যখন পাকিস্তানের বিপক্ষে নামি সত্যিই খুব ক্ষুধার্ত থাকি: ফাহিমা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

১৯৯৯ সালে ছেলেদের ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপে বড় জয় এসেছিল পাকিস্তানকে হারিয়ে। যদিও স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে তার আগেই এসেছিল প্রথম জয়। মেয়েদের ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রথম জয়ই এলো পাকিস্তানের বিপক্ষে। ম্যাচ জয়ের কারিগর ফাহিমা খাতুন বলছেন, দলটির বিপক্ষে খেলতে নামলে আলাদা একটা তাড়না কাজ করে তাদের।

সোমবার হ্যামিল্টনে পাকিস্তানকে ৯ রানে হারিয়ে ধরা দেয় বিশ্বকাপে মেয়েদের প্রথম জয়ের স্বাদ। তাতে বল হাতে বড় অবদান রেখে ম্যাচ সেরা হন লেগ স্পিনার ফাহিমা।

বাংলাদেশের ২৩৪ রান তাড়া করতে গিয়ে ২২৫ রান করতে পারে পাকিস্তানিরা। ৩৮ রানে ৩ শিকার ধরে সেরা হন ফাহিমা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই ক্রিকেটার জানান, আলাদা একটা খিদে নিয়ে নেমেছিলেন তারা,   'একটা জিনিস আমি প্রথমে শেয়ার করি। যখন আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে খেলি, তখন আমরা সত্যিই রোমাঞ্চিত ও জেতার জন্য সত্যিই খুব ক্ষুধার্ত থাকি। আজ আলোচনা করেছিলাম আমাদের স্বাভাবিক খেলা যাতে খেলতে পারি।  যখন আগে ব্যাট করছিলাম, আমরা আলোচনা করছিলাম ২৫০ রানের বেশি করতে পারলে আমাদের জন্য সহজ হয়ে যাবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে (২৫০ রান) তা করতে না পারলেও আমাদের বোলিং খুব ভাল হয়েছে। ঠিক জায়গায় বল করে সাফল্য পেয়েছি।'

মেয়েদের ক্রিকেটে নিয়মিতই পাকিস্তানকে হারানোর নজির আছে বাংলাদেশের। দলটির বিপক্ষে জিম্বাবুয়েতে সর্বশেষ দেখাতেও জিতেছিল বাংলাদেশ। ফাহিমা আবার মনে করিয়ে দিলেন এই দলের বিপক্ষে আলাদা তাড়না থাকে গোটা দলের,  'আগেও বলেছি পাকিস্তানের সঙ্গে শুধু আমি না, আমাদের দলের মেয়েরা খেলার জন্য, এবং জেতার জন্য কি বলে একটা ক্ষুধা থাকে।' 

বাংলাদেশের বোলিং সব সময়ই জুতসই, ব্যাটিং নিয়ে থাকে যত সমস্যা। এবার বিশ্বকাপে দুই বিভাগ থেকে অবদান আসায় সাফল্য পাওয়া সহজ হয়েছে মনে করেন ফাহিমা। এদিন আগে ব্যাটিং পেয়ে ফারজানা হক পিংকির ৭১, নিগার সুলতানা জ্যোতির ৪৬ ও শারমিন আক্তার সুপ্তার ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রান।

বোলিংয়ে ফাহিমার পাশাপাশি ঝলক দেখান রুমানা আহমেদ। রান আটকে দেওয়ার কাজ করেন সালমা খাতুন, নাহিদা আক্তাররা। ফিল্ডিংয়ে কিছু ভুল ত্রুটি হলেও পরে যা সমস্যার কারণ হয়নি,  'আমরা বলতাম যে বোলাররাই সব সময় জেতায়, ব্যাটাররাও ওইভাবে করতে পারতেছে না। এবার বিশ্বকাপে ব্যাটাররা যেভাবে অবদান রাখছে, বোলাররা অনেক বেশি সাপোর্ট দিচ্ছে। আজ আমাদের একটাই লক্ষ্য ছিল গত যে দুইটা ম্যাচ খেলেছি, অনেক ভাল খেলেছি। এই খেলাটাই আমরা স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলব। যে পরিকল্পনা আমাদের কোচিং স্টাফরা দিয়েছে, সেটা কেবল আমরা ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি। এবং আমরা সেটা করতে পেরেছি।'

দল যখন চাপে তখন বল হাতে পেয়েছিলেন ফাহিমা। টানা তিন উইকেট নিয়ে তিনিই বদলে দেন ম্যাচের মোমেন্টাম।  ফাহিমা জানান পাকিস্তানিদের রানের চাকা আটকে রাখাতেই সাফল্য পেয়েছেন তিনি,

'আমার সাধারণ যে পরিকল্পনা ছিল ঠিক জায়গায় বল ফেলব। জাস্ট ডট বল নিব, উইকেট আসবে। রানের চাপ থাকলে ওরাই আমাদের উইকেট দিবে। কারণ অলমোস্ট ৬.৫ বা ৭ আস্কিং রেট ছিল। ঠিক জায়গায় বল ফেলে সফল হয়েছিল।'