুলেফেঁপে ওঠে নাওয়াজের কারণে। বল পিচে পড়ার পর শট না খেলে ছেড়ে দেন তিনি। বল সোজা গিয়ে আঘাত করে স্ট্যাম্পে। তখন আম্পায়ার তানবীর হায়দার ডেড বল ঘোষণা করলে কারণ জানতে চান মাহমুদউল্লাহ। ব্যাখ্যা শুনে সন্তুষ্ট হয়ে ফের বোলিংয়ে যান তিনি।

এরপর একবার বোলিংয়ের ভঙ্গি করেও বল ডেলিভারি করেননি মাহমুদউল্লাহ। শেষ পর্যন্ত তিনি যখন ডেলিভারিটি করেন, তখন এক্সট্রা কাভার দিয়ে চার মেরে সমীকরণ মিলিয়ে ফেলেন নাওয়াজ। তাতে ঘরের মাটিতে হোয়াইটওয়াশড হওয়ার তিক্ত স্বাদ নিতে হয় বাংলাদেশকে।

বিসিবির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য সাবের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে মাহমুদউল্লাহর স্পোর্টসম্যানশিপের প্রশংসার পাশাপাশি জানিয়েছেন, ম্যাচ হারলেও বাংলাদেশ দলের নৈতিক বিজয় হয়েছে, 'মাহমুদউল্লাহ সম্পূর্ণরূপে বৈধ একটি ডেলিভারি করেছেন এবং অবিশ্বাস্য উদারতা দেখিয়েছেন, যা স্পোর্টসম্যানশিপেরও অনেক ঊর্ধ্বে। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেননি তিনি। এটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তান সবগুলো ম্যাচে জিতলেও শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের নৈতিক জয় হয়েছে।'

dead ball mahmudullah
বল গিয়ে পিচড হচ্ছে, তখনো প্রস্তুত মোহাম্মদ নাওয়াজ। ছবি: টিভি থেকে

উল্লেখ্য, সাধারণত বল ডেলিভারির আগে সমস্যা হলে আপত্তি জানিয়ে না খেলতে পারেন কোনো ব্যাটার। বোলার তখন বল ছুঁড়লেও ব্যাটারের পরিস্থিতি আমলে নিয়ে আম্পায়ার ডেড বল দিতে পারেন। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ ডেলিভারিটি করার পর বল পিচেও পড়ে গিয়েছিল। তখন প্রস্তুত অবস্থা থেকে নাওয়াজের হঠাৎ অপ্রস্তুত হওয়ার মতো ঘটনা ক্রিকেটে একদমই বিরল।