ম্যাককয়ের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ভারতকে হারাল উইন্ডিজ
প্রথম ম্যাচে অনায়াসেই জিতেছিল ভারত। তবে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেই প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়ল দলটি। আর তার সবটাই সম্ভব হয়েছে বাঁহাতি পেসার ওবেড ম্যাককয়ের বিধ্বংসী বোলিংয়ে। ভারতের লক্ষ্য সাধ্যের মধ্যে আটকে রাখতে সমর্থ হন তিনি। এরপর ব্রান্ডন কিংয়ের দায়িত্বশীল ব্যাটিং। তাতেই দারুণ জয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সোমবার সেইন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সমতায় ফিরল ক্যারিবিয়ানরা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৯.৪ ওভারে ১৩৮ রানে গুটিয়ে যায় ভারত। জবাবে ৪ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছায় স্বাগতিকরা।
এদিন টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠান ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক নিকোলাস পুরান। অধিনায়কের আস্থার প্রমাণ শুরু থেকেই দেন বোলাররা। ইনিংসের প্রথম বলেই ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে ফিরিয়ে বড় ধাক্কা দেন ম্যাককয়। এরপর ক্যারিবিয়ান বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা। ৬১ রানেই হারিয়ে ফেলে ৪ উইকেট।
এরপর রবীন্দ্র জাদেজা ও হার্দিক পান্ডিয়া কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন। পঞ্চম উইকেটে ৪ রানের জুটি গড়েছিলেন এ দুই ব্যাটার। পান্ডিয়াকে ফিরিয়ে এ জুটি ভাঙেন জেসন হোল্ডার। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ভারত। ম্যাককয়ের তোপে পড়ে শেষ ছয় উইকেট হারায় মাত্র ৩৪ রানে। ফলে সাদামাটা স্কোর নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় সফরকারীদের।
ভারতের পক্ষে এদিন সর্বোচ্চ ৩১ রানের ইনিংস খেলেন পান্ডিয়া। ২৭ রান করেন জাদেজা। এছাড়া ২৪ রান করেন পান্ত। উইন্ডিজের পক্ষে বল হাতে নতুন রেকর্ডই গড়েছেন ম্যাককয়। নিজ দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সেরা বোলিং করেন তিনি। ১৭ রানে তুলে নেন ৬টি উইকেট। এর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে কিমো পল নিয়েছেন ১৫ রানে ৫ উইকেট।
ভারতের বিপক্ষেও এটা কোনো বোলারের সেরা বোলিং ফিগার। এর আগে কলম্বোয় ওয়ানেন্দু হাসারাঙ্গার নেওয়া ৯ রানে ৪ উইকেটই ছিল তাদের বিপক্ষে সেরা। একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে ষষ্ঠ বোলার হিসেবে ছয় উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন ম্যাককয়। সেরা বোলিং ফিগারটি অবশ্য বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের দিপক চাহারের। ২০১৯ সালে ৭ রানে ৬টি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
ছোট লক্ষ্যে কিংয়ের ব্যাটে শুরুটা ভালোই করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কাইল মেয়ার্সের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে ৪৬ রান করেন তিনি। সেখানে মেয়ার্সের অবদান মাত্র ৮ রান। এরপর অধিনায়ক পুরান, সিমরান হেটমায়ার ও ডেভন থমাসের সঙ্গে ছোট ছোট তিনটি জুটি গড়ে দলীয় ১০৭ রানে বিদায় নেন কিং। এরপর বাকি কাজটা রভমান পাওয়েল ও ওডেয়ান স্মিথকে নিয়ে শেষ করেন থমাস।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন কিং। ৫২ বলে ৮টি চার ও ২টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান তিনি। থমাসের ব্যাট থেকে আসে হার না মানা ৩১ রানের ইনিংস। ১৯ বলে ১টি চার ও ২টি ছক্কায় এ রান করেন তিনি। শেষ ওভারে যখন ১০ রানের প্রয়োজন ছিল তখন টানা দুটি ছক্কা ও চার মেরে ম্যাচ শেষ করে দেন তিনি।